পড়ছি রহস্যপত্রিকাফোরামে আমরা সবাই কম-বেশি বিভিন্ন গরু-গম্ভীর টাইপের পোস্ট দিয়ে নিজেদের পান্ডিত্য জাহির করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সময় আমরা নিশ্চয়ই কম বোকামিও করি না? চলুন না, এই টপিকে আমরা সবাই নিজেদের বিভিন্ন বোকামির ঘটনাগুলো তুলে ধরি।
আমিই শুরু করি :
গত পরশুদিনের ঘটনা। বাসে করে ত্রিপলী যাচ্ছিলাম। সিরত থেকে ত্রিপলীর বাস ভাড়া সোয়া ছয় দিনার। কন্ডাকটর ভাড়া চাইতেই দশ দিনারের একটা নোট বের করে দিলাম। সে বেচারার কাছে তখন সম্ভবত ভাঙ্গতি ছিল না। তাই সে টিকেটের উল্টাপিঠে খসখস করে 3.75 লিখে দিল এবং বলল ত্রিপলী বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টারে এটা দেখালেই টাকাটা ফেরত পাওয়া যাবে। এরকম প্রায়ই ঘটে তাই আমি খুব একটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে টিকেটটা পকেটে রেখে আরাম করে নাক ডেকে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলাম।
বাসে আমার পাশে জালো থেকে ফেরত এক বাংলাদেশী ভদ্রলোক বসেছিলেন। তার সাথে গল্প করতে করতে ছয় ঘন্টার জার্নিটা কখন যে কেটে গেল টেরই পাইনি। ত্রিপলী বাসস্ট্যান্ডে যখন নামলাম, তখনও তার সাথে কথা বলায় এতই ব্যস্ত ছিলাম যে, কাউন্টারে টিকেট দেখিয়ে টাকা ফেরত নেওয়ার কথা মনেই ছিল না। আমার পরের দিনই ফিরে আসার কথা ছিল, তাই টাকাটা তখনই ফেরত না নিয়ে পরের দিনও হয়তো ফেরত নেওয়া যেত, কিন্তু আমার বোকামির দন্ডস্বরূপ সেটা আর হলো না। কারণ বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হয়ে হাটতে গিয়ে আমার কাছে এত বেশি গরম লাগছিল যে, বুক পকেটে আইডি কার্ড, টিস্যু পেপার, টাকা, সাইন পেন এত সবের সাথে বাড়তি একটা টিকেটের বোঝা অতিরিক্ত মনে হচ্ছিল, যদিও সেটা ছিল মাত্র পাতার। কাজেই আমি টিকেটটা আমার পকেট থেকে বের করে ছিড়ে ত্রিপলীর জাহারার জনবহুল রাস্তায় বিসর্জন দিলাম
। আমার গোটা 3.75 দিনার মাটিতে গেল ...
আপনারা যদি ভেবে থাকেন এটাই আমার বোকামির সর্বোত্কৃষ্ট উদাহরণ, তাহলে ভুল করবেন। এটা তো কিছুই না, এর চেয়ে আমার আরো অনেক বড় বড় বোকামির উদাহরণ আছে। তবে এটাই যেহেতু সর্বসাম্প্রতিক তাই এটার কথাই লিখলাম। তাছাড়া প্রথমেই সব বোকামি প্রকাশ করে দিয়ে মান-ইজ্জত ডুবাতে চাইনা। আগে আপনারাও আপনাদের কিছু বোকামির উদাহরণ দিন, এরপর আমি আমার বাকিগুলো দিব। আপনাদের নিজেদের বোকামির ভান্ডারে অথবা প্রেস্টিজে টান পড়লে বন্ধু-বান্ধবের বোকামিও উল্লেখ করতে পারেন ...
অফলাইন
নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???বোকার মত আমারাও কি আমাদের বোকামি কথা প্রকাশ করবো???
অফলাইন
পড়ছি রহস্যপত্রিকাকরে ফেলুন। সমস্যা নেই। এক পরিবারের মধ্যে সবাই সবার বোকামি জানলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না।
অফলাইন
আমার মানি ব্যাগ হারানো গেছে। 


মেহেদী আকরাম লিখেছেন:
বোকার মত আমারাও কি আমাদের বোকামি কথা প্রকাশ করবো???
![]()
![]()
![]()




অফলাইন
ধ্রুবক অন্ধকার, দৈব রাজপথে আমার চিহ্ন, আমি নৈশ ঈশ্বর যেন আরেক ধ্রুবতার জন্ম.আমরা কিছু মনে করব না...আমাদের মন বিশাল ...বলে পেলুন....যে সবচেয়ে বোকামী করছে তাকে একটা পুরষ্কার দেওয়া হবে.....

অফলাইন
ভবঘুরে জীবন বেশি ভালো ভাবছি তাই সন্যাসী হবোনা ভাই বোকামির কথা বলে আর নতুন করে বোকা সাজবো না
অফলাইন
পড়ছি রহস্যপত্রিকাসবাই দেখি ভীতুং ডিম্বঃ। সামান্য কিছু মজার বোকামি প্রকাশ করতেও সাহস পাচ্ছে না। এত ভয় পেলে ছোটকালের বোকামির কথা বলুন। তাতে মনে হয় প্রেস্টিজ অত বেশি পাংচার হবে না।
অফলাইন
আমার এযাবত কালের সবচাইতে বড় বোকামী: http://forum.projanmo.com/viewtopic.php?id=6072 

অফলাইন
পড়ছি রহস্যপত্রিকাজুয়েল ভাইয়ের ঘটনাটা পড়লাম। ঘটনাটা দুঃখজনক, তবে সাধু ভাষায় লেখার কারণে পড়তে মজা লেগেছে।
অফলাইন
ভাই আমার জীবনের যত ঘটনা (দুর্ঘটনা) সবই একটা জিনিস নিয়া


টয়লেট

আজকে সবচেয়ে নিরাপদ এবং বর্ননাযোগ্যটাই বলি



ইন্টার ফাস্ট ইয়ারেপরি...গরমগরম ভাব
। ক্লাস সকাল ৯টায়, কোচিং ৭.৩০এ । বাসে করে যেতে হয় কারন আমি পড়তাম গাজীপুর , থাকতাম টঙ্গী । একবার সকালে যেয়ে দেখি স্যার আসেন নাই পড়াতে । কি আর করা, হাটাহাটি করছি । এমন সময় আমাকে ডাকলো, প্রকৃতি!!! আমি কোন সাড়া দিলাম না । বেচারা ডেকেই যাচ্ছে, আমিও নাছোর বান্দা, কারন তখনো কলেজ এর মেইন গেট খুলে নাই । অবশেষে এমন ধাক্কাধাক্কি শুরু করলো যে না শুনে পারলাম না
। দিলাম দৌড়. যেয়ে দেখি সত্যি সত্যি গেট বন্ধ, আল্লাহ আল্লাহ করছি
, আল্লাহ মনে হয় আমার কথা শুনেই দাড়োয়ানকে ২০মি আগেই পাঠালেন । মামা তো আমাকে চেনে, তাই কিছুই বললোনা ।
দৌড়ে গেলাম ২তলায় । যেয়ে দেখি ৩ টা টয়লেটের মধ্যে ১টা তালা মারা, ১ টার দড়জা নাই আর একটার দড়জা ভাংগা, আংটা নাই 

। হায় কপাল করতে করতে আংটা ছারাটায় ঢুকে দেখি বদনা নাই , আশে পাশে খুজেও পেলাম না । এদিকে প্রকৃতি বাবাজি তার সর্বশক্তি দিয়ে ডাকাডাকি করছে । নিচে নেমে পাশের টং দোকান থেকে কিনলাম একটা ১ লিটার পেপসি । কিনেই ঢকঢক করে ফেলে দিলাম(খালি করলাম), দোকানী তো অবাক, বললো, মামা কি হইসে, নষ্ট নাকি?? আমি কিছু না বলে দৌড়ে চলে এলাম 
। এসে ঠিক করলাম টয়লেটে বসে ঠেস দিয়ে দড়জা ধরে রাখবো । কিন্তু কি মনে করে কল ছেরে দেখি পানি নাই । হায় খোদা.. আমি তো আর পারি না । কোন মতে লোকাল বাসের মত নিচে নামলাম
। দেখি এক দাড়োয়ান মামা ঘড় মোছার পানি নিচ্ছে, আমি কোন কথা না বলে পেপসির বোতলটা ভরে হাটা দিলাম । মামা জিঞ্জাস কিছু জিঞ্জেস করেছিলো কি-করে নাই তাও মনে নাই ।অত:পর আমি আমার কর্ম সম্পাদন করিলাম । সহি সালামতে ক্লাস করতে পেরেছিলাম 

।
আমার কপালটা এমনই যে এমন বা এরচেয়ে ডেঞ্জারাস ঘটনায় আমাকে অনেকবার পড়তে হয়েছে
। (কারো রুচিবোধে আঘাত দিয়ে থাকলে দু:খিত)

অফলাইন







অফলাইন
পড়ছি রহস্যপত্রিকাযাক। অন্তত একজনকে পাওয়া গেল যে আমার মতো দুঃসাহসী। ধন্যবাদ উড়ালপঙ্খী ভাই। তবে আপনার এটা ঠিক বোকামি না, দুর্ভাগ্য।
অফলাইন
ধ্রুবক অন্ধকার, দৈব রাজপথে আমার চিহ্ন, আমি নৈশ ঈশ্বর যেন আরেক ধ্রুবতার জন্ম.উড়ালপঙ্খি ও ত্বোহা ভাই বোকামিতে A+ এবং জুয়েল ভাই A- নিয়ে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে.......আরো যারা উন্নতমানের বোকামি করছে তারা তাদের কথা খোলা মন নিয়ে লিখতে পারেন..আমরা অপেক্ষায় থাকলাম...........

অফলাইন
পড়ছি রহস্যপত্রিকাআজ আরেকটা বোকামি করলাম। ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে লো কোয়ালিটির কম সাউন্ডের একটা গান শুনছিলাম। সেই ফেলুদার ইন্দ্রজাল রহস্য গল্পটা পড়ছিলাম। গান শুনতে শুনতে কখন যে ইয়ারফোনটা লুজ হয়ে গেছিল সেটা টের পাইনি। হঠাত খেয়াল হল কি ব্যাপার সাউন্ড এতো কম আসছে কেন? ভাবলাম মনে হয় কানেকশন লুজ। তারটা গুতাগুতি করে দেখলাম লাভ হল না। তারপর মনে হল হয়তো কখন ভুলে সাউন্ড প্রপার্টিজে গিয়ে সাউন্ড কমিয়ে রেখেছি। সেখানে গিয়ে দেখি কই সাউন্ড তো ফুল। সি মিডিয়ার কনফিগারেশনও দেখি ঠিক আছে। ব্যাপার কি? শেষে খেয়াল হল আরে ইয়ারফোনটা তো কান থেকেই দূরে সরে গেছে, সাউন্ড বাড়বে কি করে???
অফলাইন






অফলাইন