অফিসেখুব বড় বড় করে শিরোনাম করা হয়, বোল্ড অক্ষরে। বিশেষ বিশেষ বিশেষণে বিশেষায়িতও করা হয়। কিন্তু এ সবের উপলক্ষ মাত্র এ’কটা দিনই। অল্পদিনের অতিথির মতই বিচরণ করে তাদের ছবি সম্বলিত সাফল্যের শ্রেষ্ঠত্ব। কোন তারকা বা সুপারষ্টার হবার জন্য নয়, পত্রিকাওয়ালা বা মিডিয়াদের কল্যানেই হয়ে যায় তারা সিজেনাল স্টার।
আমি তাদের কথাই বলছি, যাদের খুব সাধারণ ঘরে বাস, খুবই সাধারণ- হয়ত এ আধুনিক আলো সজ্জিত সভ্যতায় অনেকটা অনভ্যস্তও তারা। পরিচয়ে তারা শিক্ষার্থী- কিন্তু আদতে সব সাধারণ শিক্ষার্থীর মত যে তারা নয়, জীবন সংগ্রামের যুদ্ধে যাদেরকে প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, সে বাস্তবতাকেই সংঙ্গী করেই তাদের পথ চলা, এ চলাতেই যোগ হয় শিক্ষা জীবন, তাতে তারা হেরে যায়না, জিতে, জয়ের মত করে জয়। যে জয়েরই কথা প্রকাশ করা হয় পাতায় পাতায়।
ওরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে ওদের সে সংগ্রামের কথাই না হয় জানুন :- কুপিতে তেলের অভাবে পড়াশোনা করতে হয়েছে দিনের আলোয় তাও সব কাজ শেষে, ফরম পূরনের টাকা আনতে হয়েছে সুদে, রিকশাও পর্যন্ত চালাতে হয়েছে কাউকে, বন্ধুর বই ধার করে করতে হয়েছে পড়াশোনা, টিউশনি, গ্যারেজে হাড় ভাঙা খাটুনি - সংসার চালানোর ভার যখন এদের মাথায় চলে আসে এ বয়সে তখন কি তাদের শুধুই শিক্ষার্থী-ই বলবেন ? না সংগ্রামী শিক্ষার্থী ?
স¤প্রতি বললে ভুল হবে, প্রচলনটা শুরু হয়েছে বেশ অনেক আগেই, দেশের প্রথম পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের পর থেকেই পত্রিকার পাতা আর মিডিয়ার স্ক্রীনে চলে আসে এসব শিক্ষার্থীদের নাম আর ছবি। দেখানো হয় তাদের কৃত সাফল্য। এ সাফল্য পেতে যে এই শিক্ষার্থীকে কতটা কষ্ট, শ্রম দিতে হয়েছে সেসবের পিছনের অজানা কাহিনীর মর্মস্পর্শী লেখা বা ভিডিও চিত্র। তা হয়ত পড়ে বা দেখে আমরা কেউ আবেগকে মূল্য দেই আবার কেউ তুচ্ছ এ আবেগকে অগ্রাহ্যও করি।
খেয়াল করার মত বিষয়, শহরের বাবা-মায়েরা যেভাবে উৎকন্ঠা থাকেন তাদেন সন্তানদের সু-শিক্ষা নিয়ে সেখানে ওদের বাবা-মা এ বিষয়ে কতটুকুই বা সচেতন। স্কুল-কোচিং-এ পড়ছে ছেলে বা মেয়ে আর বাহিরে অপেক্ষা করছে তাদের মা-বাবা। পরীক্ষার হলগুলোতে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা না যতটা দু:শ্চিন্তায় আছে কেন্দ্রের বাহিরে অপেক্ষমান বাবা-মা’এর দু:শ্চিন্তাই যেন বেশী। ক্লাস - কোচিং- প্রাইভেট কতই না আয়োজন। সেখানে অবেহেলিত এ শিক্ষার্থীর কতজনই বা এসব সুযোগের বিন্দুমাত্র পেয়ে থাকে ?
দেশের যে এই মেধা সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তাদের অনেকেই হয়ত এত ভাল রেজাল্ট করার পরও অর্থাভাবে পরবর্তী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হারাবে, পড়াশোনা সুযোগ হতে বঞ্চিত হবে। এতে কাদের ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়টি কি আমরা একবার উপলব্ধি করতে পারি ? খবরের কাগজে শুধু শিরোনামই হয়, ছবি ছাপা হয়, এই এতটুকুই, এই এতটুকুনই কি আমাদের সব দায়িত্ব শেষ ? হয়তব না আবার হয়তবা তাই।
সমাজের অর্থবান বা বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা যদি তাদের শিক্ষা সাহায্যে এগিয়ে আসে তাহলে এদের মত শিক্ষার্থীদের জীবন আলোকিত হতে পারে, সমাজ - জাতি পেতে পারে যোগ্য জনসম্পদ। শুধু সময়ের উপলব্ধিতেই নয় বরং এদের কৃতিত্বকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন একটি নিরবিচ্ছিন্ন সামগ্রিক প্রয়াস, যেখানে অংশগ্রহণ থাকবে আমি, আপনি এবং আমাদের এই সমাজ মানুষই।
ওদের মেধা আর ওদের শ্রমকে শ্রদ্ধা জানাই। যার সমন্বয়ে ওদের জীবন গড়া। জীবন যুদ্ধে ওদের জয় অব্যাহত থাকুক সে কামনাই করি।
.
.
.
.
কেউ যদি আকষ্মিক প্রশ্ন করে বসেন, এই পোষ্ট লেখার আগে এ পোষ্ট লেখক কতজন এরকম শিক্ষার্থীর সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন ? উত্তরটা খুব সাধাসিধে:- “আমার ভাই সে সাধ্য ছিলনা কিন্তু সাধ ছিল, এর চেয়ে বেশী কি বলতে পারি। এখানে না হয় নিজের কথা না-ই বা বললাম।”
অফলাইন
ওরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে ওদের সে সংগ্রামের কথাই না হয় জানুন :- কুপিতে তেলের অভাবে পড়াশোনা করতে হয়েছে দিনের আলোয় তাও সব কাজ শেষে, ফরম পূরনের টাকা আনতে হয়েছে সুদে, রিকশাও পর্যন্ত চালাতে হয়েছে কাউকে, বন্ধুর বই ধার করে করতে হয়েছে পড়াশোনা, টিউশনি, গ্যারেজে হাড় ভাঙা খাটুনি - সংসার চালানোর ভার যখন এদের মাথায় চলে আসে এ বয়সে তখন কি তাদের শুধুই শিক্ষার্থী-ই বলবেন ? না সংগ্রামী শিক্ষার্থী ?
যাকে আমি কলেজে পেয়েছি আমার প্রিয় বন্ধু হিসেবে, সেই ছিল এরকম সংগ্রামী শিক্ষার্থী যা দিয়েছে এই টপিকের বাস্তব প্রমান। ছোট কালে বাবাকে হারিয়ে এখনও সংগ্রাম করে যাচ্ছে বাস্তবতার সাথে কখন হাত পাতেনি কারো কাছে। এখনও সে পড়াশুনার জন্য চাকুরী এবং টিউসনি করে যাচ্ছে অথচ সবার আগে। আমার সাধ্য মত উপকার করে যাচ্ছি। ধন্যবাদ ভাই টপিকটির জন্য ।
.
...
...
...বাস্তব বরই কঠিন
সন্মান করি সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের যারা শত বাধায় পিছু হটেনা।
অফলাইন