মুঠোফোনে সুডোকু খেলছিইসরায়েলের সাংবাদিক নির্যাতন
দুই সপ্তাহ আগে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য মোহাম্মদ ওমর নামে এক তরুণকে পুরস্কৃত করা হয়। আমিই সেই পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দিই। পুরস্কারটি মার্কিন যুদ্ধকালীন সাংবাদিক মার্থা গেলহর্নের স্নরণে দেওয়া হয়। তাঁরাই এ পুরস্কার পান, যাঁরা কায়েমি শক্তির প্রচারণার ভেতরের কথা ফাঁস করে দেন। মোহাম্মদ পুরস্কারে পাওয়া পাঁচ হাজার পাউন্ড ভাগাভাগি করে নেন আরেক সাংবাদিক দাহর জামিলের সঙ্গে। ২৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ ছিলেন পুরস্কৃতদের কনিষ্ঠতম। তাঁর কথা থেকে উদ্ধৃত করছি: ‘প্রতিদিন এক যুদ্ধাঞ্চল থেকে আমাকে খবর পাঠাতে হয়। তার মধ্যে আমিও এক বন্দী। আমার মাতুভুমি গাজা ঘেরাও হয়ে থাকে, ক্ষুধার্ত হয়ে থাকে, আক্রান্ত হয়ে থাকে, কিন্তু কেউ খেয়াল করে না।’ মোহাম্মদ তাঁর আট ভাইদের মধ্যে সবার বড়। এবং সেই ভাইদের বেশির ভাগকেই তিনি মরে যেতে বা পঙ্গু হতে দেখেছেন চোখের সামনে। এক ইসরায়েলি বুলডোজার তাঁদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। তখন তাঁদের গোটা পরিবার ছিল ঘরের ভেতরে। মা গুরুতর আহত হন। তার পরও বলছেন এক সাবেক ডাচ্ রাষ্ট্রদুত, ‘তার পরও মোহাম্মদের স্বর নমনীয়। ঘৃণার বদলে তিনি ফিলিস্তিনি তরুণদের জানান ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তির পথ রচনা করতে।’
এমন মোহাম্মদকে গাজার বন্দিশালা থেকে বের করে লন্ডনে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে হাজির করা ছিল বিরাট এক কুটনৈতিক কর্মযজ্ঞ। গাজার সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলের দৃষ্টি এগিয়ে মাছিও ঢুকতে পারে না। এ রকম অবস্থায় ডাচ্ দুতাবাসের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁকে বাইরে আসতে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে গাজায় ফেরার পথে জর্ডান সীমান্তে তাঁর সঙ্গে আবার সেই ডাচ্ কুটনীতিকের দেখা হওয়ার কথা। তিনি বুঝতে পারেননি যে ইতিমধ্যে ইসরায়েলের কুখ্যাত নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের অস্ত্রধারীরা তাঁকে আটক করে রেখেছে। শিন বেতের লোকেরা মোহাম্মদকে বলে তাঁর মোবাইলের ব্যাটারি খুলে রাখতে। তিনি তখন জানতে চান, তাঁর জন্য বাইরে অপেক্ষারত ডাচ্ কুটনীতিককে তিনি ফোন করতে পারেন কি না। তারা তাঁকে না করে দেয়। একজন তাঁর লাগেজের ওপর উঠে দাঁড়ায়। তাঁর কাগজপত্র সব বের করে জিজ্ঞাসা করে, ‘টাকাগুলো কোথায়?’ মোহাম্মদ তাঁর কাছে থাকা কিছু মার্কিন ডলার বের করে দেন। ‘না না, ব্রিটিশ পাউন্ডগুলো কোথায়?’ তারা বলে।
পরের কাহিনী মোহাম্মদের জবানিতেই শোনা যাক, ‘‘আমি বুঝতে পারলাম, ওরা মার্থা গেলহর্ন পুরস্কার হিসেবে পাওয়া বৃত্তির টাকাগুলোই চাইছে। আমি বললাম, ‘ওগুলো তো আমার সঙ্গে নেই।’ তারা বলল, ‘তুমি মিথ্যা বলছ।’ ততক্ষণে আটজন সশস্ত্র লোক আমাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছে। তারা আমাকে আমার প্যান্ট খুলতে বলল, যদিও এর আগেই এক্স-রে মেশিনের ভেতর দিয়ে আমাকে তল্লাশি করা হয়েছে। আমি অন্তর্বাস ছাড়া সব কিছু খুলে ফেললাম। আমাকে বলা হলো, সম্পুর্ণ নগ্ন হতে। আমি রাজি হলাম না। এর মধ্যে অ্যাভি নামে একজন আমার দিকে তার অস্ত্র তাক করলে আমি কেঁদে ফেললাম: ‘তোমরা কেন আমার সঙ্গে এমন করছ? আমিও তো মানুষ।’ লোকটি তখন বলল, ‘তোমাকে যা করব, তার কিছুই এখনো তোমার সঙ্গে করা হয়নি।’ সে তার অস্ত্র আমার মাথায় ঠেসে ধরল এবং পাশ থেকে তার গায়ের সমস্ত ওজন দিয়ে আমাকে চেপে ধরল। তারপর জোর করে আমার অন্তর্বাস খুলে ফেলল। এ অবস্থায় আমাকে বাধ্য করা হলো সংয়ের মতো করে নাচতে। আরেকজন, যে আমার এ অবস্থা দেখে হাসছিল, বলে, ‘তুমি কেন সুগন্ধি নিয়ে যাচ্ছ?’ আমি জানালাম, ‘আমার প্রিয় মানুষগুলোর জন্য ওগুলো ভালোবাসার উপহার।’ সে বলে, ‘ও আচ্ছা! তোমাদের সংস্কৃতিতে ভালোবাসা নামে কিছু আছে নাকি?’
তারা এভাবে আমার সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই করছিল। লন্ডনে আমার পাঠকেরা যা বলে আমাকে প্রশংসা করেছিল, সেসব কথা নিয়ে তারা উপহাস করছিল, ভেংচি কাটছিল। আমাকে এ অবস্থায় ১২ ঘণ্টা এক জায়গায় কোনো খাদ্য, পানি, টয়লেট ছাড়া দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। আমার পা অসাড় হয়ে গেল, আমি বমি করলাম। আমার আর কিছু মনে কেউ। এটুকু স্নরণ আছে যে একজন তার নখ দিয়ে আমার চোখের নিচের কোমল মাংসের মধ্যে খামচাচ্ছিল, নখ ঢুকিয়ে দিচ্ছিল। সে আমার মাথা মাটিতে ঠেসে ধরল। তারপর আমার মাথা ও কানের পাতার মধ্যে যেখানে শ্রবণ-স্মায়ু রয়েছে, সেখানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো করে চাপ দিতে থাকে। একটু পরে সে তার দুটো আঙ্গুলই তার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। সেই ব্যথা অসহ্য। অন্য একজন আমার ঘাড়ের ওপর তার বুট দিয়ে চেপে শক্ত মেঝের সঙ্গে পিষতে থাকে। এ রকম চলতে থাকে ঘণ্টাখানেক ধরে। আর সেই এক ঘণ্টা সেই ঘরটি হয়ে ওঠে ব্যথা, চিৎকার আর সন্ত্রাসের বদ্ধপুরী।’’
একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। কিন্তু ইসরায়েলি সেনাদের দায়মুক্তি দিয়ে স্বাক্ষর করা না পর্যন্ত তারা আমাকে ছাড়ে না। কিন্তু ফিলিস্তিনি চিকিৎসক সাহসিকতার সঙ্গে এভাবে আমাকে নিতে রাজি হন না এবং বলেন যে তিনি সেই ডাচ্ দুতাবাসের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এবার ইসরায়েলিরা হুঁশিয়ার হয়ে যায় এবং অ্যাম্বুলেন্সটাকে যেতে দেয়। এ ঘটনার ব্যাখ্যায় ইসরায়েলিরা যা বলে, তা অতিপরিচিত এবং বিপুলভাবে প্রচারিত।বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের সেই ভাষ্য প্রচার করে। তাতে বলা হয়, তারা মোহাম্মদ ওমরকে ‘জালিয়াত ও চোরাচালানি’ বলে সন্দেহ করেছিল এবং তাঁকে ‘কোমলভাবে’ জেরা করার সময় তিনি ‘ভারসাম্য’ হারিয়ে ফেলেন।
ইসরায়েলের মানবাধিকার কর্মীরা শিন বেতের হাতে নিয়মিতভাবে প্রহূত, নির্যাতিত সাংবাদিকদের তালিকা নথিবদ্ধ করেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইসরায়েলি নির্যাতনের বিষয় নিয়ে বিরাট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক হত্যায় ইসরায়েলিদের জুড়ি নেই। এমনকি বিবিসির অ্যালান জনস্টনও তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি।
ডাচ্ সরকার জানিয়েছে, মোহাম্মদ ওমরের ঘটনায় তারা স্তম্ভিত। সাবেক ডাচ্ রাষ্ট্রদুত ইয়ান ওয়াইজেনবার্গ বলেছেন, ‘এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘমেয়াদি কর্মসুচি হিসেবে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনকে ধ্বংস করে যাচ্ছে...আমি ভীত যে যেকোনো সময় হয়তো শুনব, মোহাম্মদ ওমর ইসরায়েলি গুপ্তঘাতকের গুলিতে অথবা বোমার আঘাতে মারা গেছেন।’
গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুদিত
জন পিলজার: পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক।
সুত্রঃ প্রথম আলো
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্পাইডারম্যান (০৫-০৭-২০০৮ ০৯:০৭)
অফলাইন
গার্ডিয়ানের মূল সংবাদের লিংক দিতে পারলে আরোও ভাল হত।
প্রথম আলোতে কত তারিখে কোন পাতায় প্রকাশিত হয়েছে?
অফলাইন
C শিখতে হবে। সবার সাহায্যে লাগবেইসরায়েলের সাংবাদিক নির্যাতন হবে এটতো স্বাভাবিক কারণ এই সাংবাদিকরাইতো এদের আসল কাহিনী ফাঁস করে দিচ্ছে।
তবে আমি পৃথিবীতে এই একটাই জাতি দেখলাম পরোপুরি সিস্টেমেটিক।
স্পাইডারম্যান লিখেছেন:
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের সেই ভাষ্য প্রচার করে। তাতে বলা হয়, তারা মোহাম্মদ ওমরকে ‘জালিয়াত ও চোরাচালানি’ বলে সন্দেহ করেছিল এবং তাঁকে ‘কোমলভাবে’ জেরা করার সময় তিনি ‘ভারসাম্য’ হারিয়ে ফেলেন।
কি বলে





অফলাইন
মুঠোফোনে সুডোকু খেলছিশামীম লিখেছেন:
প্রথম আলোতে কত তারিখে কোন পাতায় প্রকাশিত হয়েছে?
আজকের পত্রিকায় সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে।
অফলাইন
ফিন্যান্স ব্লগ লোমহর্ষক ঘটনা এই সভ্য পৃথিবীতে এমন অসভ্য ঘটনা মেনে নেওয়া যায়না। আমরা তো আর এর বিচার করতে পারবো না আসুন সবাই অত্যাচারী ইসরায়েল কে ঘৃণা করি
অফলাইন
ঘৃণা ঘৃণা ঘৃণা
অফলাইন