শুভ্রতার প্রতীক কাশ ফুল; সাদা ধবধবে; আর বর্ষার কদম ফুলে এমন মন মাতানো মাদকতা থাকে বর্ষায় আমি একান্ত ভাবে তোমায় পেতে চলে যেতে চাই পৃথিবীর অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রানী কক্সবাজারের কোন মোটেলে যেখানে গিয়ে আমি সমুদ্রের দিকে মুখ করে জানালা রয়েছে এমন রুম বুক করে দুজনে মিশে যেতে চাই প্রকৃতির অপরূপ রূপের সঙ্গে; আমাদের জেলাতে অনেকেই হয়তো আমাদের সুখ দেখে গা জ্বালা করবে বলে বাঁকা চোখে দেখবে, তাই আমি তোমারে নিয়ে রচিতে চাই একটি স্বপ্নিল কুটির যেই খানে তুমি বিনা রইবে না অন্য কাহারও দীর্ঘশ্বাস। সেই যে নীড়ে পাখী ফিরে যায় সন্ধ্যার আগমনে; তেমনি করে আমি অপেক্ষার রজনীগুলো পার করছি তোমার হিয়ার মাঝে বিলীন হওয়ার জন্য। যদি মোবাইলে বাংলা ইমেইল করা যেতো তাহলে খুব সুখ করে তোমাকে হৃদয়ের কথা বলে পাগল বানাতাম আর আমি নিজেও সুখ পেতাম;
সেই স্বর্গসুখ রচনা করবার মানসে আমি প্রতিটি মুহুর্ত তোমার কথা ও তোমার নেশায় রয়েছি মত্ত যা তুমি না দেখলেও বিধাতা ঠিকই দেখছেন; দোয়া করো যেনো আমাদের দুজনের পানে কারো নজর না পড়ে, যেনো করুনাময় আমাদের দুটি হৃদয়কে সার্থক জুটিতে রূপান্তরিত করেন এই দুআই করবে মিষ্টি ললনা আমার।
আমি সমুদ্রের পানে চেয়ে আমার হৃদয়টাকে তার মতন বিশাল করার প্রচেষ্টা চালাবো- যদি জ্যোস্না রাতের দ্যাখা মেলে তাহলে ঐ আলোতে সমুদ্র তার রূপটাকে কিভাবে সাজায় তা অবলোকন করার নিমিত্তে দুজন হাঁটতে হাঁটতে চলে যাবো বালুকাবেলায়; শুনেছি আজকাল সেখানকার পরিবেশকে কালিমা বা দুর্গন্ধময় করে তুলেছে কিছু বখাটেরা – সরকার ক্যানো যে এই যায়গাটাকে (পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রবিচ আমাদের) নিরাপত্তাহীন স্পট করে রাখলো বুঝি না।
সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেছি যে দেখেছি অনেক কপোত-কপোতীকে পানির মাঝে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিও করতে, পানি নিয়ে জলকেলি করতে, তা ধেই তা ধেই করে বিচের বালুকাবেলায় দৌঁড়িয়ে দৌঁড়িয়ে মনের আনন্দে লাফালাফি করে অসম্ভব ভালো লাগা সময় কাটাতে; সেই দৃশ্য দেখে আমিও ফিরে যাই ‘৮৫র রঙীন দিনগুলোতে যখন আমি রজনীকে নিয়ে ঝাউ গাছের ডালে চড়ে চড়ে হানিমুন করতে, ছবি তুলতে এবং অকল্পনীয় স্বর্গীয় আনন্দে বিভোর হয়েছিলাম।
প্রকৃতির রূপ দেখতে হলে আমাকে ফিরে যেতে হবে বাংলার বুকে; এই মরুভুমিতে বৃষ্টির দ্যাখা পাইনা প্রায় বছর হতে চললো; কদমের ঘ্রান এখানে কোত্থেকে পাবো বলুন! শুধু পত্রিকায় ছবি দেখে নিজেকে আনন্দে নাচিয়ে তুলি; আমার বাংলার রূপ অবলোকন করলে মন আমার ভাবুক হতে বাধ্য করে ; সেই ভাবের জগৎ থেকে আমি বাস্তবে ফিরে আসি যখন দেখে আমার অনেক কাজ জমে গেছে (কর্মস্থলে) ভাবনার ফসল লেখনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার কারণে!
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রজনীবধুয়া (০১-০৭-২০০৮ ২২:২১)
অনলাইন