ওহমের সূত্র: ইলেক্ট্রনিক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, V = I × R । যেখানে R হল কোন রোধকের রোধের মান, V হল রোধকের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য, I হল রোধকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট। যে কোন দুইটির মান জানা থাকলে তৃতীয়টির মান বের করা যায়।
রোধক নিয়ে কথা বার্তা মোটামুটি শেষ। এখন একটু অন্য কথায় আসি। সিরিজ সংযোগ আর সমান্তরাল সংযোগের ধারণা আগেই পেয়েছেন। তার সাথে আর একটু যোগ করছি।
সিরিজ সংযোগে প্রবাহিত কারেন্টের মান পরিবর্তিত হয় না। নিচের চিত্র ভিত্তি করে বলি তাহলে পরিষ্কার হবে। এখানে R3 ও R4 সিরিজ আকারে সংযুক্ত; এদের মধ্যে দিয়ে একই পরিমাণ কারেন্ট I প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সমান্তরাল সংযোগে যুক্ত R1(এর মধ্যে প্রবাহিত কারেন্ট I1) ও R2 (এর মধ্যে প্রবাহিত কারেন্ট I2) এর ক্ষেত্রে I = I1 + I2 অর্থাৎ মূল কারেন্ট I দুইটি পথে বিভক্ত হয়ে যাবে।
ভোল্টেজের ক্ষেত্রে এর বিপরীত। R3 এর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V1 এবং R4 এর V2। উৎসের বিভব V । সিরিজ সংযোগের জন্য, V = V1 + V2। আর সমান্তরাল R1 ও R2 এর বিভবের কোন পরিবর্তন হবে না, এদের দুইপ্রান্তের বিভব হবে V।
বুঝাতে পারলাম তো
গত কিছুদিন একটু ব্যস্ত ছিলাম, তাই লিখতে পারিনি। আরেকটু নিয়মিত লেখার চেষ্টা করব।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মহাকাল (১৮-০৬-২০০৮ ২১:১৩)
অফলাইন
টিনটিন পড়ছি ... বাংলা অনুবাদফাটাফাটি টপিক +++
চালিয়ে যান। আরও নতুন নতুন বিজ্ঞান এবং গণিত বিষয়ক টপিক খুলুন।
আশা করছি সবাই এটাকে আরো সমৃদ্ধ করবে এবং আগামী সেমিস্টারে আমি এখান থেকে ফায়দা লুটব ... 
অফলাইন
ক্যাপাসিটর (ধারক) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে, এ.সি (AC) ও ডি.সি. (DC) কারেন্ট এবং ভোল্টেজ নিয়ে কিছু কথা বলে নেই।
ডি.সি.(DC): DC মানে Direct Current। যে ভোল্টেজ বা কারেন্ট এর মান সব সময় স্থির থাকে এবং কোন একটি মাত্র নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয় (সময়ের সাথে এর দিক পরিবর্তীত হয় না), সে ভোল্টেজ বা কারেন্টকে ডিসি ভোল্টেজ বা ডিসি কারেন্ট বলে। ডিসি ভোল্টেজ বা কারেন্টের উৎস হল: ব্যাটারী, সৌরকোষ ইত্যাদি। ডিসি ভোল্টেজ উৎস ডিসি কারেন্ট উৎপন্ন করে।
গ্রাফে :
এ.সি (AC): AC মানে Alternating Current। অর্থাৎ যে ভোল্টেজ বা কারেন্টের মান ও দিক সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তীত হয় তাকে এ.সি. কারেন্ট বা ভোল্টেজ বলে। এরকম উৎস হল: জেনারেটর । এ.সি ভোল্টেজ উৎস এ.সি কারেন্ট উৎপন্ন করে।
গ্রাফে:![]()
এখানে দেখা যাচ্ছে, শুরুতে ভোল্টেজের মান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে এক পর্যায়ে সবোচ্র্চ হয়েছে (একে বলা হয় পিক ভোল্টেজ,Vp; এখানে Vp=1V)। এরপর তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে একপর্যায়ে শূন্য হয়েছে। এ মুহুর্তে এসে উৎসের ভোল্টেজ পরিবর্তীত হয়েছে (উচ্চ বিভব প্রান্ত নিম্ন বিভব প্রান্তে পরিণত হয়েছে, vice versa)। ফলাফল স্বরূপ কারেন্টেও দিক পরিবর্তন করেছে (প্রথমে যে দিকে প্রবাহিত হয়েছিল তার বিপরীত দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে)। পরিবর্তীত ভোল্টেজ একসময় যথারীতি সবোচ্র্চ হয় এবং আবার শূণ্যে উপনীত হয়। সবশেষে পুনরায় দিক পরিবর্তন করে একেবারে শুরুর অবস্থায় ফিরে যায়। (উৎসের বিভব পরিবর্তীত হয় তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের ঘূর্ণনের কারনে (জেনারেটরের ভিতর), এ ব্যাপারে পরবর্তীতে আলোচনা করার চেষ্টা করব)
এভাবে একটি চক্র (cycle) পূর্ণ হয় (শূণ্য -> সর্বোচ্চ -> শূণ্য -> দিক পরিবর্তণ করে সর্বোচ্চ ->পরিবর্তীতে দিকে শূন্য-> দিক পরিবর্তন করে পুনরায় প্রাথমিক অবস্থায় আসা)। কোন উৎস প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো চক্র পূর্ণ করছে তাকে সেই উৎসের কম্পাংক (frequency) বলে। আমাদের দেশের মেইন পাওয়ার লাইনের কম্পাংক ৫০ হার্জ। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ টি চক্র পূর্ণ হয়। কম্পাংকের একক হার্জ (Hz)।
উপরের গ্রাফে যে ডট ডট লাইন দেখা যাচ্ছে তা হল, এই পরিবর্তনশীল ভোল্টেজের গড় মান (Root Mean Square, Vrms: মূল বর্গীয় গড় মান)। ইহা নির্ণয়ে নিয়ম হল: Vrms =Vp/(root 2); যেমন এখানে Vp হল 1V তাই Vrms হবে 0.707V ।
আমাদের দেশে মেইন পাওয়ার লাইনের ভোল্টেজ হল 220V । ইহা আসলে RMS মান। এর Vp হল = 220 x (root 2) = 311.1V
আজ এ পর্যন্তই। ধন্যবাদ।
এ.সি. গ্রাফ: উইকিপিডিয়া।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মহাকাল (২০-০৬-২০০৮ ১০:৫১)
অফলাইন