ফিন্যান্স ব্লগ বেশ কিছু দিন ধরে পটকা মাছ খেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। পটকা(টেপটেপি) মাছের বিষাক্ততা, ভয়াবহতা এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজ প্রথম আলোতে বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে আপনাদের সদয় অবগতির জন্য এখানে পেশ করলাম।
একটি পটকা মাছের বিষে ৩০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে
মো. শরীফুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সায়ানাইডের চেয়ে এক হাজার ২০০ গুণ বেশি বিষাক্ত পটকা মাছের বিষ। একটি পূর্ণাঙ্গ পটকার বিষে ৩০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। কাজেই কোনোভাবেই এই মাছ খাওয়া নিরাপদ নয় বলে মত দিয়েছেন মৎস্য-বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি পটকা খেয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তর এই মাছের বিষাক্ততা সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।
মৎস্যবিজ্ঞানীরা জানান, টেট্রাওডোনটাইড (Tetraodontidae) পরিবারের এ মাছের ইংরেজি নাম পাফার ফিশ। জাপানে পটকাকে বলা হয় ফুগু (Fugu)। বাংলাদেশে সাধারণত স্বাদুপানির ও লোনাপানির−এই দুই ধরনের পটকা মাছ পাওয়া যায়। স্বাদু পানির পটকা আকারে লোনাপানির পটকার চেয়ে অনেক ছোট হয়।
মৎস্যবিজ্ঞানীরা আরও জানান, ‘আমাদের দেশে স্বাদুপানিতে এ পর্যন্ত দুই প্রজাতির পটকা পাওয়া গেছে। এদের বৈজ্ঞানিক নাম টেট্রাওডন কটকটিয়া (Tetraodon cutcutia ও চেলোনোডন পাটুকা (Chelonodon patoca)। জাপান সমুদ্রে এ পর্যন্ত ২১ প্রজাতির পটকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪ প্রজাতিই বিষাক্ত। বাংলাদেশেও সামুদ্রিক পটকার প্রজাতির সংখ্যা ২০ বা এর কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পটকা মাছের ওপর বাংলাদেশে গবেষণা হয়নি বললেই চলে। তবে এ দেশের দুজন মৎস্যবিজ্ঞানী জাপানে পটকা মাছের ওপর পিএইচডি করেন। এঁরা হলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ। ড. ইয়াহিয়া পটকা মাছের বিষাক্ততার ওপর এবং দ্বিতীয়জন রিপ্রোডাকটিভ ফিজিওলজি (প্রজননসংক্রান্ত বিষয়) নিয়ে কাজ করছেন।
এই দুই বিজ্ঞানী জানান, পটকা খেয়ে জাপানে সবচেয়ে বেশি লোক মারা যায়। এ ছাড়া কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, চীন, মেক্সিকো, বাংলাদেশসহ অনেক দেশে এই মাছ খেয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। জাপানিদের কাছে এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও অভিজাত খাবার। অনেক জাপানি পটকাকে কাজের উদ্যম সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে মনে করে। তবে কেবল লাইসেন্সধারী অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রক্রিয়াজাত করে এই মাছ বিক্রি করে থাকে।
দুই বিজ্ঞানী জানান, পটকার চামড়া, যকৃৎ ও ডিম্বাশয়ে সবচেয়ে বেশি বিষ থাকে। নাড়িভুঁড়ি, রক্ত ও মাংসপেশিতে বিষ থাকে কম। বর্ষাকালে প্রজননের সময় বিষের পরিমাণ বেড়ে যায়।
ড. ইয়াহিয়া জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে স্বাদুপানির দুটি পটকাই বিষাক্ত। সামুদ্রিক পটকার ওপর কোনো কাজ হয়নি বলে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই। বাসস্থান, প্রজাতি ও ঋতুভেদে পটকার বিষের তীব্রতা ভিন্ন হয়। বৈশাখে যে পটকা বিষাক্ত, কার্তিকে সেটি বিষহীন হতে পারে। সামুদ্রিক পটকার চেয়ে স্বাদুপানির পটকা অধিকতর বিষাক্ত।
মৎস্যবিজ্ঞানীরা জানান, পটকার শরীরে প্রথম অবস্থায় কোনো বিষ থাকে না। পটকা সর্বভুক প্রাণী। খাদ্য শিকারের মাধ্যমে পটকার দেহে ধীরে ধীরে বিষ ঢোকে। এ ক্ষেত্রে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। পরে তা পটকার দেহের বিভিন্ন অংশে জমা হয়। এ বিষে পটকা আক্রান্ত না হলেও বিভিন্ন রাক্ষুসে প্রাণীর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য এসব বিষ নিঃসরণ করে।
ড. হারুন জানান, পটকা মাছের বিষ সায়ানাইডের চেয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ গুণ বেশি বিষাক্ত। রান্না করলে পটকা মাছের বিষ নষ্ট হয় না। অত্যধিক তাপে কেবল বিষের রাসায়নিক কাঠামো রূপান্তর হতে পারে।
ড. ইয়াহিয়া বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত গ্রামের দরিদ্র মানুষ পটকা খায়। পটকার বিষ অম্লীয় মাধ্যমে বেশি ক্রিয়াশীল হয়। খালি পেট অম্লীয় হয়। তাই অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা দরিদ্র মানুষ পটকা খেলে বিষক্রিয়া বেশি হয়।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাদুপানি ও লোনাপানির পটকার বিষাক্ততার লক্ষণ রোগীর দেহে প্রায় একই রকম। পটকা মাছের বিষে এক ঘণ্টার মধ্যে প্রথমে রোগীর ঠোঁট ও জিহ্বায় জড়তা এবং পর্যায়ক্রমে মাথাব্যথা, বমি বমিভাব, মুখে শুষ্ককতা, মাংশপেশিতে ব্যথা ইত্যাদি নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে থাকে। চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে শ্বাসকষ্টে মৃত্যুও হতে পারে।
ড. ইয়াহিয়া ও ড. হারুন বলেন, কোনোভাবেই পটকা মাছ খাওয়া নিরাপদ নয়। তাই পটকা মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়। এ জন্য প্রচার চালিয়ে সরকারকেই গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল ওহাব বলেন, ‘পটকা মাছ বাজারে বিক্রি বন্ধে আইন করতে হবে। আইন অমান্যকারীর সাজা ও অর্থদন্ড রাখতে হবে।’
প্রসঙ্গত, নাটোরের সিংড়া ও ঢাকায় পটকা মাছ খেয়ে সম্প্রতি আটজন মারা গেছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিশুসহ শতাধিক ব্যক্তি। এ ছাড়া প্রায়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পটকা মাছ খেয়ে মৃত্যু বা অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
সুত্র: প্রথম আলো ১৭.০৬.০৮
কৃতজ্ঞতা:মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক
অফলাইন
The Ultimate fun zone 

ছোটবেলায় একবার পটকা মাছ ভাজি খাইছিলাম, কই কিছুইতো হইলোনা
। তবে যে রিপোর্ট দেখলাম তাতে এই মাছ কেবল বিষাক্তই না মারাত্মকভাবে বিষাক্ত এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন জুয়েল (১৭-০৬-২০০৮ ১৮:৫১)
অনলাইন
নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???হুম। পত্রিকাতে দেখলাম।
অফলাইন
মুঠোফোনে সুডোকু খেলছিবাপরে ভয় পাইলাম।
অফলাইন
আমার ছুটি প্রয়োজন, রুটিন বাধা জীবন ভালো লাগছে না। আমিতো মাছ তেমন একটা খাই না।( কাটা আছে বলে)
আর পটকা মাছের তো প্রশ্নই উঠে না। 
অফলাইন
পড়ছি রহস্যপত্রিকাআমিও বেশি মাছ খাই না, শুধু মুরগি আর মুরগি। আগে শুধু রান খেতাম। এখন একটু কম খাই, একটু বড় হয়েছি তো, তাই 
অফলাইন
মাছ রান্না ঝামেলা তাই মাছ খাই না। শুধু গরু 

। যদিও মুরগীর দাম আর গরুর দাম একই তারপরেও আমার এক রুমমেট মুরগী খায় না তাই মুরগী কম খাওয়া হয়।
অফলাইন





ঠিক আছে না খাইলাম।
অফলাইন
হেহেহে...আর তাকাবি???দেখ...ক্যামনে ভেঙ্গাই ...হেহেহে

আমি পটকা মাছ খাবো।...


পটকা মাছ খেয়ে পট করে মরে যাবো


আল্লাহ মাফ করুক
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রূপসী-রাক্ষসী (২১-০৬-২০০৮ ১২:১১)
অফলাইন
আমার ছুটি প্রয়োজন, রুটিন বাধা জীবন ভালো লাগছে না। রূপসী-রাক্ষসী লিখেছেন:
আমি পটকা মাছ খাবো।...
পটকা মাছ খেয়ে পট করে মরে যাবো
আল্লাহ মাফ করুক
যাক বাবা , তাহলে আমরাও নির্ভয়ে ফোরামে থাকতে পারবো
অফলাইন
হেহেহে...আর তাকাবি???দেখ...ক্যামনে ভেঙ্গাই ...হেহেহেmicroqatar লিখেছেন:
রূপসী-রাক্ষসী লিখেছেন:
আমি পটকা মাছ খাবো।...
![]()
পটকা মাছ খেয়ে পট করে মরে যাবো![]()
আল্লাহ মাফ করুকযাক বাবা , তাহলে আমরাও নির্ভয়ে ফোরামে থাকতে পারবো


মানব-মানবী মরে ভূত - পেত্নী হয়...ভূত- পেত্নী মরে রাক্ষস-রাক্ষসী হয়...য়ার রাক্ষস-রাক্ষসী মরে মানব-মানবী হয়


সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রূপসী-রাক্ষসী (২১-০৬-২০০৮ ১৪:০৪)
অফলাইন