যুদ্ধের কী দরকার!আজ সকালে প্রথম আলোর সামনের পৃষ্ঠাতেই সম্পাদক মতিউর রহমানের লেখা মন্তব্য প্রতিবেদনটা পড়ে এখানে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না ... 
গডমাদারের মুক্তি পাওয়ার পরদিনই এরকম প্রতিবেদন ছাপানোর কোন সম্পর্ক আছে নাকি? 
(বাঙালির স্মৃতিশক্তি খুবই দূর্বল, তাই ইউনিকোডে রেখে দিলাম)
প্রথম আলো ১২-জুন-২০০৮ লিখেছেন:
এঁরাই আমাদের 'জাতীয় নেতা'
আজকাল পত্রিকায় ও টেলিভিশনের খবরে একজন "জাতীয় নেতা"র সরব কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে প্রতিদিন। বক্তৃতা-বিবৃতিতে ভাবখানা এমন, তিনি যেন "জাতির কন্ঠস্বর"! তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনীত বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তিনি এখন বিএনপির স্বীকৃত প্রধান নেতা। প্রায় প্রতিদিনই দেশ-জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দিচ্ছেন। আর তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তাঁর বাসায় গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা লাইন দিচ্ছেন প্রতিদিন। আমরা নিকট-অতীতে গিয়ে এই "জাতীয় নেতা"র কর্মকান্ডের কিছু চিত্র খুঁজে দেখতে পারি।
১.
২০০৬ সালের ১৩ মার্চ প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বাসার চাল-ডাল থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের বাজার যেত জাতীয় সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়া থেকে। এমনকি বাসায় অতিথি আপ্যায়নের জন্য নগদ টাকাও নিয়েছেন সেখান থেকে। জোট সরকারের প্রথম সাড়ে চার বছর প্রায় প্রতি মাসে চিফ হুইপের কার্যালয় থেকে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর সই করা বাজারের বিশাল দুটি ফর্দ আসত ক্যান্টিনের ব্যবস্থাপকের হাতে। একই দিনে দুটি বাসার জন্য দুটি বাজারের তালিকাও পাঠাতেন চিফ হুইপ। আলাদা ব্যবস্থায় পৃথক দুই বাসায় এসব বাজার যেত, যার একটি তাঁর নিজের বাসা; আরেকটি ফর্দের বাজার যে বাসায় যেত, সেই ঠিকানাটি প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি, যদিও এ সম্পর্কে তথ্য জানা ছিল।
পাঠকের জ্ঞাতার্থে এখানে ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিল পাঠানো দুটি ফর্দ নমুনা হিসেবে উল্লেখ করা হলো। একটিতে আড়াই মণ কাটারিভোগ চাল, ৩০ কেজি পোলাওয়ের চাল, ৩০ কেজি আটা, ৩৫ লিটার সয়াবিন তেল, তিন কেজি ঘি, ১৫ কেজি মসুর ডাল, সাড়ে সাত কেজি বুটের ডাল, সাড়ে সাত কেজি মুগের ডাল, ১৫ কেজি পেঁয়াজ, সাড়ে সাত কেজি রসুন, সাত কেজি আদা, ১৫ কেজি চিনি, পাঁচ কেজি সুজি, ১৪ কেজি চিঁড়া-মুড়ি, পাঁচ কেজি চানাচুর, ১৬ প্যাকেট নুডলস, ডানো বড় তিনটি, ট্যাং (শরবত) বড় দুটি, ওভালটিন দুটি, মালটোভা দুটি, আমের আচার তিনটি, তিনটি করে আপেল এবং কমলার জুস, সাত কৌটা দুধ (কনডেন্সড), টোস্ট বিস্কুট ছয় কেজি, ডাইজেস্টিভ বিস্কুট এক কার্টন, ডায়াবেটিক সুগার (বড়) একটি, চা-পাতি পাঁচ প্যাকেট, কেচাপ (টমেটো ও চিলি) ছয়টি, ডায়েট স্প্রাইট, পেপসি, কোক নয়টি, জিরা আধা কেজি, গরম মসলাসহ ৩৭ রকমের মাল পাঠানো হয়। অন্য বাসার ঠিকানায় একই দিনের আরেক ফর্দে ৩০ কেজি কাটারিভোগ চালসহ প্রায় একই ধরনের ২৭ রকমের পণ্যদ্রব্য পাঠানো হয়।
জাতীয় সংসদের ইতিহাসে কোনো দায়িত্বশীল নেতার বাসায় আপ্যায়নের জন্য সংসদ থেকে চাল-ডাল নেওয়ার কথা আমরা আগে কখনো শুনিনি।
সংসদের এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে চিফ হুইপ ও হুইপদের জন্য বছরে আপ্যায়ন ভাতা বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৭ লাখ টাকা। এর অর্ধেকই খরচ করেছেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বাজার খরচ বাবদ। এর পরের অর্থবছরের (২০০৫-০৬) প্রথম আট মাস পর্যন্ত তিনি একাই আপ্যায়ন ভাতা নিয়েছেন আট লাখ টাকার বেশি।
এ সংক্রান্ত খবরটি প্রথম আলোয় প্রকাশের পরদিন খোন্দকার দেলোয়ার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আপ্যায়নের জন্য চাল-ডাল, টাকা নিয়ে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। সংসদের ক্যাফেটেরিয়া থেকে নগদ টাকা নেওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেশি থাকায় আমি অনেক সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিই। পরে সেই টাকা দিয়ে বাইরে থেকে মালামাল কিনি।
খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ওই খবরের লিখিত প্রতিবাদ করেছিলেন। সেটা আমরা ছেপেও ছিলাম। এরপর তিনি প্রথম আলোর সম্পাদক, প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানকে আসামি করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মানহানির মামলা করেন। এম হাফিজউদ্দিন খান চিফ হুইপের বাজার নিয়ে একটি উপসম্পাদকীয় লিখেছিলেন বলে তাঁকে আসামি করা হয়। সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। আদালত থেকে আমাদের জামিন নিতে হয়। বেশ কয়েকবার আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। অবশ্য এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ হাজির ও দুই পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের পর ওই বছরের ৫ নভেম্বর খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে মাননীয় আদালত রায় দিয়ে মামলাটি সরাসরি বাতিল করে দেন। অর্থাৎ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে প্রথম আলোর প্রতিবেদন সঠিক ছিল।
২.
এটা তো "মাননীয়" চিফ হুইপ ও বিএনপির বর্তমান প্রধান নেতার লোভের সামান্য নমুনা। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের "গুণধর" পুত্রদের "কীর্তি"ও কম নয়। জোট সরকারের প্রায় পুরোটা সময় তাঁর দুই পুত্র পবন ও ডাবলু ছিলেন বহুল আলোচিত। গত ৩১ মার্চ ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি অস্ত্র মামলার রায়ে ছোট ছেলে পবন ও তাঁর চার সহযোগীর ১৭ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড হয়েছে। এ রায় শুনে ওই দিন আদালতে পবন উত্তেজিত হয়ে বিচারককে উদ্দেশ করে গালিগালাজ করেন।
খোন্দকার দেলোয়ারের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠা দুই ছেলে পবন ও ডাবলু বেশ আলোচিত ছিলেন রাজধানীর হাতিরপুলে মোতালিব প্লাজায় দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে। এসব কারণে পবন-ডাবলুর বিরুদ্ধে তখন দ্রুত বিচার আইনে চারটি মামলাও হয়।
এ ছাড়া পবন বাহিনীর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে পুরান ঢাকার আরমানিটোলা ও মিটফোর্ড এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ছিল অতিষ্ঠ। তাঁরা ওই এলাকায় নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে চাঁদাবাজি, মাদকব্যবসাসহ অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন। চিফ হুইপের ছেলে হওয়ায় তখন পুলিশও তাঁদের সমীহ করে চলত। ওই এলাকায় গোলাগুলি করার দায়ে ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পবন গ্রেপ্তার হন। তিনি সর্বশেষ গ্রেপ্তার হন ২০০৬ সালের ৭ জুন একটি চোরাই গাড়িসহ। আগের বছর মতিঝিলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে গাড়িটি ছিনতাই করে নম্বরপ্লেট বদল করে পবন চালাচ্ছিলেন।
শুধু ঢাকায়ই নয়, খোন্দকার দেলোয়ারের পরিবার নিজ জেলা মানিকগঞ্জেও সন্ত্রাস ও দখলের মাধ্যমে নানা "কীর্তি"র স্বাক্ষর রেখেছে। খোন্দকার দেলোয়ার, তাঁর স্ত্রী বেগম সাহেরা হোসেন ও ছোট ছেলে পবন উপস্িথত থেকে ২০০২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শিবালয় থানার মহাদেবপুর বাজারে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি খাসজমিতে নির্মিত বিভিন্ন মানুষের ৩১টি চালু দোকান উচ্ছেদ করেন এবং ৩০ শতাংশ জমি দখল করে নেন। (সুত্র: প্রথম আলো, ১ মার্চ ২০০২)
ওই জেলার ঘিওর-শিবালয় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল পবনের বাহিনীর চাঁদাবাজি। তাদের চাঁদাবাজির ব্যাপকতা সম্পর্কে শিবালয়ের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, "সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে নিয়মিত চাঁদা চাওয়া হচ্ছে; সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী পর্যায়ে, বুঝতে কষ্ট হয় না। ...অদৃশ্য শক্তি সবার মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে। আমরা কী করব?" (প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০০২)। পবনের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার গোলাম মহিয়ার খান সিপার ২০০৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে খোন্দকার দেলোয়ার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানা সন্ত্রাসী ও অন্য কর্মকান্ড সম্পর্কে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবহিত করা হয়েছিল। তখন খালেদা জিয়া চিফ হুইপকে বাদ রেখে সন্ত্রাসীপুত্রদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন বলে জানা গেছে।
৩.
গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পরপর আদালত চত্বর থেকে দলের মহাসচিব পদ থেকে আবদুল মান্নান ভুঁইয়াকে বহিষ্ককার এবং খোন্দকার দেলোয়ারকে নতুন মহাসচিব নিযুক্তির ঘোষণা দেন। এ প্রসঙ্গে খোন্দকার দেলোয়ার বলেছেন, "বায়ুমন্ডলে যেমন শুন্যতা থাকে না, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুন্যতা থাকে না। বিএনপিতেও নেই। এখানে কেউ মারা গেলে বা বহিষ্ককৃত হলেও শুন্যতা হবে না।" (সুত্র: ইত্তেফাক, ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। এর পর থেকে বিএনপির একাংশের এই নেতা গণমাধ্যমে "গরম" বক্তৃতা ও দেশ-জাতিকে গণতন্ত্রের সবক দিয়ে যাচ্ছেন।
৪.
বিএনপির আরেক অংশের নেতা, সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত এবং তথাকথিত স্থায়ী কমিটির মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন সাইফুর রহমানের দশাও খোন্দকার দেলোয়ারের চেয়ে খুব একটা ভালো নয়। সাইফুরের বড় ছেলে নাসের রহমান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নাসের রহমানের দুটি মামলায় সাজা হয়েছে। তিনি এখন জেলে; তাঁর স্ত্রী জামিনে মুক্তি পান। সাইফুর রহমানের আরেক ছেলে শফিউর রহমান বাবু পলাতক। বাবু ও তাঁর বোন সাইফার স্বামী আমের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলা রয়েছে।
সাইফুরের "গুণধর" পুত্র-কন্যাদের চাঁদাবাজি, উন্নয়নকাজের দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়া, "তদবির" ও "কমিশন-বাণিজ্যে"র কথা এখন আর লুকোছাপা নেই। শুধু তা-ই নয়, ছেলে শফিউর রহমান বাবু ও জামাতা আমের সিদ্দিকী চোরাচালানেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। তাঁরা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের পণ্য আনতেন, সেটা বিগত জোট সরকারের আমলে সিআইডির এক তদন্তে ধরাও পড়েছিল। সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর ছেলে ও জামাতার প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা ২৩ কনটেইনার পণ্য ছাড় করা হয়, যার প্রতিটি চালানেই চোরাই পণ্য ছিল। শুল্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে আমদানি করা এসব পণ্য কোনো রকম বাধা ছাড়াই কমলাপুর আইসিডি থেকে খালাস করা হয়। অর্থমন্ত্রীর ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি তখন, যা ১১ জানুয়ারির পরিবর্তনের পর ফাঁস হয়। (সুত্র: প্রথম আলো, ২৩ জুন ২০০৭ ও ইত্তেফাক, ২৫ জুন ২০০৭)। এখন তো সাবেক অর্থমন্ত্রীর জামাতা ও পুত্রদের বিপুল ও বেপরোয়া দুর্নীতির বিষয়টি দিবালোকের মতো পরিষ্ককার।
এই সাইফুর রহমানই প্রথমে সংস্কারপন্থী ও পরে হঠাৎ "বিপ্লবী" হয়ে ওঠেন। খোন্দকার দেলোয়ারপন্থীরা খালেদা জিয়াকে না ছাড়লে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল সাইফুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে না গেলে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। কোনো ব্যক্তির জন্য নির্বাচন বা উন্নয়ন থেমে থাকতে পারে না।" (ইত্তেফাক, ২৬ এপ্রিল ২০০৮)। এই "মহান" নেতাই কদিন পর ভিন্ন কথা বলেন। গ্যাটকো মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের দুই দিন আগে গত ৮ মে তাঁর নিজের নেতৃত্বাধীন কথিত সংস্কারপন্থীদের আক্রমণ করে গণমাধ্যমে বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, "বেগম জিয়া নিজেই বড় এক সংস্কারের উদাহরণ। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি অনেক সংস্কার করেছেন।" তিনি আরও বলেন, আজকে যাঁরা সংস্কারপন্থী, তাঁদের অনেকে বেগম জিয়ার প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় উন্নয়নকাজে বাধা দিতেন। এই বক্তৃতার পর কিছু পত্রিকায় লেখালেখিতে তাঁকেও "মহান" নেতা বানানোর চেষ্টা চলে। অথচ চারদলীয় জোট সরকারের আমলেই অনেক মন্ত্রী বলতেন, বিভিন্ন বড় ধরনের উদ্যোগ বা পরিবর্তনে অর্থমন্ত্রীই ছিলেন বড় বাধা।
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার আগের দিন সাইফুর রহমান চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর যান। তিনি এই মামলার আসামিও। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ছোট ছেলে শফিউর রহমান বাবুর (দুর্নীতির মামলায় পলাতক আসামি) সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে আছেন বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে।
৫.
বিশ্বব্যাংকের সাবেক এক ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় প্রথম সফরে এসেই খুব আশাবাদী হয়ে বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে তিনি পিতার মতো মনে করেন। তাঁকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। কয়েকবার ঢাকা আসা-যাওয়ার পর "পিতার মতো" অর্থমন্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের কর্মকান্ড জেনে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছিলেন। তা তিনি সাইফুর রহমানকেও বলেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের ওই কর্মকর্তার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে তাঁকে সাইফুর রহমান বাসায় নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে পরিচয় ও আলোচনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এত সব করেও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের মত বদলানো যায়নি।
বিশ্বব্যাংকের সেই ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের বহুমুখী দুর্নীতির কথাও বলেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেদিন তাঁর ছেলের পক্ষে অনেক সাফাই গেয়েছিলেন। বলেছিলেন, এসব মিথ্যা প্রচার। কিন্তু সেই ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর কথা বিশ্বাস করেননি। বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বিশ্বব্যাংকের এই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আমরা এসব কথা জেনেছিলাম।
শুধু তাই নয়, যে সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী থাকাকালে কালো টাকার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব ছিলেন, সেই তিনিই বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার পর কালো টাকা সাদা করেছেন।
এ-ই তো আমাদের নেতা-নেত্রীর চেহারা। তা দেশ-বিদেশে কারও অজানা নেই। এখন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁর শাসনামলকে "স্বর্ণযুগ" বলছেন! অথচ তাঁর শাসনামলে পর পর চারবার বাংলাদেশ শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছিল।
৬.
দেশের দুই প্রধান দলের একটি বিএনপি। এর দুই অংশের এখনকার দুই শীর্ষ নেতার এই হচ্ছে দশা। এত কিছুর পরও এই নেতারাই আমাদের রাজনীতির কর্ণধার, ভবিষ্যতে হয়তো তাঁরাই আবার দেশ চালাবেন, সেই রকমই প্রস্তুতি।
কারও আঙ্গুলে বা হাতে যদি ক্যান্সার হয়, তাহলে হাত কেটে রক্ষা পাওয়া যায়। আর পাকস্থলী বা ফুসফুসে যদি ক্যান্সার হয়, সেটা মেনে নিয়ে নির্মম কষ্টের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করাটা নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনিভাবে দুর্বৃত্তায়ন, ক্ষমতায় গিয়ে নিজে দুর্নীতি করা বা সন্তানদের দুর্নীতিতে সায় দেওয়া এবং কোনো না কোনোভাবে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসা−ভয়াবহ ক্যান্সারের মতো বাংলাদেশের রাজনীতির এই অসুখ চলছে দশকের পর দশক ধরে।
মতিউর রহমান: সম্পাদক, প্রথম আলো।
অফলাইন
আমি ঠিক সেই মন্তব্যই করতে যাচ্ছিলাম। মতি ভাই কী বলতে চাইলেন স্পষ্ট না। লিখতে হবে, এটা ওটা মিলিয়ে দিয়ে দিল একটা। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন এরকম ফালতু হয় না।
অফলাইন
সহমত
অফলাইন
আর ভাল লাগে না!সর্বশেষ প্যারাগ্রাফটা ভাল লেগেছে। কিন্তু যদিও আগের বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কারণ এখানে মাত্র একটি দলের কথা দেখানো হয়েছে অথচ উপসংহার দুটি দলের। বুঝলাম না হঠাৎ এই দুজনকে নিয়ে কেন?
তবে যাইহোক, এটা ধারাবাহিক হলে ভালই। যদিও তাতে কোন লাভ নেই।
; যদি ব্যাংক একাউন্ট লোপাট হয়ে যায়
!অফলাইন
C শিখতে হবে। সবার সাহায্যে লাগবেযাই হোক সামনে যে কি আসছে সেটা নিয়েই এখন শংকা।
অফলাইন
নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???সব জাতীয় নেতাদেরইতো একই অবস্থা। কাকে ভাল বলবেন?
অফলাইন
ভবঘুরে জীবন বেশি ভালো ভাবছি তাই সন্যাসী হবোকয়লা ধুলে ময়লা যায় না
কারও আঙ্গুলে বা হাতে যদি ক্যান্সার হয়, তাহলে হাত কেটে রক্ষা পাওয়া যায়। আর পাকস্থলী বা ফুসফুসে যদি ক্যান্সার হয়, সেটা মেনে নিয়ে নির্মম কষ্টের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করাটা নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনিভাবে দুর্বৃত্তায়ন, ক্ষমতায় গিয়ে নিজে দুর্নীতি করা বা সন্তানদের দুর্নীতিতে সায় দেওয়া এবং কোনো না কোনোভাবে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসা−ভয়াবহ ক্যান্সারের মতো বাংলাদেশের রাজনীতির এই অসুখ চলছে দশকের পর দশক ধরে।
এই অংশ খুব ভালো লেগেছে
@কোডার আগামীকাল গডমাদার এর খবর আসছে
অফলাইন
আমার মানি ব্যাগ হারানো গেছে। 


কারও আঙ্গুলে বা হাতে যদি ক্যান্সার হয়, তাহলে হাত কেটে রক্ষা পাওয়া যায়। আর পাকস্থলী বা ফুসফুসে যদি ক্যান্সার হয়, সেটা মেনে নিয়ে নির্মম কষ্টের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করাটা নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনিভাবে দুর্বৃত্তায়ন, ক্ষমতায় গিয়ে নিজে দুর্নীতি করা বা সন্তানদের দুর্নীতিতে সায় দেওয়া এবং কোনো না কোনোভাবে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসা−ভয়াবহ ক্যান্সারের মতো বাংলাদেশের রাজনীতির এই অসুখ চলছে দশকের পর দশক ধরে।
এটাতো শুভ ইঙ্গিত বহন করছে না, আমরাকি আবার সেই অরাজকতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। 

অফলাইন
আমাকে কি কেউ দয়া করে বলতে পারবেন, আমাদের দেশ তার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত কোন যোগ্য নেতৃত্যের হাতে পড়ছে কি?
এমন কেউ কি আছে যাকে আমরা model হিসেবে ভাবতে পারি? এমন কোন নাম?
অফলাইন
ভবঘুরে জীবন বেশি ভালো ভাবছি তাই সন্যাসী হবোscorpio লিখেছেন:
আমাকে কি কেউ দয়া করে বলতে পারবেন, আমাদের দেশ তার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত কোন যোগ্য নেতৃত্যের হাতে পড়ছে কি?
এমন কেউ কি আছে যাকে আমরা model হিসেবে ভাবতে পারি? এমন কোন নাম?
হুমম সত্যিই চিন্তার বিষয় 

অফলাইন
আমরা দেশীয় কোন মহান নেতা না পেলেও বহির্বিশ্বে কোন নেতাকে model হিসেবে ধরতে পারি (যেমন, মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা, আব্রাহাম লিংকন)। যদিও তারা আমাদের দেশের মত অবস্থায় ছিলেন না, তবুও তাদের জীবনী থেকে অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের।
অফলাইন
microqatar লিখেছেন:
এটাতো শুভ ইঙ্গিত বহন করছে না, আমরাকি আবার সেই অরাজকতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।
অবশ্যই আবার আগের দিকেই যাচ্ছে। আর এর জন্য দুই বড় দলের সমর্থকরা দায়ী। এক কথায় দেশের জনগণরাই দায়ী। বর্তমান সরকারের কয়েকজন সদস্যস্যের কেন এত মাথা ব্যাথা যে দীর্ঘ দিনের ময়লা পরিষ্কার করার।
অফলাইন
দত্ত লিখেছেন:
আমরা দেশীয় কোন মহান নেতা না পেলেও বহির্বিশ্বে কোন নেতাকে model হিসেবে ধরতে পারি (যেমন, মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা, আব্রাহাম লিংকন)। যদিও তারা আমাদের দেশের মত অবস্থায় ছিলেন না, তবুও তাদের জীবনী থেকে অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের।
এবার পাবেন। অনেকেই কারাস্নান করে একেবারে সাদা পান্জাবী গায়ে দিয়ে বিপুল উৎসাহে জনগনের সামনে এসে বলবে যে, "কোন ষরযন্ত্রই টিকে নাই। আমারাই দেশের সেরা মডেল"
অফলাইন
scorpio লিখেছেন:
আমাকে কি কেউ দয়া করে বলতে পারবেন, আমাদের দেশ তার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত কোন যোগ্য নেতৃত্যের হাতে পড়ছে কি?
এমন কেউ কি আছে যাকে আমরা model হিসেবে ভাবতে পারি? এমন কোন নাম?
এরশাদের ক্ষমতা পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন কিছুদিন ক্ষমতায় ছিলেন। উনি কি ভালো সরকার? 
অফলাইন
তানজিনা লিখেছেন:
এরশাদের ক্ষমতা পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন কিছুদিন ক্ষমতায় ছিলেন। উনি কি ভালো সরকার?
শাহাবুদ্দীন থাক আর yesউদ্দীন ই থাক... কোন ঘোড়ার ডিমই আমাদের মন এ ঠাই পাইনি। আসলে আমার মনে হয় আমরা স্বাধীনতা নামের জিনিসটার মর্যাদা রাখতেও শিখিনি, এটাকে ব্যবহার করতেও শিখিনি। যে যার মত এটাকে ব্যবহার করে (তার ক্ষমতা আনুযায়ী)।
আমার মতে আমাদের একজন একনায়ক দরকার, যে আমাদের স্বাধীনতা কি জিনিস শেখাবে। গনতন্ত্র আমাদের জন্য এখন suitable না।
অফলাইন
scorpio লিখেছেন:
আসলে আমার মনে হয় আমরা স্বাধীনতা নামের জিনিসটার মর্যাদা রাখতেও শিখিনি, এটাকে ব্যবহার করতেও শিখিনি। যে যার মত এটাকে ব্যবহার করে (তার ক্ষমতা আনুযায়ী)।
আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। কারণ রাজনৈতিক চামচাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই কোন নেতিবাচক কথা বলে সেখানে নিজেকেও জড়িয়ে নেয়। এতে হয়ত নিজের গা বাঁচানো যায়। যেমন আপনিও বললেন আমারা স্বাধীনতা নামের জিনিসটার মর্যাদা রাখতেও শিখিনি। এখানেই আমার আপত্তি। কারণ স্বাধীনতা কি তা আমি ও আমার পরিবারের সকল সদস্যই ভালো বোঝে। আমাদের মত আরো অনেকেই সেটা বোঝে। আপনিও নিশ্চই বোঝেন। তাহলে আবার নিজেকে জড়াচ্ছেন কেন? এই মুক্ত ফোরামে আপনার বিরুদ্ধে কেউ মানহানী মামলা করতে পারবে না। সুতরাং ভয় নাই।
scorpio লিখেছেন:
আমার মতে আমাদের একজন একনায়ক দরকার, যে আমাদের স্বাধীনতা কি জিনিস শেখাবে।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল উদাহরণ জন্য ইরাকের জনগণ। তারা এখন টের পাচ্ছে মার্কিনীদের স্বাধীনতার মুলার স্বাদ।
গনতন্ত্র আমাদের জন্য এখন suitable না।
বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ জনগনের জন্য এটা ঠিক।
অফলাইন
scorpio লিখেছেন:
শাহাবুদ্দীন থাক আর yesউদ্দীন ই থাক... কোন ঘোড়ার ডিমই আমাদের মন এ ঠাই পাইনি। আসলে আমার মনে হয় আমরা স্বাধীনতা নামের জিনিসটার মর্যাদা রাখতেও শিখিনি, এটাকে ব্যবহার করতেও শিখিনি। যে যার মত এটাকে ব্যবহার করে (তার ক্ষমতা আনুযায়ী)।
আপনার এই কথাটার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটা মিল খুঁজে পেলাম। এখানে প্রথম এমেন্ডমেন্টে সকল নাগরিকের বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা-এসব দেয়া আছে। কিন্তু এই দেশটির প্রায় আড়াইশ বছরের ইতিহাসে নানা সময় এসব স্বাধীনতা নিয়ে জনগণ এবং সরকারের দ্বন্দ হয়েছে। যেমন, প্রথম না জানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক ব্যক্তি আমেরিকার বিরুদ্ধাচরণ করছিল যুদ্ধবিরোধী লিফলেট প্রচার করে। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু সে বলে আমি তো আমার সংবিধানের অধিকারের প্রয়োগ করছিলাম। তখন সুপ্রীম কোর্ট রায় দেয়, যেহেতু এখন যুদ্ধের সময়, তাই এখন এধরনের আচরণ সংবিধানের অজুহাত দিয়ে ছাড়া পাওয়া যাবে না। অন্যসময় হলে এই সমস্যা হতো না। লোকটা তখন শাস্তি পায় সংবিধান তাকে রক্ষা করবে ভেবে।
তাই এমন ঘটনা থেকে বোঝা যায়, যদি আমরা বলি স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, তখন এটার মাত্রা ঠিক করে দেয়া উচিত। কতটা করলে এটা সংবিধান লঙ্ঘন করবে না। আমি মনে করি এটা সকল দেশেরই করা উচিত।
অফলাইন
সাধু সাবধান!!! রাজাকারেরা আবার মাথা তুলছে। এই ওয়েবসাইটটি সম্প্রতি আমার নজরে এসেছে। http://www.firozmahboobkamal.com
সেখানে একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস নামক প্রবন্ধটির কিছু বিতর্কিত অংশ তুলে ধরছি,
বাংলাদেশে একাত্তরের ঘটনাবলি নিয়ে প্রচুর মিথ্যাচার হয়েছে। বিকৃত হয়েছে ইতিহাসের পাঠ্যপুস-ক। লেখা হয়েছে অসত্যে ভরপুর অসংখ্য গ্রন', গল্প, উপন্যাস ও নাটক। নির্মিত হয়েছে বহু ছায়াছবি। এখনও সে বিকৃত ইতিহাস রচনার কাজ চলছে জোরেসোরে। এ পরিকল্পিত মিথ্যাচারের লক্ষ্য একটিই। আর তাহলো, দেশ-বিদেশের মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থেকে সত্যকে আড়াল করা। এবং যারা একাত্তরের লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছে তাদের কৃত অপরাধগুলো লুকিয়ে ফেরেশতাতুল্য রূপে জাহির করা। সে সাথে বিরোধী পক্ষকে দানব রূপে চিত্রিত করা। যারা দেশকে আন-র্জাতিক অঙ্গনে ভিক্ষার ঝুলিতে পরিণত করলো, গণতন্ত্রকে পাঠালো নির্বাসনে এবং মানুষকে পাঠালো ডাষ্টবিনের পাশে কুকুরের সাথে উচ্ছিষ্ঠ খোঁজের লড়াইয়ে তাদেরকে আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বলা হচ্ছে বস'ত সে পরিকল্পনারই অংশ রূপে। এ মিথ্যাচারের আরেক বড় লক্ষ্য, একাত্তরে বাংলার মুসলামানদের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী বিভক্তি সৃষ্টি হল, সেটিকে স'ায়ী রূপ দেয়া। এমন ইতিহাস রচনার লক্ষ্য তাই দেশের কল্যাণ নয়, সত্যকে তুলে ধরাও নয় বরং এখানে প্রাধান্য পেয়েছে ব্যক্তি ও দলের ইমেজকে বড় করে দেখানো।
নানা প্রেক্ষাপটে প্রতিদেশেই বিভক্তি দেখা দেয়। সে বিভক্তি নিয়ে প্রকান্ড রক্তপাতও হয়। নবীজীর (সাঃ) আমলে আরবের মানুষ বিভক্ত হয়েছিল মুসলমান ও কাফের এদুুটি শিবিরে। কিন' সে বিভক্তি বেশি দিন টেকেনি। সে বিভক্তি বিলুপ্ত না হলে মুসলমানগণ কি বিশ্বশক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করতে পারতো? জার্মানরা বিভক্ত হয়েছিল নাজি ও নাজিবিরোধী এ দুই দলে। সে বিভক্তিও বেশীদিন টেকেনি। তা বিলুপ্ত না হলে জার্মানরা আজ ইঊরোপের প্রধানতম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হতে পারতো? বিভক্তি দেখা দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। সে বিভক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে আব্রাহাম লিংকনের আমলে উত্তর ও দক্ষিণের রাষ্ট্রগুলোর মাঝে প্রকান্ড গৃহযুদ্ধ হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ তাতে নিহতও হয়েছিল। কিন' সে বিভক্তি বেশী দিন টেকেনি। সেটি বিলুপ্ত না হলে দক্ষিণ আমেরিকার মত উত্তর আমেরিকাতেও উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়ার মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বহু রাষ্ট্রের জন্ম হত। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ যেভাবে এক নাম্বার বিশ্বশক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করছে তা কি তখন সম্ভব হত? পারতো কি পৃথিবী জুড়ে প্রভাব সৃষ্টি করতে? আত্মপ্রতিষ্ঠা, আত্মসম্মান ও সভ্যতার নির্মাণ ঘটে তো একতার পথ ধরেই। বিভক্তির মধ্য দিয়ে আসে আত্মহনন, আত্মগ্লানি ও চরম অপমান। বাংলাদেশ আজ সে বিভক্তির পথ ধরেই অগ্রসর হচ্ছে। একটি দেশের জন্য এর চেয়ে বড় আত্মঘাত আর কি হতে পারে? একতার গুরুত্ব শুধু বিবেকবান মানুষই নয়, পশুপাখিও বোঝে। তাই তারাও দল বেঁধে চলে। একতা গড়া ইসলামে ফরয এবং বিভক্তি গড়ার প্রতিটি প্রচেষ্টাই হল হারাম। বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে একতার পথে চলা ও না-চলার বিষয়টি ব্যক্তির খেয়াল খুশির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। অলংঘনীয় নির্দেশ এসেছে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে। পবিত্র কোরআনে তিনি সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন,
‘‘ওয়া তাছিমু বিহাবলিল্লাহে জামিয়াঁও ওলাতাফারত্মাকু ..।’’
অর্থ ঃ ‘‘এবং তোমরা আল্লাহর রশি (আল্লাহর দ্বীন তথা পবিত্র কোরআন বা ইসলামকে) আঁকড়ে ধর এবং পরস্পরে বিভক্ত হয়োনা..।’’
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা শুধু যে একতাবদ্ধ হতে বলেছেন তা নয়, কিসের ভিত্তিতে একতা গড়তে হবে সেটিও বলে দিয়েছেন। সে একতা ভাষা, ভূগোল ও বর্ণভিত্তিক হবে না, হবে আল্লাহর রশি তথা ইসলাম বা কোরআন ভিত্তিক। মুসলমানদেরকে বলা হয়েছে কোরআনকে বা ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে, ভাষা, বর্ণ ও ভুগোলকে নয়। আল্লাহতায়ালা যেমন একতাবদ্ধ হতে বলেছেন তেমনি পরস্পরে বিভক্ত না হওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দিয়েছেন। আল্লাহর প্রতিটি হুকুমই তো অলঙ্ঘনীয়। ফলে একতা প্রতিষ্ঠার প্রতিটি প্রয়াস যেমন আল্লাহর আনুগত্য তথা ইবাদত, তেমনি বিভক্তি ও বিচ্ছিন্নতার প্রতিটি প্রয়াসই হলো বিদ্রোহ। দেশের রাজা বা বিচারকের বিরুদ্ধে যে কোন বিদ্রোহ শাসি- অনিবার্য করে তোলে। মহান আল্লাহর এ হুকুমের অবাধ্যতা কি রহমত বয়ে আনে? এটি তো গুরুতর বিদ্রোহ। এমন বিদ্রোহ যে আযাব ডেকে আনে তা নিয়ে কি সন্দেহ আছে? বাংলাদেশে সে অবাধ্যতা চলছে নানা ভাবে। আল্লাহর অবাধ্যতা শুধু এ নয় যে জনগণের অর্থে ও সমর্থণে দেশে সূদী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বা রাষ্ট্রীয় অর্থে বেশ্যাবৃত্তি বা জ্বিনা পাহারাদারি পাচ্ছে বা আইন-আদালত থেকে আল্লাহতায়ালার আইনকে সরিয়ে ব্রিটিশ প্যেনাল কোড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বরং আল্লাহর বিরদ্ধে বড় বিদ্রোহ ঘটেছে ভাষা, বর্ণ ও পৃথক ভূগোলের নামে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি গড়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানেরা ভাষা ও বর্ণকে নয়, ইসলামকে আঁকড়ে ধরেছিল। বাঙ্গালী, বিহারী, পাঞ্জাবী, পাঠান, সিন্ধি, গুজরাটি এরূপ নানা ভাষার মুসলমানগণ ভাষার পরিচয় নিয়ে নয়, ঈমানী পরিচয় নিয়ে একাতাবদ্ধ হয়েছিল। তারা সেদিন ভুলে গিয়েছিল তাদের ধর্মীয় ফেরকা ও মাজহাবী বিরোধ। উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসে এটি অনন্য। পবিত্র কোরআনে মুসলমানদের বলা হযেছে হিজবুল্লাহ বা আল্লাহর দল। এটি কি ভাবা যায়, আল্লাহতায়ালা তাঁর নিজের বাহিনীতে অনৈক্য চাইবেন? এবং সেটি ভাষা, বর্ণ বা ভৌগলিক স্বার্থের নামে? মুসলিম উম্মাহর একতা ও বিজয়ের চেয়ে এগুলি কি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে? আল্লাহতায়ালা তাঁর বাহিনীতে একতার যে কোন উদ্যোগে যে খুশি হবেন সেটিই তো স্বাভাবিক। উমহাদেশের মুসলমানদের সে একতা আল্লাহতায়ালাকে এতই খুশি করেছিল যে তাদের প্রতি তাঁর বিশাল রহমত জুটেছিল। ফলে বিজয়ও এসেছিল। এ রহমতের কারণেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস-ানের প্রতিষ্ঠা করতে কোন যুদ্ধ লড়তে হয়নি। অস্ত্র না ধরেই বিশাল শত্রুপক্ষকে সেদিন তারা পরাজিত করতে পেরেছিল।
অফলাইন

অফলাইন
.......জাতীয় নেতাদের একই অবস্থা, কাকে ভাল বলবেন?
অফলাইন