গতকাল আমি আমার জীবনের প্রথম হলে থাকার স্বাদ আস্বাদন করিলাম। শাহ্জালাল ভার্সিটিতে থাকার সময় স্টুডেন্ট পলিটিক্সের কারনে এবং আমাদের ফুয়াদ স্যারের ছাত্রাবস্থায় দুইবার কম্পিউটার ভাঙ্গার কাহিণী শুনে আর ছাত্রহলে উঠা হয়ে উঠেনি। যাই হোক, মাস্টার্স করতে এসে গতকাল সকালে আমি রুয়েটের জিয়া হলের তৃতীয় তলার উত্তর সাইডে 'মাস্টার্স এবং পিএইচডি স্টুডেন্ট' রুমে উঠলাম। জিয়া হলে সব সিনিয়র মোস্ট স্টুডেন্টরা থাকে। বাকি হলগুলো জিয়া হলের পিছনের দিকে ক্রমান্বয়ে ৩য়, ২য়, ১ম বর্ষের ছাত্রদের জন্য -এভাবে অবস্থিত। আমার জন্য সিঙ্গেল একটা রুমে এটাচড বাথ এবং ড্রইং রুম আছে(একটু খানদানি-মানতেই হবে)। পাশের রুমে থাকেন ম্যাথের একজন টিচার। দুপুরে ডাইনিং-এ যাইতেই দেখি সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে আমারে দেখতাসে "এ সালা আবার কৌন চীজ-বাডি হ্যায়?"
রাইতের বেলায় ১০টার দিকে লোডশেডিং হইল। তার ৫ মিনিট পর ছাঁদ থেকে একটা শিয়াল ডাইক্যা উঠল "হুক্কাআআআআআআআআআআ-হুয়া"।
লগে লগে পিছনের হলগুলোর ছাঁদ থেকে রিপ্লাই "হুয়া-হুয়াআআআআআআআআআআআআআআআআ"
আবে হালায়... জুনিয়ার-রা কয় "হুয়া-হুয়াআআআআআআআআআআআআআআআআ ??!!@৳#%ঁ" দেখাইতাসি খাড়া
জিয়া হলের পোলাপাইনরা সব ছাদে উইঠ্যা শুরু করল "হুক্কাআআআআআআআআআআ-হুয়া"
রিপ্লাই আসা শুরু করল "হুয়া-হুয়াআআআআআআআআআআআআআআআআ "
পাক্কা ৪৫ মিনিট ... এই অবস্থা টানা...। ভাইরা আমার -- আপনারা না থাকলে অবস্থাটা বুঝবেন না। মনে হইতাসিল Brave Heart সিনেমার যুদ্ধের শুটিং চলতাসে। আমার পাশের রুমের টিচারকে জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কি? তিনি নির্বিকার উত্তর দিলেন, ঘটনা কিছহুই না... এইরকম প্রত্যেক রাতেই হয় লোডশেডিঙ্গের সময়।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রসি (০৪-০৬-২০০৮ ২১:৩৭)
অফলাইন
হলের লাইফ তো তাইলে ভালই মজা করতে পারবেন মনে হইতেছে..
। তবে ঐ ডাকের সাথে আবার আপনিও যোগ দিতে যাইয়েন না..তাইলে ভাষাই চেন্জ হয়ে যাবে, পরে আমরাও আপনের কথা বুঝবোনা
..!!
অফলাইন
ভাইয়া, চিল্লাপাল্লা শুরু করছি কিন্তু আমরা আপনার পাশের হলেই থাকি। হামিদ হলে। তাহলে আপনারা আরামেই আছেন। আমাদেরতো বেহাল অবস্থা। রাতে পাশ দিয়ে সুগন্ধ আসে। তিনটা বাথ রুমের দুইটাতে পানি পড়েনা। আচ্ছা, ওসব থাক, আমারও আনেক মজা লাগছে কাল।
অফটপিকঃ
রাজশাহীতে তো আমরা অনেকেই আছি। আর কয়েকজন হলেইতো গেট টোগেদার করতে পারি।
অফলাইন
জয় লিখেছেন:
ভাইয়া, চিল্লাপাল্লা শুরু করছি কিন্তু আমরা আপনার পাশের হলেই থাকি। হামিদ হলে। তাহলে আপনারা আরামেই আছেন। আমাদেরতো বেহাল অবস্থা। রাতে পাশ দিয়ে সুগন্ধ আসে। তিনটা বাথ রুমের দুইটাতে পানি পড়েনা। আচ্ছা, ওসব থাক, আমারও আনেক মজা লাগছে কাল।
অফটপিকঃ
রাজশাহীতে তো আমরা অনেকেই আছি। আর কয়েকজন হলেইতো গেট টোগেদার করতে পারি।
অই তোমার না সেমিস্টার ফাইনাল কালকে থেইক্যা...
হুম... গেট টুগেদার করা যায় ... আচ্ছা তোমাদের সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হোক আর রাজশাহী ভার্সিটির আম আর লিচু খাওয়া (সামার ভ্যাক) শেষ হোক... তারপর কোদাল ভাইয়ার সাথে বইস্যা দিন-ক্ষন ঠিক করা যাইবো।
অফলাইন
শাহপরান হলে (শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট) সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল পানিযুদ্ধ। পলিথিনে পানি ভরে প্রতিপক্ষের দিকে ছুঁড়ে মারা। আমাদের সময়ে লোডশেডিং ছিল না। তবে হাতে গোনা কয়েকবার বিদ্যুতহীনতায় পড়েছিলাম। শুধু শেয়ালের ডাক না, কত বিচিত্র ডাক যে শোনা যেত তখন।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে কেউ হল থেকে বেরোবার চেষ্টা করলেই উপর থেকে এক বালতি! 
অফলাইন
স্বপ্নচারী লিখেছেন:
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে কেউ হল থেকে বেরোবার চেষ্টা করলেই উপর থেকে এক বালতি!
আপনি কয়বার জানি কয় বালতি পানিতে গোসল করসিলেন?
অবশ্য শুন্সিলাম আপনার জন্য বালতিতে কাজ হয় নাই... পুরা ফায়ার ব্রিগেড ডাইক্যা আনা হইসিল... 


অফলাইন
আমার মানি ব্যাগ হারানো গেছে। 


আমার ইচ্ছা করতাছে দেশে আইসা হলে থাকি



অনলাইন
আমারও খুব ইচ্ছা করতেছে। 

অফলাইন
টেনশন? হেইডা আবার কেডা?রাজশাহীতে তো আমরা অনেকেই আছি। আর কয়েকজন হলেইতো গেট টোগেদার করতে পারি।
আমিও আছি
অফলাইন
ভবঘুরে জীবন বেশি ভালো ভাবছি তাই সন্যাসী হবোআমি রাঃবিঃ র হলে থাকার সময় বন্ধুরা মিলে খুব চেঁচামেচি করতাম। রাতে অপেক্ষায় থাকতাম কখন লোডশেডিং হয়। পাশের হলের ছাত্রদের সাথে গালাগালি বেশি হত। আমরা হবিবুর রহমান হলের ছেলেরা পাশের জিয়া হলের ছেলেদের বলতাম কুদ্দুসের পোলপান।কুদ্দুসের পোলাপান ছিল আমাদের হলের পক্ষ থেকে মেগা ডোজ। এটা শুনলে জিয়া হলের ছেলেরা একদম চুপ হয়ে যেত। জানিনা এর মধ্য কি মাহাত্ম আছে হলের বড় ভাইয়ের বলতেন তাই আমরাও বলি। আবার লোডশেডিং এ মাঝে মাঝে গিটার আর বাশিঁ নিয়ে বসে যেতাম। হল জীবন যে কি মজার ছিল..................রসি ভাইয়ের কথা শুনে আবার হলে ফিরে যেতে ইচ্ছে করতেছে।
অঃটঃ
@রসি ভাই আমি আপনার পাশেই আছি যেকোন প্রয়োজনে ডাকতে পারেন।আপনার কাজে লাগা সৌভাগ্যের ব্যাপার।
অফলাইন