আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নতির প্রধান বাধা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দলীয় দুর্নীতি, যার বিকট রূপ সম্প্রতিকালে উন্মোচিত হয়েছে।এর প্রেক্ষিতে আমি আমার নিজস্ব কিছু নতুন ধারণা উপস্থাপন করছি।
১. প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রধান কারণ হল রাজনৈতিক ক্ষমতার অপপ্রভাব। তাই প্রশাসনকে রাজনীতি থেকে পৃথক করতে হবে । যার অর্থ হল, প্রশাসনের নিম্ন পর্যায়ে থেকে শুরু করে মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী পদে কোন গণনির্বাচিত নেতা নিয়োগ দেয়া যাবে না। বরং যথাযথ সরকারী নিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে (মন্ত্রী পদ সহ)।
২. জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে অনেক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভিত্তিতে (ধরা যাক ১০০০০ জনের জন্য একজন প্রতিনিধি থাকবে) ।
এভাবে হয়তো প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। তাদের মধ্যে থেকে একজন জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি নির্বাচন । তবে সকল প্রতিনিধির ক্ষমতা একই হবে (ইউনিয়ন /জেলা) , যেহেতু ৫-১০ হাজার প্রতিনিধিদের নিয়ে মিটিং সম্ভব নয়, কেবল মাত্র সেকারণেই জেলা প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে (শুধু মাত্র বক্তব্য পেশ করার জন্য)।
৩. সর্বোপরি , পৃথক ভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে সকল জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। সকল নির্বাচনে (রাষ্ট্রপতি / স্থানীয় প্রতিনিধি) নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবে প্রার্থী হিসেবে। কোন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই এবং থাকবেও না। সকল নির্বাচনী কর্ম কান্ড স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দ্বারা পরিচালিত হবে।
যেকোন সরকার ব্যবস্থার একমাত্র এবং মূল লক্ষ্য হল জনগণের উন্নতি । এজন্য এমন জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকা দরকার যার ফলে সরকার কখনও মূল্য লক্ষ্য হতে বিচ্যুত হতে পারবে না।
জবাবদিহিতার চক্র হবে এরকম:
ধরুন, স্থানীয় কোন সমস্যা । স্থানীয় লোকজন তাদের জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রশাসনকে জানাবে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। ধরুন প্রশাসনের নিম্ন পর্যায়ে কোন কাজ হলো না বা দুর্নীতির আশ্রয় নিতে চায়। এ অবস্থায় প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড অনুসারে অভিযোগ জানানো হবে (প্রশাসন অভিযোগ নিতে না চাইলে সংবাদ পত্রের মাধ্যমে) । ধরুন এভাবে চলতে চলতে একবারে রাষ্ট্রপতির নিকট অভিযোগ পৌছালো। এ অবস্থায় তাকে হয় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে নতুবা পদত্যাগ করতে হবে। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি (জনগণের মতামত অনুসারে) রাষ্ট্রপতিকে অসমর্থন জানালে তাকে পদত্যাগ করতে হবে এমন নিয়ম থাকবে। ফলে রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এখন কথা হচ্ছে, জনপ্রতিনিধি যদি জনগণের কথা না শুনে তাহলে? এর ব্যবস্থা থাকবে এমন যে নির্বাচন কমিশনে কোন এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যদি 'না' ভোট দেয় তবে উক্ত জনপ্রতিনিধিকে পদত্যাগ করতে হবে এবং পুনরায় ঐ এলাকায় নির্বাচন হবে।
এব্যবস্থার ফলে প্রশাসনের সকল স্তর একটি জবাবদিহিতার চক্রে আবদ্ধ হবে।ফলে সরকার ব্যবস্থা সর্বদা জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করতে বাধ্য হবে।
ইহা আমার একান্ত নিজস্ব ধারণা ।
অফলাইন
এক্ষেত্রে প্রশাসনের লোকেরা তো জনগনের কাছে দায়ী থাকবে না তাদের কাজের জন্য। এতে করে তারা জনগনের আশা কতটা পূরন করতে পারবে তার নিশ্চয়তা নেই।

অফলাইন
সেভারাস লিখেছেন:
এক্ষেত্রে প্রশাসনের লোকেরা তো জনগনের কাছে দায়ী থাকবে না তাদের কাজের জন্য। এতে করে তারা জনগনের আশা কতটা পূরন করতে পারবে তার নিশ্চয়তা নেই।
আমি তো সেরকমই একটি জবাবদিহিতার উদাহরণ দিলাম। যে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযোগ রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত পৌছালো। আর রাষ্ট্রপতি জনগণের নিকট কিভাবে দায়বদ্ধ তাও ব্যাখ্যা করেছি। প্রশাসনের নিজস্ব শাস্তির ব্যবস্থা থাকে, জনগণের অভিযোগ বিবচনা করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রশাসন নিতে পারবে। আর চরম অবস্থায় প্রশাসন যদি কিছু না করে , সেজন্যই তো রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা নিবে। প্রশসানের লোকেরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় নিয়ন্ত্রিত হবে, আর রাষ্ট্রপতি নিয়ন্ত্রিত হবে জনগণের ক্ষমতার দ্বারা।
আশা করি বুঝাতে পেরেছি। কষ্ট করে পড়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ
।অনেক লেখা তো।
অফলাইন
কালো ব্যাজ ধারণ করতে পারি?নাহ্ এই ব্যবস্থায় আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি হতে চেষ্টা করবো না। আমার কী লাভ?
জনগণের উন্নতি করার জন্য জান প্রাণ দেবে কিসের আশায়? এমন মহাপুরুষ কোথায় পাবেন? সিস্টেমে প্রতিনিধিদের লাভ না দেখালে মেধাবী এবং সম্ভাবনাময়রা কখনই ওখানে যেতে চাইবে না ... ফলে দেশের মাথায় গোবরগণেশরাই যাবে। ফলে উন্নয়নশীল দেশ উন্নয়নশীলই রয়ে যাবে, উন্নত আর হবে না।
অফলাইন
শামীম লিখেছেন:
নাহ্ এই ব্যবস্থায় আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি হতে চেষ্টা করবো না। আমার কী লাভ?
![]()
জনগণের উন্নতি করার জন্য জান প্রাণ দেবে কিসের আশায়? এমন মহাপুরুষ কোথায় পাবেন? সিস্টেমে প্রতিনিধিদের লাভ না দেখালে মেধাবী এবং সম্ভাবনাময়রা কখনই ওখানে যেতে চাইবে না ... ফলে দেশের মাথায় গোবরগণেশরাই যাবে। ফলে উন্নয়নশীল দেশ উন্নয়নশীলই রয়ে যাবে, উন্নত আর হবে না।
অবশ্যই যারা প্রতিনিধি হবে তারা আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাবে। তবে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।
মনে করুন কোন ব্যাক্তি প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হল, এরপরও সে যথারীতি তার কাজ (চাকুরী/ব্যবসা) চালিয়ে যাবে। প্রতিনিধি হিসেবে তার একমাত্র কাজ হল স্থানীয় লোকের কথা প্রশাসনকে জানানো, এরজন্য সে আর্থিকভাবে ও অন্যান্য ভাবে সুবিধা পাবে। তাহলে কেন সে হবে না?
আমরা নেতার কথা শুনি, কিন্তু প্রতিনিধি আমাদের কথা বলে। আমরা কেবল শুনতে নয়, বলতেও চাই।
আর এটা কেবল একটি বেসিক আইডিয়া। মূল ধারণা যদি ঠিকমত কার্যকর হয় তাহলে অন্যান্য সমস্যা সমাধান করা তেমন কঠিন কিছু না।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মহাকাল (২৭-০৪-২০০৮ ১২:৩০)
অফলাইন