কালো ব্যাজ ধারণ করতে পারি?পৃথিবীতে আধুনিক কোন শহর ট্রেন/ট্রাম, সাবওয়ে বা স্কাইট্রেন ছাড়া আছে বলে আমার মনে হয় না। এগুলো কেউ শখ করে বানায়নি। যানজট কমাতে এবং খরচের দিক দিয়ে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা বলেই প্রারম্ভিক বিশাল খরচ বহন করে এগুলো বানানো হয়। আমাদেরও যানজটক্লিষ্ট ঢাকা শহরেও mass public transport অর্থাৎ ট্রেন দরকার। আমাদের সরকার এদিকে এ্যাতদিন নজর দেয়নি মূলত দুটো কারণে।
১. শর্ষেতে ভুত আছে। সরকারি অনেক আমলা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাস/ট্রাক/সি.এন.জি/টেম্পু/লেগুনা ইত্যাদির ব্যাবসা রমরমা থাকবে না। কাজেই জনগন জাহান্নামে যাউক অসুবিধা নাই ... ব্যাবসা বলে কথা। নেতাদের ব্যাবসা রক্ষার খাতিরেই রাস্তাঘাট চকচকে করার জন্য যে ঢালাও বাজেট বরাদ্দ; রেলওয়ের পেছনে তাঁর ভগ্নাংশও নাই। (রেলওয়েতে ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা নিজেই বলেছে এই কথা ... অবশ্য সেটা আন্তনগর লাইনে মালগাড়ি চালানোর প্রসঙ্গে: প্রতিটি কার্গো ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসলে নেট লাভ হয় আড়াই লক্ষ টাকা। তাই সেটা বন্ধ করে শুধুমাত্র লাভহীন যাত্রীসেবা দিচ্ছে ... ট্রাক ব্যাবসাতো আর লাটে উঠতে দেয়া যায় না)
২. মাথামোটা এবং নির্বোধ কিছু গর্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার জায়গায় শিকড় গেড়ে বসেছে। বিশেষজ্ঞরা হাজার মাথা কুটলেও সহজ সমাধান ওদের মাথায় ঢুকবে না। আর ঢুকলেও পরবর্তী কার্যক্রম চালানোর দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস নাই ... শুধু শুধু আবার মানুষের হাস্যষ্পদ হওয়ার চেয়ে যা আছে তাই ভাল।
ইদানিং পত্রিকায় দেখলাম সরকার বলেছে যে, ঢাকা শহরে যানজট কমানোর জন্য পরিকল্পনা আছে ট্রেনের তবে সেটা মাটির তলা দিয়ে হবে। খবরটা পড়ে আমার ক্ষুদ্র অনভিজ্ঞ মস্তিষ্কে খটাশ করে একটা পোকা কামড় দিল ... সরকারের কি উচ্চতাভীতি আছে যে স্কাইট্রেন না করে মাটির তলার সাবওয়ে পছন্দ?!
স্কাইট্রেন না হয়ে সাবওয়ে হলে কী হবে ...
- যতদুর জানি টানেল-কাটার বলে যন্ত্র দেশের নির্মান শিল্পের ঠিকাদারদের কাছে অজানা বস্তু। সুতরাং আবার চলবে খুড়াখুড়ি। আগামী ১০ বছরের জন্য খানাখন্দকের কাঁদা-ধুলোয় চলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে জনগণকে।
- বন্যাপ্রবণ এলাকায় মাঝে মাঝেই লঞ্চডুবির মত বানের পানিতে ডুবে ট্রেনযাত্রীদের প্রাণ যাবে .... এটা অসম্ভব কিছু না।
- যেহেতু স্কাইট্রেনের চেয়ে সাবওয়েতে খরচ বেশি কাজেই কর্তাব্যক্তিদের পকেটে লাভের ভাগ বাড়বে।
- বিদ্যূৎ সংকটের কারণে মাঝে মাঝেই কবরে থাকার অনুভুতি হবে। ভুয়া মোল্লাদের দাপট বাড়ার একটা সম্ভাবনা আছে।
স্কাইট্রেনকে কেন সাবওয়ের চেয়ে পছন্দনীয় মনে হয়:
- আগেই বলেছি, স্কাইট্রেনের অবকাঠামোগত খরচ সাবওয়ের চেয়ে যথেষ্ট কম।
- স্কাইট্রেনের কাঠামোতে কিছুটা বিদ্যূৎ কম খরচ হবে। কারণ দিনের বেলায় বাইরের আলো স্টেশনগুলোকে আলোকিত করে রাখবে অনেকাংশে।
- স্কাইট্রেন করার জন্য অবকাঠামো প্রযুক্তি দেশের নির্মাণশিল্পের আয়ত্বে। যেখানে নদীর পানির মধ্যে ব্রীজ করে, সেখানে শুকনার উপরে উচু অবকাঠামো করা কি অদেখা টানেল-প্রযুক্তির চেয়ে অধিকতর কঠিন মনে হয়?
আসল কারণ সম্ভবত, অবাস্তব ও বেকুবি সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণকে প্যাঁচে ফেলা যেন, সেই জনদরদী দেশনেতা ও আমলা মালিকানাধীন পরিবহন বাণিজ্য বাঁধাগ্রস্থ না হয়।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শামীম (২৫-০৪-২০০৮ ১৬:৪১)
অফলাইন
অলস সময়ের পাড়েশামীম ভাই। আপনি অনেক ভাল একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। সাবওয়ে ট্রেন এর পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য মোটেই বাস্তব সম্মত নয়। এই দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বরঞ্চ স্কাইট্রেনই উপযুক্ত।

অফলাইন
আমি পথিক হব...হুমমম! সাবওয়েটা আমার একেবারেই পছন্দ না। স্কাইট্রেনই ভালো হবে মনে হয়। সৌরশক্তি দিয়ে স্টেশন গুলো চলতে পারে-দেশে তো সূর্যের আলোর কোনো অভাব নেই। আরেকটা জিনিস, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি তে লাইট রেইল (হাল্কা রেইল) বলে একটা সার্ভিস আছে। যানজট নিরসনে দারুন একটা ব্যাপার!
সুবিধা???
১. পরিবেশ বান্ধব-ধোঁয়ামুক্ত, তুলনামূলক নি:শব্দ
২. যেকোনো ধরণের নগর-পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নকশা করা সম্ভব,
৩. ব্যস্ত রুট গুলোতে বিপুল সংখ্যক যাত্রী (প্রায় ২৫০ জন) সহজে পরিবহণ করা যায়,
৪. রুট গুলো স্বতন্ত্র- সাধারণ রাস্তার সমান্তরালে কিংবা মাঝামাঝি দিয়েও গড়ে উঠতে পারে।
৫. পুরোপুরি কম্প্যুটার নিয়ন্ত্রিত-চালক বিহীণ
অফলাইন
নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???আমিও শামীম ভায়ের সাথে একমত।
স্কাইট্রেন সাবওয়ের চেয়ে ভাল। আর স্কাইট্রেনের জন্য সাবওয়ের চেয়ে কম সময় এবং জনবল লাগবে বলে আমার ধারণা।
অফলাইন
আমারও স্কাইট্রেন পছন্দ। আকাশে ট্রেন চললে ঢাকা শহরে একটা আধুনিক আধুনিক ভাব এসে যাবে, বিদেশের কাছে গর্ব করে বলতে পারবো আমার দেশও উন্নত!! 
মাটির নিচে ট্রেন চললে তো আর বাইরে থেকে দেখা যাবে না, তাই গর্ব করার মত কিছু থাকবেও না। এছাড়াও বাংলাদেশের ভূমিকম্প, বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যাও অনেক।
স্কাইট্রেনে ভূমিকম্প হলেও সমস্যা নাই। প্যারাস্যুট নিয়ে লাফ দিয়ে মাটিতে নামা যাবে 
অফলাইন
মেহেদী আকরাম লিখেছেন:
আমিও শামীম ভায়ের সাথে একমত।
স্কাইট্রেন সাবওয়ের চেয়ে ভাল। আর স্কাইট্রেনের জন্য সাবওয়ের চেয়ে কম সময় এবং জনবল লাগবে বলে আমার ধারণা।
স্কাইট্রেন হলে ভালো। জনবল বেশি লাগবে, বেশি সংখ্যক গরীব মানুষ কাজ পাবে।
অফলাইন
কালো ব্যাজ ধারণ করতে পারি?তানজিনা লিখেছেন:
স্কাইট্রেন হলে ভালো। জনবল বেশি লাগবে, বেশি সংখ্যক গরীব মানুষ কাজ পাবে।
কাজ পাবে এই নিশ্চয়তা দেয়া যাবে কি? অপরপক্ষে এ্যাতগুলো পরিবহন সংস্থার কাজের পরিসর ছোট হবে। বেশ কিছু লোক কাজ হারাবে।
তবে সেই সীমিত সংখ্যক মানুষ দিয়েই অনেক বেশি দক্ষতার সাথে সুশৃঙ্খলভাবে (!?) পরিবহন হবে। ট্রেনের সুবিধা হল যাত্রার সময়টা আগে থেকে জানা থাকে (সবক্ষেত্রে সত্য না, এতেও যানজট হয়; টোকিওর অভিজ্ঞতা - পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল ট্রেন নেটওয়র্ক নাকি ওটা)। বাসে বা অন্য গাড়িতে গেলে কোথায় কতটুকু যানজটে পড়বে সেটা অনেক বেশি অনিশ্চিত।
অফলাইন
আর কি হবে জানি না, তবে
- বর্ষার সময় ঢাকা শহরের পয়ঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেক ভালো হবে। এবং এই ট্রেন নিশ্চিত বন্ধ থাকবে।
- দেশের লোক জন অনেক ধার্মিক হয়ে উঠবে, কারন মাঝে মধ্যেই আন্ধার কবরের আজাবের নমুনা পাবে।
- জামাতী দের আক্রমন বৃদ্ধি পাবে।
অফলাইন