নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???হাজারো মানুষের ভিড় আর হুড়োহুড়িতে দুদিন এসে লাইনে দাঁড়িয়েও ওএমএসের চাল পাননি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নারিকেলবাড়ী গ্রামের হতদরিদ্র ফজল উদ্দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চাল বিক্রি করা হবে এমন খবর শুনে অনেক কষ্টে চার কেজি চালের জন্য এক শত টাকা জোগাড় করেন ৭৫ বছর বয়সী এ বৃদ্ধ। অনাহার কাটাতে হলে চাল পেতেই হবে। তাই আগের দিন বুধবার রাত ১০টায় পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা নিয়েই বৃদ্ধ ফজল চাদর মুড়ি দিয়ে চাল বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়ানোর নির্ধারিত বেষ্টনীতে অবস্থান নেন। অন্ধকার, জনমানবশুন্য সুনসান নীরব জায়গায় একা এভাবে বসে থাকতে দেখে অনেকেই তাকে পাগল ভেবে বসেন। একদিকে জঠরজ্বালা অপরদিকে মশার প্রচন্ড কামড়ে বৃদব্দ যখন অতিষ্ঠ সে সময় তিনি নজরে পড়েন এ প্রতিবেদকের। জ্বলে ওঠে ক্যামেরার ফ্লাশলাইট। ফজল উদ্দিন খবরের শিরোনাম হতে যাচ্ছেন- এ খবরে ছুটে আসেন স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার মহম্মদ আলী। রাতে এত আগে কেন লাইনে দাঁড়িয়েছেন? এমনতর প্রশ্নে ওই ওয়ার্ড কমিশনার বৃদ্ধকে জর্জরিত করে তোলেন। সঙ্গে চলতে থাকে বকাবকি আর গালিগালাজ। এ ধরনের আচরণের কারণে একপর্যায়ে তিনি অবশ্য স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদের মুখে পড়েন। পরে তিনি কথা দেন, সকালে প্রথমেই ওই বৃদ্ধ ফজল উদ্দিনকে চাল দেওয়া হবে। কমিশনারের এ আশ্বাস পেয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরে যান ফজল উদ্দিন।
ফজল উদ্দিন জানান, দুদিন অর্ধাহারে অনাহারে থেকে কর্জ করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আধা কেজি কাঁচা গম নিয়েছিলেন। বুধবার দুপুরে সেই গম ভেজে আটার গোলা বানিয়ে কোনোমতে পরিবারের লোকজন আহার সেরেছেন; কিন্তু এরপর চলবে কিসে? পরিবারের অভুক্ত মানুষগুলোর মুখের অল্পু জোগানোর পথ কোথায়? এসব ভেবেই ওইদিন রাত ৯টায় বাড়ি থেকে বের হন তিনি। তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে রাত ১০টায় পৌঁছান কাচারিপাড়া ওএমএস কেন্দ্রের সামনে। আগে না এলে লাইনের সামনে দাঁড়াতে পারবেন না। ফলে কপালে চালও জুটবে না- এই আশঙ্কায় ১০ ঘণ্টা আগেই বিনিদ্র রাত কাটিয়ে দিতে তিনি বসে পড়েন বাঁশ দিয়ে তৈরি সরু বেষদ্বনীর ভেতরে।
জানা গেছে, অবশেষে কাল সকালে ফজল উদ্দিনের ভাগ্যে চাল জুটেছে। লাইনে না দাঁড়িয়েও সরকার নির্ধারিত মহৃল্যে চার কেজি চাল নিয়ে তিনি ফিরে গেছেন পরিবারের কাছে।
সূত্র: সমকাল (১৮-০৪-০৮)
অফলাইন
TEST FINISHEDনিম্নমধ্যবিত্তদের পোলাপান নাকি স্কুল-কলেজ বাদ দিয়া চাল পাবার লাইনে দাঁড়াচ্ছে 
এই দেশের আর কি হবে?? বলেন দেশের ভবিষ্যৎগুলারে আমরা নিজ হাতে নষ্ট করছি ।
অফলাইন