কথাটা যে সবসময়ের জন্য যে ঠিক, তা কিন্তু নয়। সকল নক্ষত্র মারা গেলেই সে ব্ল্যাক হোল হয় না, কেউ হয় সাদা বামন(White Dwarf), কেউ হয় নিউট্রন তারা(Neutron Star) আবার কেউ ব্ল্যাক হোল। কোনটা হবে সাদা বামন, কোনটা হবে নিউট্রন তারা আর কোনটা হবে ব্ল্যাক হোল - কেন হবে, কিভাবে হবে এটাই আলোচ্য বিষয়। তার আগে একটু বলি, 'ব্ল্যাক হোল' হচ্ছে এমন এক মৃত নক্ষত্র যার Event Horizonএ আলো প্রবেশ করলেও বের হয়ে আসতে পারে না - এতই প্রচন্ড Gravitational Forceএর অধিকারী 'ব্ল্যাক হোল'।(Event Horizon: পৃথিবীর যেমন বিষুবরেখা, 'ব্ল্যাক হোল' এর তেমনি Event Horizon)
একটি নক্ষত্রের জন্মঃ মৃত্যুর কথা বলার আগে জন্মগ্রহনের কথাটা সেরে ফেলি।
প্রচুর পরিমান গ্যাসীয় পদার্থ (Large cloud of Gas and Dust), যার বেশির ভাগই হচ্ছে হাইড্রোজেন গ্যাস, Gravitational Attraction এর কারণে নিজেদের মধ্যে পতিত হতে থাকে তখন একটি নক্ষত্রের জন্মের শুরু হয়। ধীরে ধীরে এই গ্যাসের মেঘ যখন আরো ঘনীভূত হতে থাকে, তখন মেঘের কেন্দ্রে(Core of Clouds) প্রচন্ড তাপের উতপত্তি ঘটে। এই ঘটনার কয়েক মিলিয়ন বছর পর হাইড্রোজেন গ্যাসকে জ্বালানী হিসাবে ব্যাবহার করে Nuclear Reaction ঘটে। এতই প্রচন্ড Nuclear Reaction ঘটে যে, মেঘের কেন্দ্র থেকে প্রচন্ড শক্তি আর আলো-কনিকা নিয়ে মেঘের 'বাইরের স্তর' ভেদ করে বেরিয়ে আসে। তখন কেন্দ্রকে দেখায় একটা সাদা ও গরম একটি জায়ান্ট বলের মতো - যাকে আমরা বলি নক্ষত্র।
(চলবে - )
-----------------------------------------
তথ্যসূত্রঃ A Brief History of Time - Stephen Hawking
Black Holes - Dan Nardo
Introduction to Cosmology - Matts Roos
অফলাইন
gravitational = অভিকর্ষজ
ইভেন্ট হরাইজনের সাথে পৃথিবীর বিষুবরেখার তুলনাটা ঠিক হলো না। বিষুবরেখা হচ্ছে পৃথিবীকে দুভাগ করা একটা বৃত্ত, যা পরিমাপ করা হয় দুই মেরু দূরত্বের অর্ধেক হিসাবে। যেকোন গ্রহেরই বিষুবরেখা/নিরক্ষরেখার সংজ্ঞা এটা।
অন্যদিকে ইভেন্ট হরাইজন হচ্ছে সীমানা (boundary)। যা কৃষ্ণগহবরের চতুর্দিক ঘিরে একটা গোলকের মত। একে তুলনা করা যায় পৃথিবীর আবহাওয়ামণ্ডলের সাথে।
আর একটা কথা, (চলবে)-টা কি আর একটা টপিক দিয়ে চালাবে, নাকি এই টপিকেই নতুন পোস্ট করবে। আমার পছন্দ এই টপিকেই পরপর পোস্ট করা। তাহলে সবগুলো একসাথে থাকবে। আলাদা টপিক করলে খুঁজে পেতে সমস্যা হবে।
অফলাইন
জো হূকুম।
বিষুব রেখা বলার কারন Hawking তার বইতে Space-Time দিয়ে যখন Black Holeএর 2-Dimensional চিত্রটা একেছেন (Down Pore to Singularity)সে ক্ষেত্রে বুঝতে হলে, Event Horizon কে বিষুবরেখা হিসাবে ধরলে ভাল হয়। আর তাছাড়া গোলকের তো আর একটা বা নির্দিষ্ট কোন প্রস্থচ্ছেদ হয় না। হাজার হাজার প্রস্থচ্ছেদ করা যায়। আর আবহাওয়ামণ্ডল ধরলে তাকে তো Ergosphere ধরা উচিত।
যাই হোক Singularity আমি এখানে বর্ণনা করব না।
অশেষ ধন্যবাদ নাসিম ভাই। আরো কমেন্টস চাই।
অফলাইন
টাইম-স্পেস চতুর্থ মাত্রা। এটাকে দুই মাত্রায় প্রকাশ করাটা কঠিন। শোয়ার্জচাইল্ড ব্যাসার্ধ কৃষ্ণগহবরের চতুর্দিকেই প্রযোজ্য, তাই এটা বৃত্ত না হয়ে গোলক হবে। হ্যাঁ, আবহাওয়ামন্ডল বলতে এর শেষ সীমানাই বুঝিয়েছি। আর্গোস্ফ্যায়ার নামটা মনে ছিল না। ঠিক, সিঙ্গুলারিটির (অনির্ণায়িত!? 
) জন্য আরেকটা টপিক এখানে না।
অফলাইন
বিষুবরেখা বললে ব্যাপারটা পুরো গোলমেলে হয়ে যায়। মানে কিছুই মেলে না।
সাধারণ পাঠকদের (যেমন আমি) জন্য আবহাওয়া মন্ডল বললেই ভাল বোঝা যায়।
অনলাইন
অলস সময়ের পাড়েস্পেস ডট কম থেকে ব্ল্যাক হোল এর উপর একটা ভিডিও দেখেছিলাম। অনেক জটিল ছিল। যাইহোক, রসি ভাই, আরো লেখার জন্য অপেক্ষা করতেছি।

অফলাইন
মাঝখান দিয়ে একটি লিঙ্ক দিয়ে রাখি। স্টিফেন হকিং-এর পাবলিক লেকচার। হকিং-এর একটি অসাধারণ লেখা পড়েছিলাম এখান থেকেঃ ডাস গড প্লে ডাইস?
ভালো লাগছে, রসি ভাই চালিয়ে যান।
অফলাইন
!!! ইন্ট্রাপিড আইবেক্স !!! এই ব্যাপার গুলাতে এতদিন কিছু জানতাম না ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য
জটিল চলছে, চলুক
অফলাইন
মূল টপিক-২
একটি সদ্যজন্মানো নক্ষত্রের Coreএ বা কেন্দ্রে এতই জ্বালানী (হাইড্রোজেন গ্যাস) জমা থাকে যে তা পুড়িয়ে যে Nuclear Reaction ঘটিয়ে সে নিশ্চিন্তে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর তাপ এবং আলো উতক্ষিপ্ত করতে পারে। এত লম্বা সময় ধরে বেঁচে থাকার কারন দুটো -
১. এর প্রচন্ড Garvitational Force যা অন্তর্মুখী বল হিসাবে কাজ করে এবং
২. এর কেন্দ্র থেকে উতপাদিত বিশাল পরিমান শক্তি (আলো, তাপ এবং Tiny Particles) যা বহির্মুখী বল হিসাবে কাজ করে।
এই দুই ভিন্নমুখী বলের সামঞ্জস্যতার কারনেই এরা এত দিন টিকে থাকে।
কিন্তু একদিন যখন জ্বালানী শেষ হতে থাকবে তখন কি হবে?
চন্দ্রশেখর লিমিট/ চন্দ্রশেখর ভরঃ ১৯২৮ সালে এক ভারতীয় গ্র্যাডুয়েট Subrahmanyan Chandrasekhar, ব্রিটিশ মহাকাশবিদ Sir Arthur Eddington এর তত্ত্বাবধানে ক্যামব্রিজে যায় Einstein's General Reletivityএর উপর পড়াশুনা করতে। পরবর্তীকালে এই চন্দ্রশেখর নক্ষত্রদের একটি ভাগ করে তাদের ভরের উপর ভিত্তি করে। এটাকে বলে চন্দ্রশেখর ভর = 1.43 * (1.989 * 10^30) কেজি।
উল্লেখ্য (1.989 * 10^30) কেজিকে বলে Standard Solar Mass যা হচ্ছে আমাদের সূর্যের ভর.
(চলবে - )
-----------------------------------------
তথ্যসূত্রঃ A Brief History of Time - Stephen Hawking
Black Holes - Dan Nardo
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রসি (১৮-০৪-২০০৮ ১৯:০২)
অফলাইন
মূল টপিক-৩
সাদা বামন (White Dwarf) এর জন্ম:
নক্ষত্রের ভর যদি চন্দ্রশেখর ভরের (= 1.43 * (1.989 * 10^30) কেজি) সমান বা কম হয় তাহলে তার শেষ পরিণতি হবে সাদা বামন।
ধাপগুলো হচ্ছেঃ
১। হাইড্রোজেন গ্যাস প্রায় শেষ পর্যায়ে
২। নক্ষত্র তখন Red Giantএ পরিণত হবে। এই পর্যায়ে Nuclear Reaction নক্ষত্রের কেন্দ্রে না ঘটে এর বাইরের স্তরে ঘটতে থাকে। একারনে এটি আরো বেশী লাল বর্ণ ধারন করে বলে একে Red Giant বলে।
৩। হাইড্রোজেন শেষ- হিলিয়ামই এখন শেষ জ্বালানী।
৪। অবশেষে কোন বহির্মুখী বল না থাকার কারনে Garvitational Force প্রচন্ড আক্রোশে পুরো নক্ষত্রের ভরটাকে কেন্দ্রের দিকে টানতে থাকে। কল্পবিজ্ঞানের লেখক আইজাক আসিমভের ভাষায় "Gravitation has been waiting,.. pulling patiently and tirelessly for many billions of years, and finally the mass of the Giant Red Star will start to shrink, compelled by the Gravity's mighty hand."
৫। এতই সংকুচিত হয় তা প্রায় পৃথিবীর সমান হয়ে যায় এবং অনুজ্জ্বল সাদা বলের মত জ্বলতে থাকে।
কিন্তু ভর? হাহাহাহা । এক চা-চামচ পরিমান সাদা বামনের মাটির ভর ১ হাজার টনের মতো।
আর Gravity? পৃথিবীর Escape Velocity হচ্ছে ৭মাইল/সেকেন্ড। আর সাদা বামনের Escape Velocity হচ্ছে ৩,০০০মাইল/সেকেন্ড। এবার অনুমান করুন তো এর Gravity কত হতে পারে?
(চলবে - )
-----------------------------------------
তথ্যসূত্রঃ A Brief History of Time - Stephen Hawking
Black Holes - Dan Nardo
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রসি (১৮-০৪-২০০৮ ১৯:০২)
অফলাইন
ধন্যবাদ স্বপ্নচারী ভাই, গোপন বার্তা পাঠানোর জন্য। চন্দ্রশেখর ভরের exp বদলিয়ে দিলাম (^).
এইজন্যই তো বলি, আইনস্টাইন কি কারনে একজন Mathematicianকে সবসময় সাথে সাথে রাখতেন। 
অফলাইন
রসি লিখেছেন:
কিন্তু ভর? হাহাহাহা । এক চা-চামচ পরিমান সাদা বামনের মাটির ভর ১ হাজার টনের মতো।
এর কারণ মনে হয়,
পরমানুর নিউক্লিয়াস ও ইলেক্ট্রনের মধ্যবর্তি দুরত্বের সংকোচন। কারণ একমাত্র এরকম ক্ষেত্রেই ভর এই হারে বাড়তে পারে।
আন্দাজ করলাম।
অনলাইন
রসি কি ঘুমাইয়া গ্যালা? বাকি অংশ কই?
অফলাইন
স্বপ্নচারী লিখেছেন:
রসি কি ঘুমাইয়া গ্যালা? বাকি অংশ কই?
বস, গতকাল পর্যন্ত পড়া-লেখার চাপে ছিলাম। এই যে এখুনি লেখা শুরু করতাসি।
অফলাইন
মূল টপিক-৪
নিউট্রন তারা , সুপার-নোভা, পালসার এর জন্মঃ
আর যদি নক্ষত্রের ভর চন্দ্রশেখর ভরের (= 1.43 * (1.989 * 10^30) কেজি) এর থেকে বেশি হয় - দ্বিগুণ, ৫ গুণ, ৮ গুন হয় তাহলে সেই নক্ষত্রের পরিনতি হবে নিউট্রন তারা এবং বায়োপ্রডাক্টের মতো সৃষ্টি হয় সুপার-নোভার।
ধাপগুলো প্রথমদিকে সাদা বামনের(White Dwarf) মতোই। কিছুটা কপি-পেস্ট মারলাম।
১। হাইড্রোজেন গ্যাস প্রায় শেষ পর্যায়ে
২। নক্ষত্র তখন Red Giantএ পরিণত হবে। এই পর্যায়ে Nuclear Reaction নক্ষত্রের কেন্দ্রে না ঘটে এর বাইরের স্তরে ঘটতে থাকে। একারনে এটি আরো বেশী লাল বর্ণ ধারন করে বলে একে Red Giant বলে।
৩। হাইড্রোজেন শেষ- হিলিয়ামই এখন শেষ জ্বালানী।
Begelman-Rees থিওরী অনুযায়ী
৪। জ্বালানী হিসাবে হিলিয়াম শেষ - তারপর কার্বন - তারপর অক্সিজেন - সবার শেষে লোহাতে এসে সব বিক্রিয়া শেষ হয়। "IRON is the end of Nuclear road for a Star."
৫। সেকেন্ডের ব্যবধানে নক্ষত্রের কেন্দ্রের ঘনত্ব এতই বেড়ে যায় যে, প্রোটন এবং ইলেক্ট্রন গুলো Discharged হয়ে চার্জহীন নিউট্রনে পরিনত হয়। একারনেই একে তখন নিউট্রন তারা বলা হয়।
৬। নক্ষত্রের কেন্দ্র এবং বাইরের স্তরের ঘনত্বের বিশাল পার্থক্যের কারনে, বাইরের স্তর প্রকান্ড বিস্ফোরন ঘটিয়ে কেন্দ্র থেকে আলাদা হয়ে যায়। এই বিচ্ছেদ্য গ্যাসীয় আবরন দিয়ে ঢাকা অংশগুলোকেই বলে সুপার-নোভা।
৭। পালসার, নিউট্রন তারাই - যারা নিজের অক্ষেই প্রচন্ড গতিতে পাক খেতে থাকে অতিমাত্রার চুম্বকীয় বলের কারনে এবং প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে তড়িত-চুম্বকীয় রেডিয়েশেন বের করতে থাকে।
১ টেবিল চামচ নিউট্রন তারার মাটির ভর কয়েক ট্রিলিয়ন টন।
Escape Velocity- ১,২৫,০০০ মাইল/সেকেন্ড । উল্লেখ্য, পৃথিবীর Escape Velocity হচ্ছে ৭মাইল/সেকেন্ড। আর সাদা বামনের Escape Velocity হচ্ছে ৩,০০০মাইল/সেকেন্ড। সুতরাং কেবল মাত্র আলোর পক্ষেই সম্ভব নিউট্রন তারার Gravitational Force অগ্রাহ্য করে বের হয়ে আসার কারন আলোর বেগ হচ্ছে ১,৮৬,০০০ মাইল/সেকেন্ড।
(চলবে - অবশেষে ব্ল্যাক হোল)
-----------------------------------------
তথ্যসূত্রঃ A Brief History of Time - Stephen Hawking
Black Holes - Dan Nardo
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রসি (২২-০৪-২০০৮ ১৫:২৬)
অফলাইন
অলস সময়ের পাড়েহুমমম... ভাল ভাল ...... জলদি শেষ করেন।

অফলাইন