আর ভাল লাগে না!এডসেন্স তো ঠিকানা ভেরিফিকেশনের জন্য করে। আমার একাউন্টও এটা করেছে। কিন্তু পেপাল বড়ই ঝামেলার। আমার একাউন্ট ব্লক করার কারণ বলেছে, তারা বিশ্বাস করে আমার একাউন্টে অন্য কেউ প্রবেশ করেছে। সেজন্য ক্রেডিট কার্ড দিতে হবে। এটা কোন কথা হল? অন্য কেউ যদি প্রবেশ করেই থাকে তাহলে তো কার্ড দেয়ার প্রশ্নই আসেনা।
পেপালের অফিস বাংলাদেশে থাকলে কিছু গাইল দিতাম ওদেরকে যেয়ে। ভাগ্য*ভাল* নেই।
; যদি ব্যাংক একাউন্ট লোপাট হয়ে যায়
!অফলাইন
হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:
এডসেন্স তো ঠিকানা ভেরিফিকেশনের জন্য করে। আমার একাউন্টও এটা করেছে। কিন্তু পেপাল বড়ই ঝামেলার। আমার একাউন্ট ব্লক করার কারণ বলেছে, তারা বিশ্বাস করে আমার একাউন্টে অন্য কেউ প্রবেশ করেছে। সেজন্য ক্রেডিট কার্ড দিতে হবে। এটা কোন কথা হল? অন্য কেউ যদি প্রবেশ করেই থাকে তাহলে তো কার্ড দেয়ার প্রশ্নই আসেনা।
পেপালের অফিস বাংলাদেশে থাকলে কিছু গাইল দিতাম ওদেরকে যেয়ে। ভাগ্য*ভাল* নেই।
পেপালের অফিস বাংলাদেশে থাকলেতো কোন ঝামেলাই হত না।
আপনার পেপাল অ্যাকাউন্ট যত ভেরিফাইড হবে আপনার লিমিটেশন তত কমবে।
আমারটা শুধু ক্রেডিট কার্ড ভেরিফাইড।
ঠিকানা ভেরিফাই না করলেও চলবে। যাদের অনেক বেশি টাকার ট্রান্জেকশন হয় তাদের ঠিকানা ভেরিফাই করতে হবে।
সাধারণ কাজের জন্য ক্রেডিট কার্ড যথেষ্টর চেয়ে অনেক বেশি।
অফলাইন
আর ভাল লাগে না!

আজকে দিনটাই চমৎকার ভাবে শুরু। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে দেখলাম পেপাল থেকে মেইল। আমি আমার একাউন্টে যেসব কাগজ পত্র পাঠিয়েছে সেগুলো তারা গ্রহন করেছে। আমি আসলে sales dept দিয়ে একাউন্ট খুলে ছিলাম। একাউন্ট ব্লক করে ওরা যখন ক্রেডিট কার্ড চাইল তখন আমি বললাম আমি তো না বুঝে আমার বিজনেস নামে একাউন্ট খুলেছি। কিন্তু এই নামে তো ক্রেডিট কার্ড নাই। তাই আপনারা আমার নাম পরিবর্তন করে দিলে আমি ক্রেডিট কার্ড যুক্ত করতে পারব। ওরা তখন নামের প্রমানপত্র চাইল।
ভাগ্যিস আমি অস্ট্রেলিয়া দিয়ে একাউন্ট টি খুলেছিলাম। এরপর ভাইয়াকে অনুরোধ করে ভাবীর ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ব্যাংক স্টেটম্যান্ট কাগজ পত্র পাঠিয়ে দেই। তারা আজকে সকালে ইমেইল পাঠিয়েছে যে তারা নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে।
একটু আগে মেইল পেলাম তারা একাউন্ট আনব্লক করেছে। একাউন্টে ঢুকে এইমাত্র নিশ্চিত হলাম। অতএব,আমার ২৩৫ ডলার এখন মুক্তি পেল।
কত ভাল লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না। অনেক কষ্ট করে করা সফটওয়্যার বিক্রির টাকা ছিল এগুলো।
আজকের বড় গিফট এটাই
।
; যদি ব্যাংক একাউন্ট লোপাট হয়ে যায়
!অফলাইন
কালো ব্যাজ ধারণ করতে পারি?বাংলাদেশ থেকে অনলাইন লেনদেনের সাপোর্ট সহ ক্রেডিট কার্ড করা যায়। কিছুক্ষণ আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সেলস থেকে একজন ভদ্রলোক এসেছিলেন উনি জানিয়ে গেলেন।
- তবে এজন্য বিদেশ ভ্রমন করে আসার একমাসের মধ্যে আবেদন করতে হয়। প্রসেসিং-এ সময় লাগে। কাজেই ঘুরে এসেই আবেদন করা ভাল। এমনকি ভারত ভ্রমন করে আসলেও করা যায়!
- প্রথমে কমপক্ষে ৫লক্ষ টাকা দিয়ে একাউন্ট (RFCT একাউন্ট) খুলতে হয়। পরে সেই টাকা আবার তুলে আনা যায়।
বিস্তারিত জানতে ভদ্রলোকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (কিরণ)
সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, সেলস
০১৭১৯-৬৬২০২৫, ০১৯১২-৬৮২৬৪১
নিজ দ্বায়িত্বে করুন। কোনরূপ লেনদেনের জন্য আমি দায়বদ্ধ না।
অফলাইন
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড করা যায় ভাল কথা। কিন্তু তাই বলে আমাকে বিদেশ ভ্রমন করতে হবে কেন?
এটাই হলে বাংলাদেশ। একটা না একটা প্যাঁচ থাকবেই।
আরও তো আছে সন্দেহ, প্রশ্ন।
এসব মানুষ ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং এসবকে যে কি মনে করে।
এটা ৩য় কারণ যার জন্য আমি দেশ ছাড়া দরকার বলে মনে করি।
অফলাইন
আপনাদের লেখা পড়ে পুরোনো সমস্যা নিয়ে আবার ভাবতে বসলাম। আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে এই সমস্যা নিয়ে অনেক ভাবতাম। আজও ভাবি। ভাবনাগুলো দেশ নিয়ে, এবং আপনারা যারা দেশে বসে এত সমস্যার আর প্রতিকুলতার মাঝে কাজ করছেন তাদের নিয়ে। আমি এই নিয়ে পে-পেল কে মেইলও করেছিলাম বেশ আগে। ওদের উত্তর ছিল ওরা বাংলাদেশ কে নিয়েও পরে কাজ করবে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার এখন সে সমস্যা নেই। ইংল্যান্ডের বড় বড় ব্যঙ্কের ক্রেডিট কাড নিয়ে ঘুরি। পে-পেল এও ভেরিফাইড একাউন্ট আছে। ইচ্ছে মতো কেনা-কাটা করতে পারি। তবে এটার যে একটা সমাধান আমাদের বের করতেই হবে।
আমাদের দেশের নীতি-নির্ধারকগন এই সমস্যা বুঝবেন সে আশা করি না। অথচ, বাস্তবত হলো কাজটা উনাদেরকেই করতে হবে। আমি বহুদিন থেকেই ভাবছিলাম, দেশের জন্য শুধু দেশের গন্ডির ভিতরে যদি এমন কোনো কার্ড বের করা যেত তাহলে হয়তো দেশের ব্যঙ্কগুলোকে এক করে একটি ইন্টারনাল নেটওর্য়াক গড়ে নেয়া যেত। মন্দের ভালোর মত শুনালেও এটা দিয়ে অন্তত দেশের ই-কমাসে গতি আনা যেত।
এর জন্য ব্যপক মিডিয়া কভারেজ প্রয়োজন। এরপর প্ল্যটফর্ম তৈরী হোলে একটা বাস্তবধর্মী সমাধান সরকারি পর্যায়ে দিয়ে দেখা যায়।
আপনাদের কি ভাবনা?
অফলাইন
শিপলু লিখেছেন:
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড করা যায় ভাল কথা। কিন্তু তাই বলে আমাকে বিদেশ ভ্রমন করতে হবে কেন?
এটাই হলে বাংলাদেশ। একটা না একটা প্যাঁচ থাকবেই।
আরও তো আছে সন্দেহ, প্রশ্ন।
কারণ দেশের টাকা আপনি বিদেশে পাঠাবেন তা হবেনা। তাই বিদেশ থেকে যখন আসবেন তখন আপনাকে বলতে হবে (বা বলার সুযোগ হবে) যে আপনি বিদেশ থেকে ডলার এনেছেন এবং সেই ডলারের বিপরীতে একটা ক্রেডিট কার্ড চাই। নিয়মের বেড়াজাল, ইচ্ছে করলেই সবাই ভাঙতে পারে। তবুও নিয়ম।
অফলাইন
@প্রকৃতিপ্রেমিক
কেন? বাংলাদেশে বসে কি ডলার আসে না?
কি যে বাজে একটা পরিস্থিতি। বোঝানো সম্ভব না। crazytopu এটি হয়তো চার বছর আগে ফেস করেছেন।
যাই হোক সুখের সংবাদ moneybooker.com এখন এসব সুবিধা দিচ্ছে।
বাংলাদেশেও টাকা পাবেন। 
অফলাইন
কালো ব্যাজ ধারণ করতে পারি?শিপলু লিখেছেন:
@প্রকৃতিপ্রেমিক
কেন? বাংলাদেশে বসে কি ডলার আসে না?
কি যে বাজে একটা পরিস্থিতি। বোঝানো সম্ভব না। crazytopu এটি হয়তো চার বছর আগে ফেস করেছেন।
যাই হোক সুখের সংবাদ moneybooker.com এখন এসব সুবিধা দিচ্ছে।
বাংলাদেশেও টাকা পাবেন।
এদের লিস্টে তো বাংলাদেশের নাম দেখলাম না।
আপনি কি লেনদেন করেছেন? সম্ভব হলে আমি এখনই একটা বই কিনতে চাই অনলাইনে.... সম্ভব কি?
অফলাইন
কি বলেন? নাম নাই।
যাই হোক,
moneybooker.com আমার অ্যাড্রেস ভেরিফাই করেছে। মানে বাসায় চিঠি পাঠিয়েছিল। তাতেই আমি ভেরিফাইড।
পেপালে তো বাংলাদেশের নামই নেই।
মানিবুকারে অ্যাড্রেস সেকশনে বাংলাদেশের অপশন আছে।
আমার ধারণা এটা দিয়ে এখন বাংলাদেশে আইনসঙ্গত ভাবে টাকা আনা যাবে।
সমস্যা একটাই।
মানিবুকার ইংল্যান্ড বেসড, মুল কারেন্সি ইউরো।
আর,
পেপাল আমেরিকা বেসড, মুল কারেন্সি ডলার।
মানিবুকার আমেরিকায় খুব বেশি চলে না।
তবে সময় লাগবে না আশা করি। মাত্র তো শুরু হল।
অফলাইন
যাক একটা বিকল্প তো পাওয়া গেল
অফলাইন
আমার টপিক নিয়ে তেমন কোনো মন্তব্য পেলাম না। সে যাই হোক আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা রইলো। যদি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সাহায্য করতে পারি তো নিশ্চয় জানাবেন।
অফলাইন
শামীম লিখেছেন:
বাংলাদেশ থেকে অনলাইন লেনদেনের সাপোর্ট সহ ক্রেডিট কার্ড করা যায়। কিছুক্ষণ আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সেলস থেকে একজন ভদ্রলোক এসেছিলেন উনি জানিয়ে গেলেন।
আমার জানামতে ন্যাশনালও দেয়, লিমিট কম। একাউন্ট ওপেন করতে অনেক হ্যাপা। আর আমি এখনও আমাদের প্রাইভেট ব্যাংকগুলোকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারি না। ডিরেক্টরা খুব বেশী মেনুপুলেটিভ।
আলমগীর
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আলমগীর (০৬-০৩-২০০৮ ১৯:২১)
অফলাইন
crazytopu লিখেছেন:
আমার টপিক নিয়ে তেমন কোনো মন্তব্য পেলাম না। সে যাই হোক আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা রইলো। যদি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সাহায্য করতে পারি তো নিশ্চয় জানাবেন।
আপনি যে চিন্তা করছেন তা আরো অনেক ব্যবসায়ী করে রেখেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রজেক্ট আছে। ছয়টা ব্যাংক মিলে রেডিক্যাশ হয়েছে।
বিদেশের মতো পর্যায়ে নিতে গেলে অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
আলমগীর
অফলাইন
রেডিক্যাশ আমি দেখেছি তবে এটা দিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা কিভাবে করা যেতে পারে সেটা নিয়ে কি কেউ ভেবেছে? আদৌ কি যাবে?
অফলাইন
crazytopu লিখেছেন:
রেডিক্যাশ আমি দেখেছি তবে এটা দিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা কিভাবে করা যেতে পারে সেটা নিয়ে কি কেউ ভেবেছে? আদৌ কি যাবে?
অনলাইনে কজন কেনা কাটা করে?
ব্যবসা-বানিজ্য ছাড়া ১,০০০ জনের হদিস (নাম নয়) দিতে পারবেন?
অনেক মানুষ অনলাইনে কেনা কাটা করলে ঠিকই এটা হয়ে যেত।
অনলাইনে মানুষ কেনা কাটা করবে কেন সেটাও একটা কথা।
আমি যদি ই-বে থেকে প্লেস্টেশন২ কিনি, এটার কি নিশ্চয়তা আছে যে আমার হাতে এসে পৌছুবে?
কিছুদিন আগে শুনলাম বাইরের কোন এক সফ্টওয়্যার কোম্পানি থেকে বাংলাদেশের কোন এক নামি দামী প্রতিষ্ঠান একটি সফটওয়্যার কেনে।
সেটা সিডি মাধ্যমে ডাক মারফত বাংলাদেশে আসার পর আটকে রাখা হয়।
কারণ?
কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন ছিল, "এটার ভিতর কি আছে যে এটার জন্য এত বেশি ট্যাক্স দেয়া হয়েছে?"। 
যদিও তার এটা জানার কোন দরকার নেই। কারণ ট্যাক্স অলরেডি দেয়া হয়ে গেছে।
সিস্টেমটা এমন হয়ে গেছে। 
অফলাইন
আপনার কথার সাথে সম্পুর্ন একমত আমি। তবে, আমার আগের পোষ্টের ধারাবাহিকতায় বলবো শুধু আভ্যন্তরিনভাবেও যদি একটা সমাধান বের করা যায়, দেশের মধ্যেই অনলাইন কেনাকাটায় গতি আনা যেত।
অফলাইন
আমার মনে হয় সবাই মিলে যদি paypal এ email করে যোগাযোগ করে এই সমস্যার কথা বলেন তাহলে তারা হয়তো কিছু করেত পারে।
অফলাইন
alladin212 লিখেছেন:
আমার মনে হয় সবাই মিলে যদি paypal এ email করে যোগাযোগ করে এই সমস্যার কথা বলেন তাহলে তারা হয়তো কিছু করেত পারে।
আমি এতে জোরালো সহমত জানাতে চাই। অনেক চেষ্টা করেও এটা একাউন্ট করতে পারলাম না। হায়রে আমার দেশ।
অফলাইন
মুঠোফোনে সুডোকু খেলছিমাসুম লিখেছেন:
alladin212 লিখেছেন:
আমার মনে হয় সবাই মিলে যদি paypal এ email করে যোগাযোগ করে এই সমস্যার কথা বলেন তাহলে তারা হয়তো কিছু করেত পারে।
আমি এতে জোরালো সহমত জানাতে চাই। অনেক চেষ্টা করেও এটা একাউন্ট করতে পারলাম না। হায়রে আমার দেশ।
লাভ নেই কারন বঙ্গদেশ সম্পর্কে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ।
সামহোয়্যারের এই পোস্ট পড়ুন-
বিস্তর বাৎচিতের পর পল ডলিনস্কি নামের আমেরিকান ভদ্রলোক ইমেইলে জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম এবং এই শেষ। আর কখনো কোনো জিনিস পাঠাবে না তারা। বিশ্বের কোথাও নাকি এই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি তাদের কম্পানিকে।
ইত্যবসরে ডিএইচএল ওরফে হোমবাউন্ড প্যাকার্স থেকে আমাকে ফোন করে জানাল, আমেরিকা থেকে আমার নামে আসা এইচপি নোটবুকটি কাস্টমস থেকে ছাড়ানোর জন্য সবমিলিয়ে ৩৫ হাজার টাকা লাগবে। ওই লোক বারবার 'স্যার' ডাকছিল আমাকে। মাল্টিন্যাশনাল চাকরগুলো যাকে-তাকে স্যার ডাকে। পারলে পায়ে ধরে। সুতরাং এই সম্বোধনে গর্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং অংক শুনে আমি ঘেমে উঠি। ৫৫ হাজার টাকার মূল্যের (ঘোষিত মূল্য) নোটবুক আরো ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে খালাস করার মানেটা কী?
এক কলিগের পরিচিতজন- এই সূত্র ধরে আমি বিমানবন্দরে এক সহকারী কাস্টমস কমিশনারের অফিসে যাই। গিয়ে শুনি, উনি রাতে ডিউটি করেছেন, তাই আসতে উনার দেরি হবে। নিচতলার বারান্দায় নেমে অপেক্ষা করতে থাকি। মলিন মুখ দেখেই বোধহয় সিএন্ডএফ এজেন্সির এক লোক নিজে যেচে আমার সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। কাহিনী শুনে উনি বললেন, কমিশনার ধরে আপনি কাজ করতে পারবেন না। আমাদের ফার্মের মাধ্যমে আসলে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে কাজটি তিন দিনের মধ্যে করে দেব। কোনো সমস্যা নেই। আমি বলি, কিন্তু আমার সমস্যা আছে। ৫৫ হাজার টাকার জন্য আরো ২৫ হাজার টাকা আমি কেন দেব? ওই লোক হাসে। আমাকে ভাবতে বলে অন্য দিকে যায়। আমি অপেক্ষা করতে থাকি কমিশনারের আশায়।
শেষমেশ কমিশনার আসেন দুপুর দুইটার দিকে। আমি তড়িঘড়ি ওপরতলায় উঠে পিয়ন মারফত নেমকার্ড পাঠাই। কিন্তু কতো লোক আসে যায়, আমারই শুধু ডাক আসে না। বহু পরে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলল। সব শুনে সহকারী কমিশনার বললেন, আপনি সিএন্ডএফ এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ওদের মাধ্যমেই আপনাকে আসতে হবে। এর বাইরে আমার পক্ষ থেকে আর কিছু করার সুযোগ নেই।
আমি তাকে অফিসের ব্যস্ততার কথা বোঝানোর চেষ্টা করি। বলি যে, কাস্টমসে প্রতিদিন আসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আজকের মধ্যে কাজটি করার ব্যবস্থা নিলে কৃতজ্ঞ থাকবো। শুনে উনি একটু হাসলেন। বললেন, প্রধান উপদেষ্টা এলেও তো এ ধরনের কাজ মিনিমাম দুই-তিনদিন লাগার কথা। আপনি মনে হয়, কাস্টমসের রুলস জানেন না।
আমাকে পাত্তা যে দিচ্ছেন না- বোঝা যায় পরিস্কার। তাছাড়া এ ধরনের কথার পর ওই অফিসে বসে থাকাও কষ্টকর। বেরিয়ে আসি রাজ্যের হতাশা নিয়ে। আবার সেই বারান্দা, আবার সিগারেট। সিএন্ডএফ এজেন্সির সেই লোক এগিয়ে এসে জানতে চায়, তার প্রস্তাব ভেবেছি কিনা। আমি বললাম, দেখি! ক্ষোভ জমা হচ্ছিল আগে থেকেই। মোবাইল বের করে একজনকে জানালাম সবকিছু। সে বলল, আমি আসছি কিছুক্ষণ পর। আপনি অপেক্ষা করেন।
সে আসল। এসেই সোজা উঠে গেল সেই সহকারী কমিশনারের কক্ষে। পিছন পিছন আমি। এবার কমিশনারের আরেক চেহারা- যেন বিনয়ের সাক্ষাৎ অবতার। কেউ একজন খবর দিয়েছে বোধহয়, কয়েকজন লোক নিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছুটে এলেন সেই কক্ষে। আমার সেই লোককে বললেন, কী করতে হবে স্যার, বলেন। কোনো চিন্তা করবেন না।
দশ মিনিট পর লোহার বিশাল গরাদ (জেলখানার মতো) পেরিয়ে আমরা গেলাম কাস্টমসের গুদামের (?) দিকে। লোকজন দেখে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একটু হকচকিয়ে গেলেন মনে হল। আমার লোকটি তাকে বলল, স্পষ্ট নির্দেশের সুরে, এই কাজটি যতো দ্রুত সম্ভব করে দেন। কতোক্ষণ লাগবে? দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক বললেন, আগামীকাল বিকেলের মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। কোনো চিন্তা করবেন না। আমার লোক বলল, এক ঘন্টার মধ্যে কাজ করে দেন। কিছু একটা বলতে গিয়েও চুপ করে গেলেন কাস্টমস ভদ্রলোক। শুধু বললেন, আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো। আপনি ভাববেন না।
আমাকে বসিয়ে আমার লোক চলে গেল। বলল, কোনো সমস্যা হলেই যেন ফোন করি। তা করতে হল না। কাস্টমস ভদ্রলোক সবার চিৎকার-চেঁচামেচি থামিয়ে নির্দেশ দিলেন, অন্য সব কাজ বন্ধ। আমাকে দেখিয়ে বললেন, উনার কাজটি আগে করো। বিস্ময়করভাবে চা-বিস্কুটও এল। ফাঁকে ফাঁকে আলাপ চললো নানা বিষয়ে। আমি যে কলেজে পড়তাম, সেই কলেজে ভদ্রলোকের বোন অধ্যাপনা করতো- এই তথ্য আবিস্কৃত হল। আবার "কাস্টমসে চাকরি করে সৎভাবে জীবনযাপন করা খুবই কঠিন"- এই ধরনের আধ্যাত্মিক আলাপও বাদ গেল না। মাঝখানে উনি ভ্যাট কি ট্যাক্সের একটি রশিদ দেখিয়ে বললেন, শুধু এই টাকাটা রাখছি। একদম মিনিমাম। আরো কমানো যায় কিনা দেখছি। কাকতালীয়ভাবে সেখানেই ডিএইচএল প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা। আমি তার পরিচয় পেয়ে একটু মুচকি হাসি।
দুই হাজার টাকা পরিশোধ করে, দুই ঘন্টা পর এইচপি নোটবুক নিয়ে যখন গাড়িতে উঠি, মনে তখন রাজ্যজয়ের আনন্দ। প্রগাঢ় স্বস্তিবোধ এসে ভর করে মনে। যদিও কাস্টমসকে এরপর আরো দুবার অস্বস্তিতে ফেলেছি আগের মতোই। সর্বশেষ কদিন আগে আমার ভাইয়ের জন্য একটি লেনোভো থিংকপ্যাড আনিয়েছি। ডিএইচএল-ফেডএক্সের মুখে জুতো মেরে দুহাজারের ওপরে উঠিনি কোনোবারই।
কুকুরের জন্য মুগুর লাগে। ভালোমানুষির দাম সেখানে নেই!
অফলাইন