নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বনানীর কামাল আতার্তুক এভিনিউতে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ-এর অন্যতম সেরা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি। আমি এখানকার একজন ছাত্র। এই ইউনিভার্সিটির ছাত্র হিসেবে এর ভুল গুলোই ধরার চেষ্টা করছি। এখানে ছাত্র হিসেবে ঢুকতে হলে প্রথমেই যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তাহল এডভাইসিং প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া হয়তো সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন প্রক্রিয়া। অন্যান্য ইউনিভার্সিটিতে যেখানে বাসায় বসে এডভাইসিং করা যায় সেখানে এন.এস.ইউ তে ক্যাম্পাসে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করতে হয়। এরপর পছন্দের সাব্জেক্ট পাওয়া আরো কঠিন। সিনিয়ররা আগে থেকেই সব ভালো সাব্জেক্ট আর ফ্যাকাল্টি নিয়ে নেয়। ফলে জুনিয়ররা তাদের পছন্দের সাব্জেক্ট পেলেও দেখা যায় বাজে ফ্যাকাল্টি পড়েছে। আবার অনেক সময় অন্তিম মুহুর্তে নতুন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়। এই ক্লাস গুলো যারা নিয়ে থাকেন তারা একটি করে চ্যাপ্টার পড়ে ছাত্রদের বুঝিয়ে থাকে। ফলে ছাত্ররা যদি কোনো প্রশ্ন করে তার উত্তর দিতে তিনি হিমশিম খান। কারন,দেখা যায় প্রশ্নটির উত্তর পরবর্তীতে কোনো চ্যাপ্টার-এ আছে। এর ফলে মূলত ছাত্ররাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। ফ্যাকাল্টিদের নাম্বার দেয়ার মধ্যেও অনেক পার্থক্য। যেমন, জনৈক ইংরেজী ম্যাডাম যেখানে ৮৭+ মার্কসই দেন না সেখানে আবার আরেক ফ্যাকাল্টির ক্ষেত্রে দেখা যায় গড় মার্কস ৮৭+। এর ফলে শুধু ফ্যাকাল্টির কারনেই ছাত্রটির গ্রেড কমে যায়। এন.এস.ইউ এর এডমিনিস্ট্রেশন এর লোকেরা খালি টাকাই চিনে। ফ্যাকাল্টি কেমন পড়াচ্ছে সেদিকে তাদের কোনো মনোযোগই নেই। আবার শোনা যায় এন.এস.ইউ এর ছাত্র ছাত্রীরা আজে বাজে জামা কাপড় পড়ে আসে। কিন্তু এটা সত্যি কথা নয়। আজ পর্যন্ত অশোভন জামা কাপড় পড়া কাউকেই দেখি নি। এন.এস.ইউ তে অনেক ছাত্রছাত্রী আছে যারা বাসায় যেতে পছন্দ করে না। তাদের ক্লাস যদিও সকাল ১১ টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়, তাও তাদের কে বিকেল বেলায়ও ক্যান্টিন-এ পাওয়া যায় বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডারত অবস্থায়। এর ফলে অনেক ছাত্রছাত্রী যারা ক্লাস করে ক্লান্ত,তাদের বসার জায়গা হয় না ক্যান্টিনে। এখানকার লিফটগুলো খুবই পুরানো। বিবিএ-র প্রধান বিল্ডিং-এ একটা লিফটে এক ফ্যাকাল্টির ৫ বার আটকা পড়ার রেকর্ড পর্যন্ত আছে। প্রত্যেক রুমেই কম্পিউটার থাকলেও সেগুলো অনেক পুরানো। মজার ব্যাপার হল পেন্টিয়াম ৩ ২৫৫ মে.হার্জ এর পিসি তে উইন্ডোজ এক্সপি ইন্সটল করা। ফলে ধীর গতির পিসি আরো ধীর গতিতে চলে। রিসোর্সে সব সময় মানুষের ভীড় লেগে থাকে। তাও রিসোর্স থেকে রঙিন প্রিন্ট নেয়া যায় না। আর নেট ল্যাবে যদিও জীপ এর কানেকশন,তাও স্পীড খুবই ধীর গতির। আর নেট সংযোগ আছে এমন কম্পিউটারের সংখ্যা মাত্র ২৫ টি। লাইব্রেরীর অবস্থা মোটামোটি ভালোই। কিন্তু এখানেও রীডিং রুমেও ছাত্রছাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে। এবার আসা যাক খাবারের কথায়। দুপুরে লাঞ্চ হিসেবে পাওয়া যায়ঃ মুরগী-খিচুরী ৫০ টাকা, চাইনিজ ৪৫ টাকা, মোরগ পোলাও ৪০ টাকা আর ভাত,গোস্ত, ভাজি আর ডাল ৪০ টাকা। দাম একটু বেশি হলেও খেতে ভালো। আরেকটা সমস্যা হল, সব বিল্ডিং এ জেনারেটর থাকলেও বিটিএ টাওয়ার এ জেনারেটর নেই। ফলে নরমাল ক্লাসে কারেন্ট চলে গেলে তো জান ক্যারাব্যারা হয়ই, তারউপর পরীক্ষার দিন কারেন্ট গেলে তো আর কথাই নেই। পরে মোম্বাতির আলোতে পরীক্ষা দিতে হয়। ছাত্র ছাত্রীরা অনেক ফ্রেন্ডলী। এখানে প্রত্যেক সেমিস্টারেই নতুন বন্ধু হয়। কারন, যতই প্ল্যান করা হোক না কেন, বন্ধুদের সাথে একই ক্লাস পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। রাস্তায় হাটতে গেলেই বন্ধুদের সাথে দেখা হয়ে গেলে ভালোই লাগে। আর মন খারাপ হলে বন্ধুরাই তো স্বান্তনা দেয়। এখানে নিজের মত করে থাকতে পারলে ভালোই লাগে। কিন্তু স্যার ম্যাডামরা যখন এসাইনমেন্ট আর প্রেসেন্টশন দেয় তখন জান আবারও ক্যারাব্যারা হয়ে যায়। এসাইনমেন্ট এর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই নিজের টা নিজে করতে হয়। কারণ দেখা যায়, পার্টনাররা একটু অলস ধাঁচের। সর্বশেষে, এন.এস.ইউ সকল ছাত্রছাত্রীদেরকে একটা স্বপ্ন দেখায় যে, নতুন সর্বাধুনিক ক্যাম্পাসে নিয়ে যাবে। আমার থেকে ২-৩ বছরের সিনিয়ররাও এই কথাই শুনে এসেছেন। কিন্তু আমাদের এক ফ্যাকাল্টি বলেছেন, বড় জোর হলে আমরা আমাদের শেষ দুই সেমিস্টার ওখানে করতে পারি। আমরা এখন তারই স্বপ্ন দেখছি।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
সমালোচনা
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সেভারাস (০৩-০৮-২০০৭ ১৩:৩৬)

অফলাইন
ইহা সম্পুর্ণ রুপে আমার পর্যবেক্ষণ। যে কেউ ইহার সাথে দ্বিমত হতে পারেন। কিন্তু, আমি যাহা বলেছি সত্য বলেছি। আমার এক ফ্যাকাল্টির কথা বললাম না। উনি তো এর চেয়ে বাজে পজিশনে রেখেছেন। কিন্তু ওটা আমার পর্যবেক্ষন নয় বলে বললাম না

অফলাইন
মু হা হাআলোচনা-সমালোচনা ভালো লাগলো। বুয়েটের খারাপ দিক নিয়ে লিখতে গেলেও দিন শেষ হয়ে যাবে।
আচ্ছা ফ্যাকাল্টি বলতে কি ব্যক্তি না ডিপার্টমেন্ট বুঝিয়ছো ? আমাদের এখানে যেমন ইলেক্ট্রিকাল ফ্যাকাল্টি এর ভেতর ইলেক্ট্রিকাল আর কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট।
অফলাইন
সেভারাস লিখেছেন:
আমাদের ফ্যাকাল্টি বলতে স্যার ম্যাডামদের বুঝায়

অফলাইন
সংযোজনঃ
একবার এডমিনিস্ট্রেশন থেকে ফ্যাকাল্টিদের কাছে একটা প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। প্রশ্নের ধরণ এমনঃ
১. আপনি দিনে কয় ঘন্টা পড়ান?
২.আপনি সপ্তাহে কয় ঘন্টা পড়ান?
৩.আপনি মাসে কয় ঘন্টা পড়ান?
৪.আপনার প্রতি ক্লাসে স্টুডেন্ট সংখ্যা কত?
৫.আপনি মাসে কত টাকা পান?
৬.আপনার কি কি ডিগ্রি আছে?
আরও অনেক........................
তাদের কি এসব প্রশ্নের উত্তর জানার কথা নয়? এসব প্রশ্ন তো ১-২ এর বাচ্চারাই করবে

অফলাইন
অফিসেএতো বাজে অবস্থা ! ধারোনা ছিলনা ।
আপনারা authority কাছে complain দিয়েছিলেন ?
অফলাইন
আকাশ লিখেছেন:
এতো বাজে অবস্থা ! ধারোনা ছিলনা ।
আপনারা authority কাছে complain দিয়েছিলেন ?
না দেয়নি।

অফলাইন
!!! ইন্ট্রাপিড আইবেক্স !!! এন,এস,ইউ এর ভালো কথা কিছু বললেন না কেন??
অফলাইন
এটা যখন লেখা তখন ভালো কিছু ছিল না চোখে। তবে পরে আবার লিখলে ভালো কিছুও থাকবে

অফলাইন
অফিসেসেভারাস লিখেছেন:
আকাশ লিখেছেন:
এতো বাজে অবস্থা ! ধারোনা ছিলনা ।
আপনারা authority কাছে complain দিয়েছিলেন ?না দেয়নি।
আগে ভাবতাম আমাদের অবস্থাই সবছে খারাপ ।
সব প্রিভেট বিশবিদ্দালয় শুধু টাকার জন্য পাগল ।
তবে NSU অনেক বরো brand হয়ে গেছে ।
অফলাইন
যুদ্ধের কী দরকার!আমি কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্সিতে যোগ দিয়েছি ফ্যাকাল্টি হিসেবে। এটি ৫১টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ (৫১তম)...বয়স ৪ বছর
।
এখানে ছাত্ররা কোর্সের মাঝে ফ্যাকাল্টিদের গ্রেডিং দেয় ....
- ঠিক টাইমে আসে কি না
- যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পড়াতে আসে কি না
- সময়মত খাতা দেখে নম্বর দেয় কি না
- পড়ানোর বিষয়বস্তু বুঝাতে পারে কি না... এরকম ১০টি প্রশ্ন। শেষে মন্তব্য লেখার একটি ঘর।
এই সেমিস্টারে মোটামুটি ভালই গ্রেড পেলাম। 
পাশাপাশি প্রতিবছর এখানে ফ্যাকাল্টিদেরকে ট্রেনিং দেয়া হয় ... যেটা ব্যাখ্যা করে অন্যদিন একটা পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা আছে (মনে করিয়ে দিয়ো)।
অফলাইন
যুদ্ধের কী দরকার!কোয়ালিটি সাইজের ব্যাস্তানুপাতিক ...বলে একটা কথা আছে না।
অফলাইন
দুনিয়া জুড়েই একটু না একটা খারাপ - ভালো আছেই.. তবে..শামীম ভাইয়ের ভার্সিটির সিস্টেমটা জটিল। এটা ইটালীতেও আছে.. আমাদের কলেজেও একই সিস্টেমে স্যার ম্যাডামদের গ্রেড দেই... প্রতি সেমিস্টারেই দেই। তবে আমি এখনো পর্যন্ত কাউকে খারাপ কোন রেপু দেই নাই.. কারন আমরা নিজেরাই ক্লাশে ঠিকমত এটেন্ড না... তো স্যার ম্যাডামদের দোষ দিয়ে লাভ আছে !!
সেভারাসের কথা শুনে সত্যই খারাপ লাগল.. কারন আমাদের দেশের প্রাইভেট ভার্সিটি গুলো আসলেই দিন দিন..কেমন জানি হয়ে গেছে.. আবার টাকা বা শেশন চার্জের বেলায়ও কম নেয় না.. আমার কাজিনদের কাছে প্রায়ই শুনি... কেমন পড়ে...দেশ থেকে এল কিছু দিন আগে আমার বন্ধু, ও ডানমন্ডির কোন একটি ভার্সিটিতে বিবিএ তে পড়ত (নাম মনে পড়ছে না ভার্সিটির) সেখানেও নাকি এমন-ই । তাহলে কি সবই কি এক রকম?
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মনি (০৬-০৩-২০০৮ ০৩:৪৩)
অফলাইন
আমাদেরও ইভ্যালুশন শিট ছিল। যে কেউ ফরম পুরণ করে জমা দিতে পারত। কিন্তু বেশিরভাগ ছেলেই সেটার নামই জানত না। ব্যবহার তো দূরে। আমিই এ জিনিষ কয়েকবার ব্যবহার করেছি। 
। জানি কাজ হবে না। মনের শান্তি আরকি।
অফলাইন
আমি কিছু কথা বলি-
১. আমার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা একটু পুরোনা। ১৯৯৭ সালে পাশ করার পরই যোগ দেই। সেসময় আমার মাসিক বেতন ছিলো ৪ হাজার টাকার মতো। বছর দু বা তিন পর একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট টাইম করি। পপার্ট টাইম মানে প্রতি দুসপ্তাতে এক বার করে যাই, বিষ্যুদবার রাতে রওনা দেই, শুক্র শনি ম্যারাথন ক্লাস নিয়ে শনিবার রাতে আবার ট্রেনে ফিরি। এক সেমিস্টার চলেছিল। মোট ৬/৭ বারের সে যাত্রায় আমার উপার্জন হয় মাসিক বেতনে প্রায় ১০ গুণের মতো। অবশ্য যাতায়তের খরচ না ধরে।
এ থেকে বুঝা যায়, কী পরিমাণ টাকার লেনদেন হয়। শিক্ষকরা কী পরিমান পায়, ছাত্ররা কী পরিমান দেয়। মানের কথা তোলাটাই অবান্তর। যেসব ছেলে মেয়ে পড়তে আসে তাদের রেজাল্ট ভালো না। বাবা মার টাকার জোড়ে তারা পড়তে যায়। পড়ে বড় কিছু হবার পরিকল্পানাও তাদের খুব একটা থাকে বলে মনে হয় না। চিন্তা হলো বাবার ব্যবসা ধরা। কাজেই দোষটা ঠিক এক পক্ষের উপর দেয়া যায় না।
২. বুয়েটের সিএসইর অন্তত ৫ জন সিনিয়র শিক্ষককে বলতে গেলে কিনে নেয় এনএসইউ। সবশেষ কায়কোবাদ স্যার যিনি মাঝে মধ্যেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচনা করতেন, যোগ দেন ওখানে। আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। এনএসইউ বা অন্য কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা করার মতো বিলাসিতা করার সুযোগ নেই, যেখানে পাবলিকগুলোই পারে না। কায়কোবাদ স্যারকে দিয়ে তারা কি করবে? একটাই উত্তর: বিজ্ঞাপন।
[পরে লিখছি আরো]
আলমগীর
অফলাইন
অফলাইন 
আমি তো ভাই এসব কথা শুনে ভয় পাইয়া গেলাম। আমি সবে পাস করেছি। সরকারী কোনখানে আমার মত পোড়া কপাইল্লার যায়গা হয় নাইক্কা। EEE/SE তে পড়াশুনা করার ইচ্ছা। AIUB থাইকা ফরম এনেছি। ভাই কেউ জানলে AIUB সম্পর্কে কিছু বলেন একটু ধারনা লই।
অফলাইন