যে সবে বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গবাণী
সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি......
ভাষার সৃষ্টি অনেক আগে হলেও ভাষা লেখার পদ্ধতি এসেছে পরে। লিখন পদ্ধতির উদ্ভব হয় প্রথমে সুমের অঞ্চলে (আধুনিক ইরাক)। এর পাশাপাশি মিশরেও লেখালেখি শুরু হয়, আজ থেকে প্রায় হাজার পাঁচেক বছর আগে। সুমেরের লেখাগুলো কাদার টুকরার মধ্যে কাঠি দিয়ে চাপ দিয়ে লেখা হতো। এগুলোকে বলা হয় কিউনিফর্ম লেখা।
মিশরের চিত্রলেখের নাম হায়েরোগ্লিফিক। এই ধরণের লেখায় ছবি বা চিহ্ন দিয়ে বিভিন্ন শব্দকে বোঝানো হতো। একেকটি চিহ্ন বা ছবি একেকটি শব্দ বা বাক্যের প্রতীক।
চীনের লেখাও এরকম চিত্রভিত্তিক। সেই আদিকাল থেকে শুরু হওয়া ঐ পদ্ধতিই এখনও চীনে চালু। চীনা ভাষায় প্রায় ৫০০০ বা তারো বেশি চিহ্ন চালু আছে। কোনো বর্ণমালা নেই। আমার পরিচিত চীনাদের প্রশ্ন করেছিলাম, ওদের পড়াশোনা শিখতে সময় লাগে কী রকম। ওদের কাছ থেকে জেনেছি, পত্র পত্রিকা পড়ার মতো বিদ্যা অর্জন করতে ওদের অন্তত ক্লাস সেভেন বা এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করতে হয়।
চিত্রভিত্তিক এই লিখন পদ্ধতির ঝামেলা অনেক। এর বিকল্প হিসাবে উদ্ভব হয় বর্ণমালা। আর এই বর্ণমালার স্রষ্টা হলো ফিনিশীয় এবং সেমিটীয় জাতির লোকেরা। (ইহুদীরা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অনেকে এই সেমিটীয় জাতির বংশধর, আর ফিনিশীয়রা ছিল এখনকার লেবানন/সিরিয়া এলাকার বণিক সম্প্রদায়)। যাহোক, এসব লিপিতে ছবির বদলে বর্ণমালার মাধ্যমে শব্দ লেখা হতো। শেখা সহজ বলে চিত্রলেখের চাইতে বর্ণমালার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় সহজেই।
শুরুর দিকের মধ্যপ্রাচ্যের ঐ সব বর্ণমালার লেখাগুলো ডান থেকে বাম দিকে লেখা হতো। ঐ সব লিপির উত্তরসূরী হচ্ছে হিব্রু ও আরবি, যা আজও ডান থেকে বাম দিকে লেখা হয়। উলটা দিকে, অর্থাৎ বাম থেকে ডানে লেখার রীতি শুরু করে গ্রীকরা।
ভারতবর্ষ সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে চালু অধিকাংশ লিপির পূ্ব পুরুষ হলো আরামিক লিপি। তা থেকে আসে ব্রাহ্মী লিপি, প্রায় হাজার দুয়েক বছর আগে। আর সেটা থেকেই ধীরে ধীরে উদ্ভব হয় বাংলার।
১ বাংলা, তথা সংস্কৃত হতে সৃষ্টি হওয়া সব ভাষাই ইউরোপীয় বিভিন্ন ভাষার সাথে জড়িত। আসলে একই মূল উৎস হতে এসব ভাষার উৎপত্তি। এই ব্যাপারটা অষ্টাদশ শতকে জার্মান ভাষাবিদেরা প্রথম লক্ষ করেন। যেমন, সংস্কৃত পিতা - পিত্র, ইউরোপীয় অনেক ভাষায় ফাদার, পিতার। এরকম আরো অনেক উদাহরণ দেখানো যায়। এই সব কিছু বিবেচনা করে এই মহাগোষ্ঠীর নাম দেয়া হয়েছে ইন্দো-ইয়ুরোপায়ন ভাষাগোষ্ঠী। পুরা ইউরোপের ইংরেজি, জার্মান, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, পর্তুগীজ, রাশিয়ান, ইতালিয়ান, দক্ষিণ এশিয়ার হিন্দি, উর্দু, বাংলা, মরাঠি, পাঞ্জাবী, - এই সব ভাষাই এই গোষ্ঠীর অন্তর্গত। দুনিয়ার প্রায় ১৬০+ কোটি মানুষের মাতৃভাষা এটা (আরো অনেক বেশি মানুষ এই ভাষাগুলোতে কথা বলতে পারেন)।
তবে, ইউরোপের সব মানুষ আবার এই ভাষাগোষ্ঠীর ভাষাতে কথা বলেন না। যেমন, স্পেনের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বাস্ক-রা বাস্ক ভাষাতে কথা বলে, যার সাথে আর কোনো ভাষার একেবারেই মিল নেই। সেরকম হাঙ্গেরিয়দের ভাষাও অন্য উৎস হতে আসা।
দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি বলা একক ভাষা হলো চীনের ম্যান্ডারিন ভাষা (এর নামটা এসেছে সংস্কৃত "মন্ত্রী" হতে, কারণ ভাষাটার চীনা নামটার অর্থ মন্ত্রীদের ভাষা, অর্থাৎ ভদ্রলোকের সাধু ভাষা)। তবে চীনেই বহু ভাষা চালু আছে, এক অঞ্চলের লোক অন্যদের ভাষা একেবারেই বোঝেনা।
বাংলাদেশের ভাষা বাংলা, তবে এর মধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রামের ভাষাকে উপভাষার মর্যাদা দেন অনেকে ভাষাবিদ। চট্টগ্রামের ভাষা আর আরাকানের ভাষা প্রায় এক, লেখার রীতিটাই কেবল আলাদা। ত্রিপুরাতে বাংলা ব্যবহার হয়ে আসলেও ইদানিং ওরা বাংলার বদলে কোকবরক নামের একটা ভাষা চালু করার চেষ্টা করছে।
হরফ শুধু বাংলা নয়, অসমীয়া এবং মণিপুরী ভাষাতেও ব্যবহার করা হয়।
শ্রীলংকায় পাওয়া ১০ম শতকের একটা মূদ্রায় পরিষ্কার বাংলা লেখা দেখেছি!! অবাক হয়েছিলাম, তবে শ্রীলংকার উপকথায় রয়েছে, বাংলারই এক রাজপুত্র লংকা জয় করেছিলেন।
অফলাইন
অফটপিকঃ
টপিকের এমন শিরনাম দেয়ার চেষ্টা করুন যাতে টপিকের শিরনাম দেখে যেন সবাই বুঝতে পারে পোস্টে কি আছে।
অফলাইন
যুদ্ধের কী দরকার!furqan ভাইকে অনুরোধ করছি যে পরবর্তীতে এরকম কোন চমৎকার লেখা সবার সাথে শেয়ার করার সময়ে তথ্যসূত্র/কৃতজ্ঞতা উল্লেখ করুন।
লেখাটি দেয়ার পর এভাবে দিবেন:
তথ্যসূত্র: রাগিব... (সাথে লিংক)
অথবা,
কৃতজ্ঞতা: রাগিব ... (সাথে লিংক)
পাঠকদের সুবিধার্থে উল্লেখ করছি: এই প্রবন্ধটা উইকি-বস তথা এই ফোরামের প্রাক্তন (?) মডারেটর রাগিব-এর লেখা। মূল লেখাটি এখানে পাবেন। আশা করছি বিনা অনুমতিতে ওনার লেখা প্রকাশ করাতে উনি কিছু মনে করবেন না।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শামীম (০৫-০৩-২০০৮ ০০:২৬)
অফলাইন