আশাবাদী লিখেছেন:
একজন যে যুদ্ধাপরাধী এটি সুনির্দিষ্টভাবে প্রমানিত না হলে তো কোন সাস্তি দেয়া সম্ভব নয়। আর সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণের জন্য বাস্তব সাক্ষ্য প্রয়োজন যা স্বাধীনতার ৩৬ বছর পর পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা যে পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখায় পড়ছি ৭১-এ যুদ্ধাপরাধীদের ভূমিকা নিয়ে জেনেছি তা কখনই সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে আদালতে গ্রহনযোগ্য হবে না যতক্ষণ না সেই লেখাগুলোর সুনির্দিষ্ট সোর্স জানা যাবে।
আর তাছাড়া যদি বিচার কাজ শুরুও হয়, কে যুদ্ধাপরাধী আর কে যুদ্ধাপরাধী নয় এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমস্যা দেখা দিবে, একজন আরেকজনের দিকে কাঁদা ছুড়বে।
আর নিয়মিত সরকারের অধীনে তো কোনদিনই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব হবে না কারন তাদের মূল লক্ষ্য ক্ষমতায় যেকোনভােব থাকায়, প্রয়োজনে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে আতাত করে হলেও
আশাবাদী ভাই একশত ভাগ সহমত। দেখুন ব্যাপারটা কতটা বিভ্রান্তিকর যে, একথা সত্য যে আমরা যুদ্ধের সময় জন্ম গ্রহন করি নাই। সুতরাং কি ঘটেছিল তার চাক্ষুস প্রমান আমরা দিতে পারব না। কিন্তু আমরা বিভিন্ন বই, পত্র, পত্রিকায় এবং আমাদের মুরুব্বী দের কাছ থেকে যা শুনে এসেছি তার পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে আজ স্বাক্ষী প্রমানের না পাওয়া যায় তাহলে কি আমরা বিশ্বাস করব যে, আসলে মুক্তিযুদ্ধ বলে কোন কিছুই হয় নাই, কেউ কোন অপরাধ করে নাই, কোন নিরীহ মানুষ মারা যায় নাই? এর সমাধান কোথায় ?
আপনাকে ধন্যবাদ
অফলাইন
m_Kafi লিখেছেন:
আর শাস্তির কথা বলছেন, এখন আমি আপনি কেউই এদের একক ভাবে শাস্তি দেওয়ার সুপ্রিম পাওয়ার রাখি না। তারাই সে সুযোগ সংবিধান ও বাংলাদেশি আইনে রাখে নাই। তবে ঐ যে আমি যেমন ভোট দেই না সেই রকম নিজের অবস্থান থেকে যদি তাদেরকে ঘৃনার সাথে ত্যাগ করতে পারেন তাহলে এই অবস্থায় আমি মনে করি যারা কিছু করার ক্ষমতা রেখেও কিছু করেনি তাদের চেয়েও আমরা ঢের বেশি কিছু করেছি।
ভাই যদিও আমি সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই আমাদের সংবিধানে কিন্তু ভিন্ন কথা বলা রয়েছে
সংবিধানের Article 7 এ বলা হয়েছে....
Supremacy of the Constitution.
(1) All powers in the Republic belong to the people, and their exercise on behalf of the people shall be effected only under, and by the authority of, this Constitution.
(2) This Constitution is, as the solemn expression of the will of the people, the supreme law of the Republic, and if any other law is inconsistent with this Constitution and other law shall, to the extent of the inconsistency, be void.
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আশাবাদী (০২-০৩-২০০৮ ০০:২৬)
অফলাইন
অফিসেkafi ভাই ভালই বলছেনন । তবে ভাই আমার মনে হয় আপনি আপনি এখন দেশে না। ভোট না দিয়ে আপনি তাদের সুযোগ করে দিলেন । আপনার প্রতিবাদ ভোটের দ্বারা দিতে পারতেন । Anyways, এই প্যাচাল শেষ হবে না । কিন্তু ত্যাগ করাই প্রতিবাদ না । ভাল থাকেন ভাই । 












সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সুমন (০২-০৩-২০০৮ ০০:১০)
অফলাইন
m_Kafi লিখেছেন:
আশাবাদী ভাই একশত ভাগ সহমত। দেখুন ব্যাপারটা কতটা বিভ্রান্তিকর যে, একথা সত্য যে আমরা যুদ্ধের সময় জন্ম গ্রহন করি নাই। সুতরাং কি ঘটেছিল তার চাক্ষুস প্রমান আমরা দিতে পারব না। কিন্তু আমরা বিভিন্ন বই, পত্র, পত্রিকায় এবং আমাদের মুরুব্বী দের কাছ থেকে যা শুনে এসেছি তার পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে আজ স্বাক্ষী প্রমানের না পাওয়া যায় তাহলে কি আমরা বিশ্বাস করব যে, আসলে মুক্তিযুদ্ধ বলে কোন কিছুই হয় নাই, কেউ কোন অপরাধ করে নাই, কোন নিরীহ মানুষ মারা যায় নাই? এর সমাধান কোথায় ?
আপনাকে ধন্যবাদ
ভাই আমরা যে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানছি তার মধ্যে কতখানি সত্যি আর কতখানি মিথ্যা তা কিন্তু প্রমাণ করার কোন উপায় আর নেই। আমাদের এখানে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি
। আমরা এখনও এটার মিমাংসা করতে পারলাম না যে স্বাধীনতার ঘোষণা কে সর্বপ্রথম দিয়েছে। 


সেইসাথে আমরা যাদের কাছ থেকে জেনেছি তারা প্রত্যেকেই এখন স্মৃতির কালে হারিয়ে যাচ্ছেন, অনেকেরই বয়স ৫০+। তারা এখন আর আদালতে গিয়ে স্বাক্ষ্য দিবার সামর্থ রাখেন না
অফলাইন
আশাবাদী লিখেছেন:
ভাই আমরা যে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানছি তার মধ্যে কতখানি সত্যি আর কতখানি মিথ্যা তা কিন্তু প্রমাণ করার কোন উপায় আর নেই। আমাদের এখানে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি
।
জ্বী ভাই। আজ প্রমান করার কিন্তু কোন উপায় নাই। উপায় বের করতে হলে হয়ত চুলের ভিতর ন্যানো রোবট দিয়ে অপারেশন করতে হবে। তাতেও ভয় আছে রোবটেও বাগ জেনারেট করে কি না? আজকাল মনে হয় সুধু মানুষই নয় উদ্ভিদও বিভান্তি মুলক আচরন করছে। এই তো সে দিন দেখলাম প্রধান উপদেষ্টার অফিসের সামনের সুশোভিত সুর্যমুখী ফুল গুলো বিভিন্ন দিকে মুখ করে আছে। যদিও সুর্য একটাই ছিল। যতদুর জানি সুর্যমুখী ফুল সাধারণত সুর্যের দিকে মুখ করে থাকে। ( হরমোন জনিত কারনে ) যাহোক যে কথা বলছিলাম, প্রমান করা না গেলেও আমার মনে হয় আমার সঙ্গে আপনিও একমত হবেন যে কারা যুদ্ধাপরাধী তা মোটামুটি দেশের সকল সচেতন অর্ধসচেতন সবাই জানে। প্রমানের অভাবে প্রচলিত আইনে এদের বিচার হয়ত করা যাবে না কিন্তু একটি চমৎকার পন্থা ছিল যা কিনা দেশে অত্যাচারের স্বীকার হওয়া সকল নাগরিকই মনে মনে মেনে নিয়েছিলেন তা হচ্ছে ক্রসফায়ার।
( ভাই যদি সীমা লংঙ্ঘন করি একটু আওয়াজ দিবেন হাত প্যন্টের পকেটে ভরে মুখে টেপ মারব , ইমানে কইলাম ) আমি নিজেও এটাকে সমর্থন করি কারণ আমার জানা মতে কোন ভাল মানুষ এই পন্থার স্বাদ গ্রহন করে নাই এবং যে সকল র্যাব সদস্য দের ঘুমের ঔষধে এ কাজ হয়েছে তাদের জন্য আমি দোয়া করি। আর নথী পত্র সংরক্ষনের কথা বললেন, হে: হে: হে: হে: ...... মাথা খারাপ হলেও এতটা খারাপ এতদিনের দেশ সাশন কর্তাদের হয় নাই। ভাই যা বললাম তার কোন কিছুই ( বিশেষ করে র্যাবের ঘুমের বড়ির ব্যাপারে ) আসলে হয়ত হবে না মনের ক্ষোভ মেটানোট জন্য একটু ফঁাকা চিৎকার করলাম মাত্র আর আল্লাহ যদি আমাকে আপনাকে কোন দিন সেই সুযোগ দেয় হয়ত ততদিন বড়ি খাওয়ানোর রোগীই ইহকালের মায়া ত্যাগ করবে। তবে সুযোগের অপেক্ষায় রইলাম। আপনি কি বলেন?......
অফলাইন
আকাশ লিখেছেন:
kafi ভাই ভালই বলছেনন । তবে ভাই আমার মনে হয় আপনি আপনি এখন দেশে না। ভোট না দিয়ে আপনি তাদের সুযোগ করে দিলেন । আপনার প্রতিবাদ ভোটের দ্বারা দিতে পারতেন । Anyways, এই প্যাচাল শেষ হবে না । কিন্তু ত্যাগ করাই প্রতিবাদ না । ভাল থাকেন ভাই ।
ভাই আকাশ। আশাবাদী ভাইয়ের একটা কথায় কোট করতে গিয়ে সুর্যমুখী ফুলের চরিত্রের বিশ্লেষন করেছি । একটু লক্ষ করলেই আপনি বুঝবেন আমি দেশে না বিদেশে? আর ভোটের দ্বারা প্রতিবাদের কথা বলছেন, এরকম প্রতিবাদ তো ভাই হাজার হাজার লোক ভোটে দিয়েই করে। ভাই আমি ফলাফলে বিশ্বাসী। অপজিশনে একটি ভোট দিয়ে আমি প্রতিবাদ করেছি বলে এরকম নিষ্ফল আত্মপ্রতারনা আমার খুব একটা পছন্দ নয়। তবে মজার বিষয় হচ্ছে আমার বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজন এর বেশির ভাগই আমার এই পন্থাই অবলম্বন করে। কাজেই আমাকে একক বিচ্ছিনতা বাদী বলতে পারবেন না আশা করি।
যাহোক ভাল থাকবেন
ধন্যবাদ
অফলাইন
অফিসেসাধু সাবধান!!! রাজাকারেরা আবার মাথা তুলছে। এই ওয়েবসাইটটি সম্প্রতি আমার নজরে এসেছে। http://www.firozmahboobkamal.com
সেখানে একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস নামক প্রবন্ধটির কিছু বিতর্কিত অংশ তুলে ধরছি,
বাংলাদেশে একাত্তরের ঘটনাবলি নিয়ে প্রচুর মিথ্যাচার হয়েছে। বিকৃত হয়েছে ইতিহাসের পাঠ্যপুস-ক। লেখা হয়েছে অসত্যে ভরপুর অসংখ্য গ্রন', গল্প, উপন্যাস ও নাটক। নির্মিত হয়েছে বহু ছায়াছবি। এখনও সে বিকৃত ইতিহাস রচনার কাজ চলছে জোরেসোরে। এ পরিকল্পিত মিথ্যাচারের লক্ষ্য একটিই। আর তাহলো, দেশ-বিদেশের মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থেকে সত্যকে আড়াল করা। এবং যারা একাত্তরের লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছে তাদের কৃত অপরাধগুলো লুকিয়ে ফেরেশতাতুল্য রূপে জাহির করা। সে সাথে বিরোধী পক্ষকে দানব রূপে চিত্রিত করা। যারা দেশকে আন-র্জাতিক অঙ্গনে ভিক্ষার ঝুলিতে পরিণত করলো, গণতন্ত্রকে পাঠালো নির্বাসনে এবং মানুষকে পাঠালো ডাষ্টবিনের পাশে কুকুরের সাথে উচ্ছিষ্ঠ খোঁজের লড়াইয়ে তাদেরকে আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বলা হচ্ছে বস'ত সে পরিকল্পনারই অংশ রূপে। এ মিথ্যাচারের আরেক বড় লক্ষ্য, একাত্তরে বাংলার মুসলামানদের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী বিভক্তি সৃষ্টি হল, সেটিকে স'ায়ী রূপ দেয়া। এমন ইতিহাস রচনার লক্ষ্য তাই দেশের কল্যাণ নয়, সত্যকে তুলে ধরাও নয় বরং এখানে প্রাধান্য পেয়েছে ব্যক্তি ও দলের ইমেজকে বড় করে দেখানো।
নানা প্রেক্ষাপটে প্রতিদেশেই বিভক্তি দেখা দেয়। সে বিভক্তি নিয়ে প্রকান্ড রক্তপাতও হয়। নবীজীর (সাঃ) আমলে আরবের মানুষ বিভক্ত হয়েছিল মুসলমান ও কাফের এদুুটি শিবিরে। কিন' সে বিভক্তি বেশি দিন টেকেনি। সে বিভক্তি বিলুপ্ত না হলে মুসলমানগণ কি বিশ্বশক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করতে পারতো? জার্মানরা বিভক্ত হয়েছিল নাজি ও নাজিবিরোধী এ দুই দলে। সে বিভক্তিও বেশীদিন টেকেনি। তা বিলুপ্ত না হলে জার্মানরা আজ ইঊরোপের প্রধানতম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হতে পারতো? বিভক্তি দেখা দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। সে বিভক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে আব্রাহাম লিংকনের আমলে উত্তর ও দক্ষিণের রাষ্ট্রগুলোর মাঝে প্রকান্ড গৃহযুদ্ধ হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ তাতে নিহতও হয়েছিল। কিন' সে বিভক্তি বেশী দিন টেকেনি। সেটি বিলুপ্ত না হলে দক্ষিণ আমেরিকার মত উত্তর আমেরিকাতেও উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়ার মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বহু রাষ্ট্রের জন্ম হত। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ যেভাবে এক নাম্বার বিশ্বশক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করছে তা কি তখন সম্ভব হত? পারতো কি পৃথিবী জুড়ে প্রভাব সৃষ্টি করতে? আত্মপ্রতিষ্ঠা, আত্মসম্মান ও সভ্যতার নির্মাণ ঘটে তো একতার পথ ধরেই। বিভক্তির মধ্য দিয়ে আসে আত্মহনন, আত্মগ্লানি ও চরম অপমান। বাংলাদেশ আজ সে বিভক্তির পথ ধরেই অগ্রসর হচ্ছে। একটি দেশের জন্য এর চেয়ে বড় আত্মঘাত আর কি হতে পারে? একতার গুরুত্ব শুধু বিবেকবান মানুষই নয়, পশুপাখিও বোঝে। তাই তারাও দল বেঁধে চলে। একতা গড়া ইসলামে ফরয এবং বিভক্তি গড়ার প্রতিটি প্রচেষ্টাই হল হারাম। বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে একতার পথে চলা ও না-চলার বিষয়টি ব্যক্তির খেয়াল খুশির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। অলংঘনীয় নির্দেশ এসেছে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে। পবিত্র কোরআনে তিনি সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন,
‘‘ওয়া তাছিমু বিহাবলিল্লাহে জামিয়াঁও ওলাতাফারত্মাকু ..।’’
অর্থ ঃ ‘‘এবং তোমরা আল্লাহর রশি (আল্লাহর দ্বীন তথা পবিত্র কোরআন বা ইসলামকে) আঁকড়ে ধর এবং পরস্পরে বিভক্ত হয়োনা..।’’
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা শুধু যে একতাবদ্ধ হতে বলেছেন তা নয়, কিসের ভিত্তিতে একতা গড়তে হবে সেটিও বলে দিয়েছেন। সে একতা ভাষা, ভূগোল ও বর্ণভিত্তিক হবে না, হবে আল্লাহর রশি তথা ইসলাম বা কোরআন ভিত্তিক। মুসলমানদেরকে বলা হয়েছে কোরআনকে বা ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে, ভাষা, বর্ণ ও ভুগোলকে নয়। আল্লাহতায়ালা যেমন একতাবদ্ধ হতে বলেছেন তেমনি পরস্পরে বিভক্ত না হওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দিয়েছেন। আল্লাহর প্রতিটি হুকুমই তো অলঙ্ঘনীয়। ফলে একতা প্রতিষ্ঠার প্রতিটি প্রয়াস যেমন আল্লাহর আনুগত্য তথা ইবাদত, তেমনি বিভক্তি ও বিচ্ছিন্নতার প্রতিটি প্রয়াসই হলো বিদ্রোহ। দেশের রাজা বা বিচারকের বিরুদ্ধে যে কোন বিদ্রোহ শাসি- অনিবার্য করে তোলে। মহান আল্লাহর এ হুকুমের অবাধ্যতা কি রহমত বয়ে আনে? এটি তো গুরুতর বিদ্রোহ। এমন বিদ্রোহ যে আযাব ডেকে আনে তা নিয়ে কি সন্দেহ আছে? বাংলাদেশে সে অবাধ্যতা চলছে নানা ভাবে। আল্লাহর অবাধ্যতা শুধু এ নয় যে জনগণের অর্থে ও সমর্থণে দেশে সূদী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বা রাষ্ট্রীয় অর্থে বেশ্যাবৃত্তি বা জ্বিনা পাহারাদারি পাচ্ছে বা আইন-আদালত থেকে আল্লাহতায়ালার আইনকে সরিয়ে ব্রিটিশ প্যেনাল কোড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বরং আল্লাহর বিরদ্ধে বড় বিদ্রোহ ঘটেছে ভাষা, বর্ণ ও পৃথক ভূগোলের নামে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি গড়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানেরা ভাষা ও বর্ণকে নয়, ইসলামকে আঁকড়ে ধরেছিল। বাঙ্গালী, বিহারী, পাঞ্জাবী, পাঠান, সিন্ধি, গুজরাটি এরূপ নানা ভাষার মুসলমানগণ ভাষার পরিচয় নিয়ে নয়, ঈমানী পরিচয় নিয়ে একাতাবদ্ধ হয়েছিল। তারা সেদিন ভুলে গিয়েছিল তাদের ধর্মীয় ফেরকা ও মাজহাবী বিরোধ। উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসে এটি অনন্য। পবিত্র কোরআনে মুসলমানদের বলা হযেছে হিজবুল্লাহ বা আল্লাহর দল। এটি কি ভাবা যায়, আল্লাহতায়ালা তাঁর নিজের বাহিনীতে অনৈক্য চাইবেন? এবং সেটি ভাষা, বর্ণ বা ভৌগলিক স্বার্থের নামে? মুসলিম উম্মাহর একতা ও বিজয়ের চেয়ে এগুলি কি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে? আল্লাহতায়ালা তাঁর বাহিনীতে একতার যে কোন উদ্যোগে যে খুশি হবেন সেটিই তো স্বাভাবিক। উমহাদেশের মুসলমানদের সে একতা আল্লাহতায়ালাকে এতই খুশি করেছিল যে তাদের প্রতি তাঁর বিশাল রহমত জুটেছিল। ফলে বিজয়ও এসেছিল। এ রহমতের কারণেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস-ানের প্রতিষ্ঠা করতে কোন যুদ্ধ লড়তে হয়নি। অস্ত্র না ধরেই বিশাল শত্রুপক্ষকে সেদিন তারা পরাজিত করতে পেরেছিল।
অফলাইন
ধ্রুবক অন্ধকার, দৈব রাজপথে আমার চিহ্ন, আমি নৈশ ঈশ্বর যেন আরেক ধ্রুবতার জন্ম.১৯৭১ সালে সংঘটিতগণহত্যার হোতাদের এখনো বিচারের কাঠগড়ায় দাড়ঁ করাতে রাজনেতিক সদিচ্ছার কোন বিকল্প নাই.১৯৭১ সালের ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে দখলদার পাকিস্থানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং স্থায়ীভাবে গঠিত সহায়ক বাহিনী যে বাংলাদেশের আর্ন্তজাতিক অপরাধ সংঘটিত করেছে,তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার পযাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে.গণহত্যার,মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের শিকার মানুষের সংখ্যা (প্রায় ৩০ লাখ নিহত) ,ধষিত ও নির্যাতিত নীরার সংখ্যা(দুই লক্ষাধিক) এবং নিজ বাসভূমি ত্যাগে বাধ্য মানুষের সংখ্যার ( এক কোটির বেশী প্রতিবেশী ভারতে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য) বিচারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনী কতৃক সংঘটিত হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধগুলো নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ভয়াবহ.এরপর উল্লেখ্য করা যায় গত শতকের সত্তরের দশকে কম্বোডিয়ায় খেমাররুজ শাসনামলে পল পট চক্র গণহত্য(এক মিলিয়ন নিহত),আশির দশকের শেষে এবং নব্বইয়ের দশকের প্রথমে
রুয়ান্ডায় জাতিগত দাঙ্গায় হুতু ও তুতসিগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখ মানুষের হত্যাকান্ড এবং নব্বইয়ের দশকের প্রথমে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার বসনিয়ার সার্ব বাহিনী কতৃক জাতিগত ধ্বংস কান্ডে হাজার হাজার মুসলিম নিধন.এটা বিস্ময়কর যে সব ক্ষেত্রে বিচার সম্পন্ন বা বিচার শুরু হলেও বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এখনো হয়নি.
একাত্তরের গনহত্যার ও যুদ্ধাপরাধের বিচার না করতে পারা শুধু স্বাধীন বাংলাদেশেরই ব্যথর্তা নয়,এ ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তথা জাতিসংঘেরও..যাই হোক,অপরাধের বিচার কখনো তামাদি হয়না.কম্বোডিয়া ও চিলিকে অনেক আগে সংঘটিত অপরাধের বিচার এখনো চলছে.দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অভিযুক্তদের মধ্যে যারা এখনো জীবিত এবং খুজে পাওয়া যাচ্ছে,তাদেরও বিচার হচ্ছে.বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে,১৯৭১ সালে সংঘটিত গনহত্যার খবর বিশ্বব্যাপী কমই জানতে পেরেছে.তাদের পক্ষে এই গনহত্যার ব্যাপকতা ও ভয়াবয়তা সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব হয়নি.২০০৪ সালের এপিলে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারেরর অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাতে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক বিচারপতি ব্লেড বলেন,১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে তার ভালো ধারনা নেই.তিনি আরো বলেন,তার মেয়ে-যে গনহত্যা বিষয়ে উচ্চতর গবেষনা করেছে-তার মতে সেও সম্ভবত গনহত্যার ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে জানে না..
এই নাজানার মূল কারন হচ্ছে তদানীন্তন পাকিস্থানের ঘটনাবলির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্টের অবস্থন এবং তাদের দ্বারা সৃষ্ট রাজনৈতিক ধূম্রজাল.তারা মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করে তা পাকিস্থানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বিষয় বলে প্রচার করে.ভারত-পাকিস্থান বৈরিতা ও মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কার্যকর সমর্থনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে.তারা এই মর্মে প্রচার করেছে যে ঘটনার ধারাবাহিকতায় আরম্ভ হওয়া ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধের ফলেই স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্ট হয়.
পরে ভারতের অতি সতর্ক র্কটনীতি,পাকিস্থানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের আগ্রহ,সিমলা চুক্তি এবং এ বিষয়ে ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করতে বাংলাদেশের অসমর্থতা এবং সর্বগ্রাহী মার্কিন নীতি ও রাজনীতি এমনই বিভ্রান্তিকর ও ঘোলাটে করে তোলে যে গণহত্যা বিষয়টি অনেকটা চাপা পড়ে যায়.উল্লিখিত অপরাধগুলোর বিচারের জন্য তখন বিশ্ব সম্প্রদায়কে সচেতন ও সচল করা সম্ভব হয়নি.এইটা জাতীয় প্রচেষ্টাকেও অনেকাংশে ব্যাহত করে.এটা নজিরবিহীন যে যখন মুক্তিযুদ্ধ বিশ্ববাসী মনোযোগ আর্কষন ও সমথর্ন লাভ করেছিল,তখন ওই সময়ে সংঘটিত গণহত্যা,মানবতা বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ অনেকটা আড়ালেই পড়ে থাকে....
এতদসত্ত্বেও নবগঠিত বাংলাদেশ রাষ্ট্র অপরাধীদের বিচারের জন্য কিছু সুনিদিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছিল.পাকিস্থানের দখলদার বাহিনীকে সহায়তা প্রদানকারী নিজ দেশীয় দালালদের বিচারের জন্য জারি করা হয় বাংলাদেশ দালাল(বিশেষ ট্রাইব্যুনাল)আইন,১৯৭২. এ আইনের অধীনে প্রাথমিকভাবে ৩৭হাজার দালালকে প্রেপ্তার করা হয়েছিল.পরে এক সাধারন ক্ষমার আওতায় ২৬হাজার ব্যাক্তির বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ না থাকায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়.যাদের বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহিতা,হত্যা,ধর্ষন,ডাকাতি ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ ছিল,তাদের কখনো সাধারন ক্ষমার আওতায় আনা হয়নি.প্রায় ৮০০ব্যাক্তির মামলার বিচার সম্পন্ন করে দন্ড দেওয়া হয়.আরও ১১ হাজার ব্যক্তি কারাগারে ছিল এবং তাদের মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল..
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ আর্ন্তজাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন পাস করে,যার অধীনে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা ছিল.এর আগে গনহত্যা,মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধপরাধীদের বিচারের পথ সুগম করার জন্য বাংলাদেশর সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী (প্রথম সংশোধনী,১৯৭৩ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭(৩) আনয়ন করা হয়.প্রথম সংশোধনী এবং ১৯৭৩ সালের আইনের অধীন উল্লিখত অপরাধগুলোর বিচারের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ও মৌলিক অধিকারের বিধানাবলির ব্যাতিক্রমী প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারকাজ দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ করার ব্যবস্থা করা হয়.
যা হোক,পাকিস্থানি যুদ্ধাপরাধীদের সম্ভাব্য বিচারের প্রশ্নে ভারতের আপসকামী দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রাজনীতির কারনে এসব পদক্ষেপ বাস্থবায়ন হয়নি.১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরির্বতনের ফলে যা কিছু বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল,তাও বন্ধ হয়ে যায়.এমনকি সাজাপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদেরও মুক্তিদেয়া হয়. দালাল আইন রহিত করা হয়.
১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ লাখ মানুষের উপন্থিতিতে গণ-আদালতের মাধ্যমে এবং প্রতীকী বিচারে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও অপরাধীদের শিরোমণি জামায়েতর তৎকালীন আমির গোলাম আজমকে অপরাধী সাব্যস্ত করে বলা হয়,তার প্রতিটি অপরাধই মৃতূদন্ডযোগ্য.১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ কবি সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে গঠন করা হয় জাতীয় গনতন্ত্র কমিশন. এই কমিশন ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে ১৫ জন শীর্ষস্থানীয় এদেশীয় মুদ্ধাপরাধীর দুষ্কর্ম সম্পর্কে তথ্য-প্রমান ও সাক্ষ্য গ্রহন করে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়.
যুদ্ধাপরাধ ও গনহত্যার বিচারের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হবে ১৯৭৩ সালের আন্তজার্তিক অপরাধ আইনটির উপযুক্ত প্রয়োগ.এ আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ট্রাইব্যুনাল দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির স্বার্থে ফৌজদারি মামলার সাক্ষ্য-প্রমান ও পদ্ধতিগত অনেক জটিলতা সহজেই নিরসন করতে সক্ষম হবে.ঘটনার সময়কার পত্রিকার খবর,প্রতিবেদন,ছবি,অভিযুক্তদের দম্ভোক্তি ইত্যাদি গ্রহনযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে.ন্যায়বিচারের স্বার্থে মৌলিক অধিকারের কিছু বিধানও অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না.১৯৭৩ সালের সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে সে ব্যবস্থ করা আছে. বিকল্প হিসেবে, সরকার চাইলে বা জনগন সরকারকে বাধ্য করতে পারলে,জাতিসংঘের সহায়তায় আন্তজার্তিক আইনের অধীনে আন্তজাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করেও অপরাধীদের বিচার করা সম্ভব-যেমনটি এখন করা হচ্ছে কম্বোডিয়ায়.
১৯৭৩ সালের আইনের অধীনে ট্রাইব্যুনাল গঠন বা জাতিসংঘের সহায়তায় আন্তজাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের ক্ষেত্রে সরকারকেই মুখ্য উদ্যেগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার মাধ্যমেও বিচার অসস্ভব নয়,যদিও তা হবে জটিল ও দীর্ঘ. আন্তজাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে(গণহত্যা,যুদ্ধাপরাধ)সর্বজনীন এখতিয়ারের মাধ্যমে যেকোনো রাষ্ট্রের আদালতেই বিচার চাওয়া যায়.
বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের কৃতকর্মের (প্রায়) সকল বা বেশ কিছু প্রমাণ আছে..তা দিয়েই খুব সহজে তাদের বিচার করা যাবে...কিন্তু প্রশ্ন হল বিচার করবে কে বা কারা??? সরাকার যদি করবে বলে আশা করি তাহলে তা হবে মস্ত বড় ভুল কেন যদি তা হতো তাহলে অনেক আগেই তাদের বিচার হয়ে যেত..হয়নি কারণ বাংলাদেশের সব প্রাশসিক স্তর বা কাটামোয় তাদের লোক আছে....এখন প্রশ্ন হচ্ছে ওদের বিচার করবে কে????কখন করবে????? এই সব প্রশ্নের উত্তর আজও পাইনি....তবে এখনও আশা ছাড়িনি......ঘৃণা সেই সব বেজন্মা রাজাকার ও জামায়ত ও ছাত্রশিবিরের প্রতি..সবগুলো বেজন্মা.
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Pongta-lyricist (১৩-০৭-২০০৮ ২০:০৮)

অফলাইন
ধ্রুবক অন্ধকার, দৈব রাজপথে আমার চিহ্ন, আমি নৈশ ঈশ্বর যেন আরেক ধ্রুবতার জন্ম.৭২ সালের মামলা পুনরুজ্জীবিত করেই যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীর বিচার সম্ভব
একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনীর কুখ্যাত দোসর, রাজাকার, খুন, অগি্নসংযোগ, লুটতরাজসহ নানা অপকর্মের চার্জশিটভুক্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালে যে ৬টি মামলা হয়েছিল সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করেই তার দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মির ব্যবস্থা করা সম্ভব৷ চট্টগ্রাম ও রাউজানে সাকা চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হানাদার সৈন্যরা যাদেরকে নির্মমভাবে খুন করেছিল সেই সব শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঐসব মামলার পুনরুজ্জীবন ও তার [font=SolaimanLipi] বিচারের দাবি উঠেছে৷ দুরনীর্তির দায়ে গত ৪ ফেব্রচ্ছারি সাকা চৌধুরীর গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানায় বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজির মামলাও হয়েছে৷ উল্লেখ্য, একাত্তরে সাকা চৌধুরীদের হাতে নিহত শহীদ নূতনচন্দ্র সিংহের আজ ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী৷
শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলছেন, যেহেতু বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে একাত্তরের রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে, তাই সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত সাকা চৌধুরীর কেন বিচার হবে না? সরকার যদি আনত্মরিকতার সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করে তাহলে একাত্তরের শহীদদের আত্মা কিছুটা হলেও শানত্মি পাবে৷ উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা বাংলাদেশেই একক পরিবার হিসেবে সবচেয়ে বেশি নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছিল তত্<>কালীন কনভেনশন মুসলিম লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর পরিবার৷ এই ফকা চৌধুরীর পুত্র সাকা চৌধুরীই সে সময় পাকবাহিনীর সহায়তায় তার অন্য অনুচরদের নিয়ে সমগ্র রাউজান ও চট্টগ্রাম শহরে ভয়াবহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল৷
১৯৮৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কতৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিল পত্র’ বইতেও ফকা চৌধুরী ও সাকা চৌধুরীর হত্যা, নির্যাতন, লুটতরাজসহ নানা অপকর্মের বিবরণ দিয়ে তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ রাউজানে ও চট্টগ্রাম শহরের রহমতগঞ্জের ‘গুডস হিলে’ তারা রীতিমতো কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বসিয়ে গেস্টাপো কায়দায় নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে বাঙালিদের খুন করেছে৷ তাদের হাতে সে সময় শহীদ হয়েছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকে৷ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে রাউজান থানাতেই ফকা চৌধুরী, সাকা চৌধুরীসহ অন্যদেরকে আসামি করে ৬টি মামলা হয়েছিল৷ মামলাগুলো হলো ৪১(১)৭২, ৪(৩)৭২, ৯(৩)৭২, ১৮(৪)৭২, ৪(৪)৭২ ও ৫(৪)৭২৷ এসব মামলার তদনত্ম শেষে ফকা চৌধুরী ও সাকা চৌধুরীসহ অন্যদেরকে আসামি করে চার্জশিটও দেওয়া
কিনা পরবর্তী সময়ে এসব মামলার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করে (পিটিশন নং-৩৬৫/৭৩) মামলাগুলো হাইকোর্টে স্থানানত্মর করা হয় সাকা চৌধুরীদের পক্ষ থেকে৷
১৯৯৮ সালের ১৫ জুন এসব মামলা পুনরুজ্জীবিত করে পুনঃতদন্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে৷ সে সময় চট্টগ্রাম জোনের সিআইডির সিনিয়র এএসপি কাদের খান মামলার তদনত্ম কাজ চালাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে আর তদনত্মকাজে অগ্রসর হতে পারেননি৷ ১৯৮৭ সালে মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়’ বইটিতে লেখা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল পাকিসত্মানি হানাদার সেনাদের নিয়ে সাকা চৌধুরী রাউজানের কুণ্ডেশরী ভবনে যান৷ পাকসেনারা কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়, কুন্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয় ও কুন্ডেশ্বরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহের সঙ্গে কথা বলে প্রথমে চলে আসে৷ তখন সাকা চৌধুরী পাকসেনাদের বলেন যে, তার বাবার আদেশ আছে মালাউন নূতন চন্দ্র সিংহ ও তার ছেলেদেরে মেরে ফেলার জন্য৷’
এরপর কুণ্ডেশ্বরী মন্দিরের সামনে প্রার্থনারত শিক্ষানুরাগী নূতন চন্দ্র সিংহকে সাকা চৌধুরী টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসেন৷ প্রথমে ট্যাংকের গোলার আঘাতে বিদ্যামন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ এরপর পাকবাহিনীর মেজর নূতন চন্দ্র সিংহকে ৩টি গুলি করেন৷ নূতন চন্দ্র সিংহ মাটিতে পড়ে গেলে সাকা চৌধুরী তার রিভলভার দিয়ে আরো ৩টি গুলি করেন নূতন চন্দ্র সিংহকে৷’
রাউজানে বিভিন্ন শহীদ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সেদিনই সাকা চৌধুরী পাকবাহিনী ও তার সহচরদের নিয়ে গহিরা বিশ্বাস বাড়ি, উত্তর সর্তা, সুলতানপুর জগত্<> মল্লপাড়া এলাকায় কমপক্ষে ৪৭ জনকে নির্মমভাবে খুন করেছে৷ একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে শুধুমাত্র রাউজানেই কমপক্ষে ৩০০ হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোককে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে ফকা চৌধুরী, সাকা চৌধুরীদের প্ররোচনায় ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকবাহিনী ও তাদের সহচরদের হাতে৷ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহের পুত্র সত্যরঞ্জন সিংহ বাদী হয়ে রাউজান থানায় ফকা চৌধুরী, সাকা চৌধুরীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন৷ এভাবে আরো ৫টি মামলা দায়ের করেছিলেন বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্যরা৷ কিনা’ স্বাধীনতার ৩৬ বছর পার হয়ে গেলেন আজ পর্যনত্ম এসব নির্মম হত্যাকাণ্ড ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ও নির্যাতনের কোনো বিচার পাননি শহীদ পরিবারের সদস্যরা৷
শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহের পুত্র ও কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের বর্তমান কর্ণধার লায়ন প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহের সঙ্গে গত ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্<>কালীন শিক্ষক সৈয়দ আলী আহসান, ড. এ আর মলি্লক (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য, অধ্যাপক আনিসুজ্জামানসহ প্রায় ৪৭ জন অধ্যাপক সস্ত্রীক আমাদের কুণ্ডেশ্বরী ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন৷ তারাসহ আমরা বাবাকে বারবার অনুরোধ করেছিলাম আমাদের সঙ্গে ভারতে চলে যাওয়ার জন্য৷ কিন\’ বাবা বলেছিলেন, ‘আমি তো কারো ক্ষতি করিনি, আমি ‘কুণ্ডেশ্বরী মা’ ফেলে কোথাও যাবো না৷ মরতে হলে এই মাটিতেই মরবো৷’ শেষ পর্যনত্ম বাবাকে এই মাটিতেই শহীদ হতে হলো৷
তার পিতার হত্যামামলার কি অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতোটুকু জানি মামলার চার্জশিটও হয়েছিল৷ কিনা’ আসামিপক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করে মামলার ডকেট সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ শুনেছি হাইকোর্ট থেকেও নাকি সে সব মামলার নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না৷ গায়েব করে ফেলা হয়েছে বলে শুনেছি৷ তাছাড়া পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকাতে আমরা মামলা নিয়ে আর অগ্রসর হতে পারিনি৷
আজ শুক্রবার শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যামন্দির প্রাঙ্গণে নূতন চন্দ্র সিংহের ৩৬তম মৃতু্যবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা ও শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ স্মৃতি বৃত্তি প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে৷
শুধু রাউজানের গহিয়াতে কুণ্ডেশ্বরীতে নয়, ঊনসত্তর পাড়াসহ পুরো রাউজান থানা এলাকাতেই ১৯৭১ সালে ফকা চৌধুরী ও তার পুত্র সাকা চৌধুরীর নেতৃত্বে পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর বাহিনী খুন, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ, লুটতরাজ ও নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল৷ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাকা চৌধুরী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে পলাতক ছিলেন৷ পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন৷ মুসলিম লীগ, জাতীয় পার্টি, এনডিপি হয়ে পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বেশ কয়েকবার এমপি, মন্ত্রী হয়েছেন, বিগত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে মন্ত্রীর মর্যাদায় সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাও নিয়োগ করেন৷ বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গত ৪ ফেব্রচ্ছারি সাকা চৌধুরীকে ঢাকা থেকে যৌথবাহিনী গ্রেপ্তার করে৷

অফলাইন
৭২ সালের মামলা পুনরুজ্জীবিত করেই যুদ্ধাপরাধী বিচার সম্ভব?
অফলাইন