পড়ছি রহস্যপত্রিকাকদিন ধরে আমাকে সিরত বাংলাদেশী স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ক্লাস নিতে হচ্ছে। প্রথমেই বলে রাখি, এখানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু যে বাংলা স্কুলটি আছে, তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ছাত্রছাত্রী সংখ্যা মাত্র সাতাশ। পুরো শহরটিতে বাংলাদেশীদের সংখ্যা এতই কম যে তাদের মধ্যে স্কুল চালানোর মতো শিক্ষিত বাংলাদেশী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই আমরা সদ্য ম্যাট্রিক বা ইন্টার পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা কোন রকমে স্কুলটাকে চালিয়ে নিচ্ছি। এর আগে আমাকে শুধু হাই স্কুলের ক্লাসগুলোই নিতে হতো। তবে এখন হাইস্কুলের ক্লাস নেওয়ার মতো শিক্ষক বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাকে সেখান থেকে দুটো ছেড়ে প্রাইমারীর দুটো ক্লাস নিতে হচ্ছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে তৃতীয় শ্রেণীর ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র।
এখানে তৃতীয় শ্রেণীতে ছাত্রছাত্রী তিনজন। তিনজনের গ্রামার বই তিন রকম। গত এক সপ্তাহ ধরে এই তিন বইয়ের শোচনীয় অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে করতে আমার মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। কোন দেশের পাঠ্য বইয়ে যে এত ভুল থাকা সম্ভব, সেটা আমি এই বই তিনটা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। অবস্থা এরকম যে, এই বইগুলোর যেকোন একটা হাতে নিয়ে তার মধ্য থেকে যেকোন একটি পাতা বের করে দিলে সেখান থেকে যেকোন ধরনের কমপক্ষে একটা ভুল বের করতে পারার সম্ভাবনা শতকরা নব্বই ভাগ।
বই তিনটাতেই প্রতিটা বিষয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে - "যে সকল" Word অমুক অমুক ধরনের অর্থ প্রকাশ করে, "তাকে" তমুক বলা হয়। যদি একটা বিষয়কে বাক্যের প্রথমে "যে সকল" বহুবচন দ্বারা সূচিত করা হয়, তবে বাক্যের শেষে সেটা কিভাবে "তাকে" একবচন হয়ে যায়, সেটা আমার বোধগম্য নয়। এই গতকালের কথা - পলি Vowel এর সংজ্ঞা লিখে এনেছে, "যে সকল Letter অন্য কোন Letter এর সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে উচ্চারিত হতে পারে অন্যকে উচ্চারিত হতে সাহায্য করে তাকে Vowel বলে।" উল্লেখ্য, বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে "এবং" বা "ও" তো দূরের কথা, একটা কমা পর্যন্ত নেই। এই না হলে আর ভাষার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা!
বইগুলোর লেখকরা একেকজন তাদের নামের পরে ইংরেজি অদ্যাক্ষরের কোনটি লাগাতে আর বাকি রাখেন নি। একেক জন বি.এ, বি.এড, এম.এ, বি.এড - অথচ তাদের লেখা বইয়ের এ অবস্থা। এরা কি আসলেই লেখক? শিক্ষক? অধ্যাপক? এরকম ভুলে ভরা বইগুলো প্রকাশিত হয় কি করে? এগুলো প্রকাশ করার আগে কি কোথাও থেকে এগুলোর মান যাচাই করার কোন ব্যবস্থা থাকে না? আর প্রকাশ যদিও বা হয়, এগুলো স্কুলের পাঠ্য হওয়ার অনুমতি পায় কি করে?
অফলাইন
এ বইগুলো আপনি কিংবা আমিও ছোট বেলায় পড়েছি। কিন্তু এখন আপনার ভুল মনে হচ্ছে এর কারণ এখন আপনি প্রকৃতটা জানেন। তবে অনেকে আছে এগুলোর প্রকৃত টা জানে না। আপনি বইগুলোর নাম বললে মন্তব্য করা সহজ হত। কারণ আমি দেখেছি আমাদের দেশে গ্রাম গুলোতে এক রকম গ্রামার বই চলে, আবার শহরে আর এক রকম। এবং দুটো বইয়ের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকে। কিছু লেখক আছেন যারা তাদের জুনিয়র ছাত্রদের দিয়ে লেখান। আমি দেখেছি অনেক বই লেখকরা না লিখে তাদের ছাত্রদের দিয়ে লেখায়।
। যা সত্যিই কল্পনার বাইরে।
অফলাইন
যুদ্ধের কী দরকার!সামিউল ভাইয়ের সাথে সহমত ... প্রথমত... নামটাকে কিছূ পয়সার বিনিময়ে ব্যবহার করা হয় - মূল লেখক ঐরকমই।
আর এম.এ. বি.এড.দেরও তাঁদের অর্জিত(!) ডিগ্রীর প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই।
অফলাইন