
বাংলা সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে ও লেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই 'হলন্ত শব্দ' এবং হসন্তের ব্যবহার জানতে হবে। আলোচনার প্রথমেই 'হসন্ত' নিয়ে বলি। কথা হলো হস্ (্ ) চিহ্নটা আসলে কি? কেন দেই আমরা এটি? অনেকে তো দিব্যি এই 'হসন্ত (্ ) ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সঠিক উচ্চারনের জন্য হসন্ত অত্যাবশ্যকীয় একটি চিহ্ন। চলুন হসন্তকে আরেকটু জানি...
বাংলা ভাষায় 'া' 'ি' 'ী' এর মতই একটি চিহ্ন এই হসন্ত (্ )। এটি কেন ব্যবহার করা হয় তা জানার আগে আরো কিছু কথা বলে নিতে হচ্ছে-
আমরা অনেকেই লক্ষ করি না যে বাংলা ব্যঞ্জন বর্ণের ভেতরে আসলে একটি করে স্বর বর্ণ লুকিয়ে থাকে। উদাহরণ দেই-
ক = (ক + অ) (উচ্চারণ: কঅঅ)
খ = (খ + অ) (উচ্চারণ: খঅঅ)
.....
.....
জ = (জ + অ) (উচ্চারণ: জঅঅ)
কিন্তু আমরা যদি ব্যঞ্জন বর্ণের উপর থেকে স্বরবর্ণের এই প্রভাবটা মুক্ত করতে চাই তাহলে আমাদেরকে যে চিহ্নটি ব্যবহার করতে হবে সেটিই 'হসন্ত' (্ )। মানে যে ব্যঞ্জন বর্ণের সাথে 'হসন্ত' থাকবে সেগুলোতে স্বরবর্ণ (আ-কার, ই-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার ইত্যাদি) যুক্ত হবে না। 
বলতে পারেন হসন্তের সাথে স্বরবর্ণের জন্মের আড়ি।
তবে আবার লক্ষ করুন অনেক বাংলা শব্দের শেষে এই অ যুক্ত ব্যঞ্জন বর্ণ থাকা স্বত্বেও আমরা এদেরকে সেভাবে উচ্চারণ করি না।
উদাহরণ স্বরুপ:
'কাজ' : উচ্চারণ = কাজ্ (হওয়ার কথা ছিলো 'কাজঅঅ')
'তল' : উচ্চারণ = তল্ (হওয়ার কথা ছিলো 'তলঅঅ')
'যোগাসন', 'আসমুদ্রহিমাচল' ইত্যাদি ইত্যাদি।
ধরে নেয়া যেতে পারে বাংলা ভাষায় শব্দের শেষ ব্যঞ্জন বর্ণকে অ-কারন্ত (অ যুক্ত) করা হবে না। কিন্তু সমস্যাটা অন্য যায়গায়। আমরা যদি ধরেই নিয়ে থাকি যে আমরা কোন শব্দের শেষেই আর স্বরবর্ণ ব্যবহার করবো না তাহলেও হয় না। কারন, 'কাজ', 'তল', 'অস্তাচল' এর স্বর বর্ণকে উচ্চারন না করলেও আমরা ঠিকই 'রুঢ় = রুঢ়অঅ', 'তব = তবঅঅ', 'অসম = অসমঅঅ', 'কল্পিত = কল্পিতঅঅ' উচ্চারন করে যাচ্ছি। যদিও এই শব্দগুলোর সংখ্যা খুব বেশী নয়। সুতরাং যেসব শব্দের শেষে ব্যঞ্জন বর্ণ আছে কিন্তু স্বরবর্ণের প্রভাব থাকছে না সেগুলো সম্পর্কে আরেকটি জানতে হবে।
বাংলা ভাষার যেসকল শব্দের শেষের ব্যঞ্জন বর্ণের সাথে স্বরবর্ণটি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে 'হলন্ত শব্দ' বলা হয়। এক কথায় যে শব্দ আমরা উচ্চারণে অ-কারান্ত করি না, তাদেরকে 'হলন্ত শব্দ' বলে।
তাহলে প্রশ্ন জাগে 'হসন্ত' বেটা কোথায় গিয়ে পন্ডিতি করবে? ধরুন আপনি একটি শব্দের মাঝখানের একটি ব্যঞ্জন বর্ণকে অ-কারন্ত করতে চান না.. কি করবেন? হ্যা, ঠিক তখনই একটা হসন্ত যুক্ত করে দিবেন।
উদাহরণ দেখুন:
'কাগ্জি লেবু', 'বাক্সো', 'টিক্চিহ্ন' ইত্যাদি।
পুরো আলোচনার সংক্ষিপ্ত রুপ:
- ব্যঞ্জন বর্ণের ভেতরে একটি 'অ' স্বরধ্বনি লুকিয়ে থাকে
- এই 'অ' ধ্বনি মুক্ত করতে 'হসন্ত' ব্যবহার করা হয়
- যে শব্দ আমরা হসন্ত ছাড়াই উচ্চারনে অ-কারান্ত করি না, তাদেরকে 'হলন্ত শব্দ' বলে
- শব্দের ভেতরের কোন ব্যঞ্জন বর্ণ থেকে 'অ' ধ্বনি দুর করার জন্য 'হসন্ত' ব্যবহৃত হয়
...(চলবে)...
(অল্প কথায় বলতে গিয়ে সম্ভবত বিষয়টি ঠিক পরিষ্কার হলো না। কেউ বুঝতে না পারলে পরের পর্বের শুরুতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরেকটু বলা যেতে পারে।)
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন TRIVUz (১২-১১-২০০৭ ০৭:৫৮)
অফলাইন
আমি পথিক হব...
ত্রিভুজ। হলন্ত শব্দ বলে যে কিছু আছে এই প্রথম জানলাম! আরও পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম..
অ.ট. আপনার নামটা কি বাংলায় করা যায় না?
অফলাইন
উদাসীন লিখেছেন:
ত্রিভুজ। হলন্ত শব্দ বলে যে কিছু আছে এই প্রথম জানলাম! আরও পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম..
অ.ট. আপনার নামটা কি বাংলায় করা যায় না?
আমিও এই প্রথম শুনলাম।
স্কুলে থাকা অবস্থায় তো স্যারেরা বাংলা ব্যাকরণ পড়িয়েছিলেন। কিন্তু হলন্ত নামে কিছু কখনো শুনি নাই। তাহলে কি স্যারেরা আমাদের পাড়ায়নি নাকি আমিই মিস করেছিলাম!!
ধন্যবাদ ত্রিভূজ।
অফলাইন
উদাসীন লিখেছেন:
আপনার নামটা কি বাংলায় করা যায় না?
দু:খিত উদাসীন, নামটা বাংলা করতে চাচ্ছি না। এটা ঠিক এবাবেই অনেক বছর ধরে ব্যবহার করছি। একটা ব্রান্ডিং হয়ে গিয়েছে বলা যায়... 
আরেকটা ব্যপার হচ্ছে আমি সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনে বিশ্বাসী নই। ১০০% বাংলা ওয়েব সাইট কোথাও পাবেন? কিছু না হলেও সাইট লিংকটা আমাদের ইংরেজীতেই টাইপ করতে হয়। যেদিন এটাও বাংলায় হবে সেদিন আমি স্বর্বস্তরে বাংলায় বিশ্বাসী হবো 
সুমন লিখেছেন:
আমিও এই প্রথম শুনলাম।
স্কুলে থাকা অবস্থায় তো স্যারেরা বাংলা ব্যাকরণ পড়িয়েছিলেন। কিন্তু হলন্ত নামে কিছু কখনো শুনি নাই। তাহলে কি স্যারেরা আমাদের পাড়ায়নি নাকি আমিই মিস করেছিলাম!!
আমারো মনে পড়ে না কোন টিচার কোনদিন এগুলো পড়িয়েছিলেন।
ধন্যবাদ//
অফলাইন
নবম ও দশম শ্রেণীর জন্য বোর্ড থেকে একটি বাংলা ব্যকরণ বই সরবরাহ করা হয়। ঐ বইটির লেখকদের মধ্যে একজন হচ্ছে মূনীর চৌধুরী। অন্যান্য লেখকগণও তাঁর মতই বিখ্যাত। তবে এখন নাম মনে পড়ছে না।
বেশিরভাগ স্কুলেই ঐ বইটি পড়ানো হয় না। পড়ানো হয় অন্য বই যেখান থেকে স্খুল কমিশন পেয়ে থাকে।
সেটি একটি অসাধারণ বই। কোন বেশি কথা নেই। অনেকটা ম্যানুয়াল টাইপের। আমি জানিনা সেখানে হলন্ত শব্দ আছে কিনা।
তবে বইটি যদি সব স্কুলে পড়ানো হত, বাংলা ব্যকরণে আমাদের এমন অবস্থা হতনা।
MCQ আসার পরে ছাত্ররা অবজেক্টিভ গাইড পড়া শুরু করে। আর যেহেতু ব্যকরণ হতে শুধু মাত্র অবজেক্টভই পরীক্ষায় আসতো তাই কেউ আর বইটি পড়ার প্রয়োজনবোধ করত না। বইটি obsolete এর পর্যায় চলে যায়। ষদিও এখনও বাজারে পাওয়া যায়।
আমি নিজে এই বই পড়ে অবজেক্টিভ পরীক্ষা দিয়েছি। এর জন্য কোন অবজেক্টিভ গাইড পড়িনি।
আমি মনে করি, এটা আমাদের ব্যকরণ না জানার একটা মূল কারণ।
ত্রিভুজ ভাইকে ধন্যবাদ হলন্ত শব্দ বোঝানোর জন্য।
আচ্ছা, আপনার বইটা কি সবসময় ল্যাপটপের উপরেই থাকে? আর আমরা কি প্রতিবার একই ছবি দেখব? নাকি এটা আপনার ই-বুকের প্রচ্ছদ?
চালিয়ে যান ![]()
অফলাইন
শিপলু লিখেছেন:
আচ্ছা, আপনার বইটা কি সবসময় ল্যাপটপের উপরেই থাকে? আর আমরা কি প্রতিবার একই ছবি দেখব? নাকি এটা আপনার ই-বুকের প্রচ্ছদ?
হা হা হা... নাহ, এটা আসলে এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। প্রথমত আমি 'যথাশব্দ' নামের ঐ বইটার উপরে কৃতজ্ঞ.. দ্বিতীয়ত আমার কম্পিউটারের উপরে। সত্যি কথা বলতে কি কম্পিউটারে বাংলা লিখতে গেলে ধরা পরে আমরা বাংলা লেখায় কত ভুল করি। এমনি কিন্তু খুব একটা চোখে পড়ে না। অন্তত আমার বেলায়....
আর আপনি সত্যি বলেছেন.. আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদেরকে বাংলা শেখাতে পারেনি... দায়টা পুরো জাতির!
ধন্যবাদ আপনাকে।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন TRIVUz (১২-১১-২০০৭ ১৮:০৯)
অফলাইন
আমি পথিক হব...TRIVUz লিখেছেন:
উদাসীন লিখেছেন:
আপনার নামটা কি বাংলায় করা যায় না?
দু:খিত উদাসীন, নামটা বাংলা করতে চাচ্ছি না। এটা ঠিক এবাবেই অনেক বছর ধরে ব্যবহার করছি। একটা ব্রান্ডিং হয়ে গিয়েছে বলা যায়...
আরেকটা ব্যপার হচ্ছে আমি সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনে বিশ্বাসী নই। ১০০% বাংলা ওয়েব সাইট কোথাও পাবেন? কিছু না হলেও সাইট লিংকটা আমাদের ইংরেজীতেই টাইপ করতে হয়। যেদিন এটাও বাংলায় হবে সেদিন আমি স্বর্বস্তরে বাংলায় বিশ্বাসী হবো
ধন্যবাদ//
ওহ! তাহলে ঠিক আছে। কিছু জিনিসের অবশ্য বাংলা না করাই উচিৎ! তবে ত্রিভুজ নামটাও কিন্তু দেখতে খারাপ লাগছে না।
অফলাইন
মু হা হাTRIVUz লিখেছেন:
আরেকটা ব্যপার হচ্ছে আমি সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনে বিশ্বাসী নই। ১০০% বাংলা ওয়েব সাইট কোথাও পাবেন? কিছু না হলেও সাইট লিংকটা আমাদের ইংরেজীতেই টাইপ করতে হয়। যেদিন এটাও বাংলায় হবে সেদিন আমি স্বর্বস্তরে বাংলায় বিশ্বাসী হবো
ধন্যবাদ//
ত্রিভুজ সাইট নেম কিন্তু বাংলাতে চালু হয়েছে।
বাংলাদেশ.com এটা ব্রাউজারে দিয়ে দেখুন। তবে বাংলা ইউনিকোডকে পানিকোড না কি যেন একটা এনকোডিং এ নিয়ে এটা করা হয়েছে।
অফলাইন