এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী। এঁরা সবাই মেধাবী, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে লেখাপড়া করতে পারেননি। অনেকে আছেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ছেলেমেয়ে। আবার এঁদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের ঘরে দুই বেলা খাবার পর্যন্ত জোটে না। তাঁরা যে পরিস্থিতিতে লেখাপড়া করে জিপিএ-৫ পেয়ে সেরা শিক্ষার্থীর তালিকায় উঠে এসেছেন, সে এক বিস্নয়। সেসব বিস্নয়কর কাহিনী তুলে এনেছেন আমাদের প্রতিনিধিরা:
রাখাল বালক ডাবলু: পিতৃহীন ডাবলু মাত্র আট বছর বয়সে অভাবের কারণে স্কুল ছেড়ে অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ নেন। তবে গৃহস্বামী ছেলেটার
পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ দেখে কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাঁকে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তখন থেকেই কখনো রাখাল, কখনো কামলা হিসেবে পরের বাড়িতে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন ডাবলু। সেই রাখাল বালক ডাবলু লস্কর এবার যশোর বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।
ডাবলুদের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার জিতড় গ্রামে। ডাবলুর বাবা ভুপেন্দ্রনাথ লস্কর প্রায় ১৫ বছর আগে মারা যান। মা সুন্দরী রানী লস্কর চার বছরের একমাত্র সন্তান ডাবলুকে কোলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বেঙ্গা-বেরুইল গ্রামে বাবার বাড়ি চলে যান। সেখানে দুই বছর থাকার পর আবারও স্বামীর গ্রামে ফিরে এক বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন। ডাবলুকেও ওই বাড়িতে রাখাল হিসেবে রাখেন। রাখালির ফাঁকে ফাঁকে গৃহকর্তার কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়ে ডাবলু পড়ালেখা চালাতে থাকেন। এভাবে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর একপর্যায়ে তাঁর স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়। তবে স্কুলের শিক্ষকেরা ডাবলুর মেধার পরিচয় পেয়ে তাঁকে বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।
ওদিকে ডাবলু যখন পড়ালেখা ছেড়ে মনিবের বাড়িতে পুরোপুরি কামলার কাজে নেমে গেছেন, তখন বৃত্তি পরীক্ষার ফল বেরোয় এবং তিনি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। খবর শুনে পার্শ্ববর্তী টিকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিত্য গোপাল সিকদার ছুটে আসেন। তিনি ডাবলুর পড়ালেখার জন্য গৃহস্বামী বীরেন্দ্রনাথের কাছ থেকে কিছুটা সময় চেয়ে একরকম জোর করেই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। ওই বাড়ি থেকে ডাবলু এভাবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। এর পর চলে আসেন শিক্ষক সুর্যকান্ত বিশ্বাসের বাড়িতে। সেখানে থেকে ওই বাড়ির কাজকর্ম সেরে বাকি সময় পড়ালেখা করে ডাবলু এসএসসিতে জিপিএ-৪.৮১ পান।
এবার ছেলেটার ঠাঁই মেলে প্রতিবেশী দাদা সমীরণ লস্করের বাড়িতে। সেখানে মাঠে গরু-ছাগল দেখাশুনার পাশাপাশি নারিকেলবাড়িয়া কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা শুরু করেন এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি অসহায় ছেলেটাকে সহযোগিতা করার। সে ভালো ফল করে সেটার মূল্য রেখেছে।’
জলিরই জয় হলো: গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে গ্রামপুলিশের দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তরা জলির বাবা জলিলকে জবাই করে হত্যা করে। পরীক্ষার সামনে এমন ঘটনায় এলাকার সবাই ধরে নিয়েছিলেন, মেধাবী জলি হয়তো এবার ভালো ফল করতে পারবেন না। কিন্তু জলি ভেঙে পড়েননি। মায়ের দুঃখ ঘোচাতে তিনি পণ করেন পরীক্ষায় ভালো করার। তাঁর পণ বৃথা যায়নি। জয় হয়েছে জলির। এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। জলির বাড়ি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আইমাপুর গ্রামে।
ক্ষেতলাল ছাঈদ আলতাফুন্নেছা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী জলির পুরো নাম মুরশিদা পারভিন জলি।
জলির মা সাজেদা বেওয়া বলেন, তাঁর কোনো সহায়-সম্বল নেই। কোনো ছেলেও নেই। জলিই সব। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান তিনি। অন্যের দেওয়া জামাকাপড় পরে, কোনোদিন একমুঠো পান্তা খেয়ে, কোনোদিন না খেয়ে জলি কলেজে যেতেন। জিপিএ-৫ কী, তা তিনি ভালো বোঝেনও না। তবে সবার আলোচনায় তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মেয়ে ভালো ফল করেছে। ওই দিন কান্না লুকোতে পারেননি তিনি। স্নৃতিচারণা করে মা বলেন, ‘ক্ষেতলাল যুব উন্নয়ন অফিসের মণি আপা জলিকে দুই সেট কাপড় দিয়েছিলেন।’ কিন্তু এরপর মেয়েকে কীভাবে পড়াবেন, তিনি জানেন না।
জলি বলেন, ‘আমি বিজ্ঞান বিভাগে পড়েছি। এমনিতেই পড়ালেখার চাপ, তার ওপর বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়ি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। তবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
জলির কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাফিজার রহমান বলেন, ‘মেয়েটির পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ওর কাছ থেকে কলেজের বেতন, পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা নেওয়া হয়নি। ও ভালো ফল করে কলেজের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’
হাবিবুরের জন্য হাত পেতেছেন বাবা: ‘গরিবের জন্যে লেখা-পড়া নোওয়ায়। প্যাটত বাত জোগাড় কইরবার পারি না, ছোওয়াক পড়াব ক্যামন করি!’ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার আরাজি কুমোরপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে দিনমজুর শামসুল হক এভাবেই ছেলের এইচএসসির ফলাফল শুনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁর ছেলে মো. হাবিবুর রহমান এবার নাগেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
হাবিবুরের জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরে একদিকে যেমন খুশির বন্যা নেমে এসেছে, অন্যদিকে এসেছে দুশ্চিন্তা, ‘যে ছেলে প্রায় দিনই না খেয়ে কলেজ যেত, আধপেট খেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে, তার পক্ষে উচ্চশিক্ষা লাভ কীভাবে সম্ভব?’ হাবিবুরের বাবার এখন তাই আনন্দের চেয়ে দীর্ঘশ্বাসই বেশি।
নানা রোগ-ব্যাধিতে শীর্ণ শামসুল হক ঠিকমতো কাজও করতে পারেন না। দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকার থেকে বরাদ্দ ৫০০ টাকা ভাতাই সম্বল। ভিটাবাড়ির আট শতক জমি ছাড়া কোনো সহায়-সম্বলও নেই।
হাবিবুর জানান, তাঁর মনে আছে, পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াকালেই অনেক দিন তিনি না খেয়ে স্কুলে গেছেন। এরপরও পরীক্ষায় প্রথম হওয়ায় বাবা নাগেশ্বরী দয়াময়ী পাইলট একাডেমিতে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন তাঁকে। এসএসসিতে ৪.৭৫ পেলে বাবার উৎসাহ আরও বাড়ে। তাঁকে নাগেশ্বরী কলেজে ভর্তি করে দেন। কলেজে পড়ার সময়ও প্রায় দিনই তাঁকে না খেয়ে কলেজে যেতে হয়েছে। কলেজের শিক্ষকেরা বই কিনে দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বাবা নানা লোকের কাছে চেয়ে-চিন্তে জোগাড় করতেন পরীক্ষার ফিসহ বইপত্র কেনার টাকা। কলেজের শিক্ষক লুৎফর রহমান, কছিম উদ্দিন ও সফিকুল ইসলাম তাঁকে বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়িয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষও সহযোগিতা করেছেন।
বাবা শামসুল হক অকপটে বলেন, একরকম ভিক্ষে করেই ছেলেকে তিনি এত দুর পর্যন্ত এনেছেন। ভবিষ্যতে কী হবে, তা তিনি জানেন না।
৩৩ বছরে একজন শ্রাবণী: বিধবা চায়না রানী দাস ভেবেছিলেন, মেয়ে শ্রাবণী তো দেখতে-শুনতে ভালোই। এবার পরীক্ষার ফল বের হলে ভালো একটা ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দেবেন। টানাটানির সংসারে একটা বোঝা অন্তত কমবে। কিন্তু ফল বের হলে দেখা গেল, মেয়ে তাঁর জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ অবস্থায় কীভাবে মা তাঁর মেধাবী মেয়েটাকে বলবেন, ‘বিয়ের পিড়িতে বস!’ সুতরাং বিয়ের পরিকল্পনা বাদ। কিন্তু দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ে না। তিন সন্তান নিয়ে খেয়ে-না খেয়ে দিন চলে তাঁদের। সেই সংসারে উচ্চশিক্ষা বিলাসিতা ছাড়া আর কী?
শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছিলেন শ্রাবণী। ওঁদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা গ্রামে।
মা চায়না জানান, তাঁর স্বামী সাবেক ইউপি সদস্য শ্রীপতি দাস স্থানীয় মুনসুর আহম্মেদ চৌধুরীর জমি-জমা ও আমবাগান দেখা-শোনার (দফাদারের) কাজ করতেন। বছর তিনেক আগে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর মুনসুর আহমেদ চৌধুরী তিন বিঘা জমির ফসল ও ১৮ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন তাঁর হাতে। তা দিয়েই এ পর্যন্ত চলে আসছে সংসার। স্বল্পশিক্ষিত বড় ছেলে প্রমথ কুমার দাসও (২৩) বাড়িতে বেকার বসে আছেন। অন্য মেয়ে টুম্পারানী পড়ে নবম শ্রেণীতে।
কলেজের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন ও ইংরেজির সহকারী অধ্যাপক ন স ম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত ৩৩ বছরে এই কলেজে শ্রাবণীর মতো মেধাবী ছাত্রী আর একটিও আসেনি। কলেজে সে-ই প্রথম জিপিএ-৫ পেল। তাই তাঁকে নিয়ে আমাদের গর্বেরও শেষ নেই। কিন্তু শুধু অর্থের অভাবে তাঁর উচ্চশিক্ষা ব্যাহত হলে তা হবে বড়ই কষ্টের। আমরা ওর জন্য সবার কাছে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
কথা রেখেছেন জয়: সেই রিকশাচালক মনমোহনের ছেলে নারায়ণ চন্দ্র রায় জয় কথা রেখেছেন। তিনি এ বছর ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে প্রথম আলোয় খবর ছাপা হলে দেশের বহু মানুষ তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। জয় তখন সবাইকে কথা দিয়েছিলেন, দেশবাসীর সহযোগিতা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না এবং এইচএসসিতেও ভালো ফল করে দেখাবেন।
দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার খানসামা আঙ্গারপাড়া গ্রামে জয়দের বাড়ি। জমিজমা নেই। তাই বাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। জয়ের মা তরুবালা একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সহকারী পদে চাকরি করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে জয় বড়। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তিও পেয়েছিলেন তিনি।
মা তরুবালা জানান, জয়ের ইচ্ছা ডাক্তারি পড়ার। কিন্তু তাঁদের পক্ষে অত টাকা জোগাড় করা কীভাবে সম্ভব?
এলাকাবাসী জানায়, ২০০৫ সালে ‘জয়ের রিকশাচালক বাবা কী করে বুঝবেন জিপিএ-৫ কী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে সাড়া পড়ে। অনেকে ফোন করে প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতার হাত বাড়ান। এভাবে সবার সহযোগিতায় জয় নটর ডেম কলেজে ভর্তি হন।
জয় বলেন, ‘আমি বাবা-মাসহ দেশবাসী সবার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ। তাঁদের সহযোগিতার কারণেই আজ আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। এখন আমার লক্ষ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়া। আমাকে ডাক্তার হতেই হবে। এ জন্য আমি সবার দোয়া চাই, সহযোগিতা চাই। কেউ টিউশনি দিয়ে সহযোগিতা করলে আমার খুব উপকার হবে।’
ভাঙা ঘরে চান্দের আলো আরিফ: প্রথম থেকে দশম−সব শ্রেণীতেই প্রথম স্থান অর্জন করে এসেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হাসাডাঙ্গা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের ছেলে আরিফুল ইসলাম। এসএসসিতেও সে যে ভালো ফল করবে, তা সবাই নিশ্চিত ধরে নিয়েছিল। কিন্তু সেই নিশ্চিত ফলাফলটা হাতছাড়া হয়ে যায় কক্ষ পরিদর্শকের একটা ভুলে। ধর্ম বিষয়ের নৈর্বযক্তিকের পরীক্ষার সময় কক্ষ পরিদর্শক আরিফকে ভুল সেট সরবরাহ করেন। পরীক্ষা শুরুর ২৮ মিনিট পর পরিদর্শক সেটা বুঝতে পেরে পুনরায় তাঁকে নতুন সেট দেন। এ কারণে আরিফের গ্রেড পয়েন্ট হয় ৪.৯৪। তবে এবার এইচএসসিতে কেশবপুর কলেজ থেকে আরিফ বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, আরিফ শুধু পড়ালেখায়ই প্রথম নন, বিতর্কেও সমান পারদর্শী। ২০০৩ সালে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তিনি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান পান। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে তিনি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন।
সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান গোনেন। ঋণগ্রস্ত হয়ে তিনি একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারান। অগত্যা সংসারের হাল ধরেন আরিফুল। মা রিজিয়া পারভীনও অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। একসময় শহিদুল সুস্থ হন। কিন্তু তত দিনে ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ে পরিবারটি। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া ৬৬ হাজার টাকাও ঋণ রয়েছে আরিফদের। সপ্তাহে তাঁদেরকে এক হাজার ৭০০ টাকার কিস্তি দিতে হয়।
শহিদুল জানান, সর্বস্ব বিক্রি করে তিনি ছেলের লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছেন। সর্বশেষ ঢাকায় ছেলেকে কোচিং করানোর জন্য পাঁচ কাঠা জমি বন্ধক রেখে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। আরিফুলও সমানে টিউশনি করেছেন। লাইব্রেরিতে গিয়ে বই থেকে টুকে এনে নোট করে পড়েছেন। শিক্ষকেরা তাঁকে পড়িয়েছেন বিনা পয়সায়। বিশেষ করে কলেজের শিক্ষক এনামুল হক কাজল অভিভাবকের ভুমিকা পালন করেছেন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে আরিফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট দুটি চালাঘর। চালে অসংখ্য ছিদ্র। মা রিজিয়া বলেন, ‘আরিফ আমাদের ভাঙা ঘরে চান্দের আলো। ও প্রকৌশলী হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন।’
কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল বারী বলেন, আরিফুল অসাধারণ মেধাবী। ওর পরিবারের সঙ্গে আমরাও গর্বিত।
[এ প্রতিবেদনের জন্য তথ্য দিয়েছেন ঝিনাইদহের নিজস্ব প্রতিবেদক আজাদ রহমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি আজিজার রহমান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সফি খান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন দিলু, নীলফামারী প্রতিনিধি মীর মাহমুদুল হাসান আস্তাক ও কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি দীলিপ মোদক]
সূত্রঃ প্রথম আলো
কৃতজ্ঞতাঃএস এম মাহবুব মুর্শেদ, অরূপ কামাল

অফলাইন
যুদ্ধের কী দরকার!অসাধারণ খবরগুলো প্রজন্মের সকলকে জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ![]()
অফলাইন
তারা করবে জয়, তারা করবে জয় এক দিনননননননননন।
ওওওওও বুকের গভীরে তারা জানে, তারা করবে জয় এক দিন।
এ যুদ্ধে হারলে, জয় এর অপমান হয়। তাই হারতে নেই।
অফলাইন
এরাই দেশের ভবিষ্যত।
অফলাইন